নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ঘুমন্ত এক ১৩ বছরের কিশোরীর গায়ে গরম পানি ঢেলে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় ওই কিশোরী জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও কান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রওশন আরার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী সোনিয়া আক্তার ও অন্যান্যদের জমিজমাসহ পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা প্রায়ই ভুক্তভোগী পরিবারকে খুন-জখমের হুমকি দিয়ে আসছিল। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে রওশন আরা ও তার পরিবারের লোকজন বাড়িতে ছিলেন না।
বাড়ি ফাকা থাকার সুযোগে অভিযুক্তরা কৌশলে রওশন আরার বসতঘরে প্রবেশ করে। এ সময় শয়নকক্ষের বিছানায় ঘুমিয়ে থাকা ১৩ বছরের শিশু কন্যা আফরিন আক্তারকে হত্যার উদ্দেশ্যে ১ নম্বর অভিযুক্ত সোনিয়া আক্তার তার গায়ে গরম পানি ছুড়ে মারে। এতে শিশুটির কোমরসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গিয়ে গুরুতর জখম হয়। শিশুর ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
পরে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে তাকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে ভর্তি করেন। মেয়ের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি জানিয়ে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী কিশোরীর মা রওশন আরা।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন, সোনিয়া আক্তার (৩৫), স্বামী: জাকির হোসেন; মো. মোস্তফা (৪৫), পিতা: মো. বিল্লাল; শিলা আক্তার (৪০), স্বামী: মো. মোস্তফা এবং জাকির হোসেন (৩৮), পিতা: রহম আলী; যাদের সকলের বাড়ি সোনারগাঁয়ের পিরোজপুর ইউনিয়নের মঙ্গলেরগাঁও কান্দাপাড়া এলাকায়। সোনারগাঁ থানার ওসি মহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা থানায় অভিযোগ করেছেন।
তদন্ত চলছে।






















