যশোরের অভয়নগরে বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেনের (৩৮) বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। বর্তমানে অসুস্থ শিশুটিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের এইচডিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। অভিযুক্ত ইমরান হোসেন অভয়নগর উপজেলার বুইকারা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি প্রেমবাগ ইউনিয়নের বাহিরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ভুক্তভোগী শিশুর মা জানিয়েছেন, সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ক্লাস চলাকালে সহকারী শিক্ষক ইমরান হোসেন কৌশলে শিশুটিকে বিদ্যালয়ের ওয়াশরুমে নিয়ে ধর্ষণ করেন।
ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে শিশুটিকে বিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রস্তুতিকালে তার গোপনাঙ্গে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের নজরে এলে একপর্যায়ে তাদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায় শিশুটি। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার রাতেই তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক এসএম তৌহিদ হাসান জানান, মঙ্গলবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। পরে তাকে ভর্তি করে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আহসান কবীর বাপ্পি জানান, বুধবার শিশুটির চিকিৎসা-সংক্রান্ত পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে তাকে এইচডিইউতে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত। এদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। অভয়নগর থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান বলেন, শিশু ধর্ষণের অভিযোগ জানার পর ঘটনাস্থল ও ভুক্তভোগীর বাড়ি পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষক ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ সালাউদ্দীন দিপু বলেন, অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল।
পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
























