আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৭°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১২%

১৬ বছর ধরে বন্ধ থাকা জামালগঞ্জ স্টেশন চালুর উদ্যোগ রেলওয়ের

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:24:50 pm, Tuesday, 27 October 2026
  • 13

১৬ বছর ধরে বন্ধ থাকা জামালগঞ্জ স্টেশন চালুর উদ্যোগ রেলওয়ের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন চালু না থাকায় সংকটের বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। প্ল্যাটফর্মে ট্রেন না থামা, ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে ওঠানামা এবং বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয়—এসবই জামালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের বাস্তবতা।

প্রায় ১৬ বছর ধরে বন্ধ থাকা স্টেশনটির অপারেটিং কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগ। রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক চিঠিতে জামালগঞ্জ স্টেশন পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্টেশনটিতে স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যান পদায়নের কার্যক্রম চলছে।

তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্টেশনটির অবকাঠামো, সিগন্যালিং ও পরিচালনব্যবস্থা সচল করা প্রয়োজন। পাকশী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত ওই চিঠি অনুযায়ী, স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যানের ঘাটতির কারণে ২০১০ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে জামালগঞ্জ স্টেশনের অপারেটিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। একই চিঠিতে পাকশী বিভাগের ৫৬টি স্টেশনের অপারেটিং কার্যক্রম বন্ধ থাকার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্টেশনটির অপারেটিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও রেলপথে ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু যাত্রীসেবার প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন যাত্রীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন থেকে চার বছর ধরে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থামানো হয় না। পরিবর্তে প্ল্যাটফর্মবিহীন ২ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানোয় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হয়।

অনেক সময় নির্ধারিত স্থানে নামতে না পেরে পাশের স্টেশনে গিয়ে নামতে হয় তাদের। এতে সময় ও অর্থ-দুই-ই অপচয় হচ্ছে। ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও জামালগঞ্জ স্টেশনের গুরুত্ব রয়েছে। স্টেশন বন্ধ থাকার পেছনে জনবল সংকটের বিষয়টি সামনে আসায় রেলওয়ের কর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ রেলওয়ের এক স্টেশন মাস্টার বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে একই পদে কাজ করছি।

স্টেশনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ফিল্ডের কাজও করতে হয়। দেশে এত বেকার যুবক থাকার পরও রেলওয়েতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হচ্ছে না কেন? তিনি আরও বলেন, জনবল সংকটের কারণে জামালগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আর কত দিন এভাবে মানুষকে দুর্ভোগ সহ্য করতে হবে? দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে বন্ধ স্টেশনগুলো চালু করা এবং কর্মরত কর্মচারীদের অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানো জরুরি।

রেলওয়ের চিঠিতে জামালগঞ্জ স্টেশনের লুপ লাইন ফিটকরণ, সিগন্যালিং সরঞ্জাম কার্যকর করা এবং বৈদ্যুতিক ফিটিংস সচল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য পাকশী বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এবং বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, স্টেশন বন্ধ থাকায় ব্লক সেকশন দীর্ঘ হচ্ছে, যা ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা রক্ষায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

স্টেশনটি পুনরায় চালু হলে ট্রেনের ক্রসিং পরিচালনাসহ রেলওয়ের অপারেটিং কার্যক্রম আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ১৬ বছর পর জামালগঞ্জ স্টেশন চালুর উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তবে স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যান পদায়ন, অবকাঠামোগত সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা সচল করার কাজ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে চিঠিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

জামালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. হাসিবুল হাসান বিষয়টি রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করে বলেন, জামালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পুনরায় চালুর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জারি করা চিঠিটি আমিও দেখেছি। স্টেশনটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে যাত্রীরা মুক্তি পাবেন বলে আশা করছি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাতজনের মৃত্যু

১৬ বছর ধরে বন্ধ থাকা জামালগঞ্জ স্টেশন চালুর উদ্যোগ রেলওয়ের

Update Time : 03:24:50 pm, Tuesday, 27 October 2026

প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন চালু না থাকায় সংকটের বোঝা বইতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। প্ল্যাটফর্মে ট্রেন না থামা, ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনে ওঠানামা এবং বাড়তি সময় ও অর্থ ব্যয়—এসবই জামালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের বাস্তবতা।

প্রায় ১৬ বছর ধরে বন্ধ থাকা স্টেশনটির অপারেটিং কার্যক্রম পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের পাকশী বিভাগ। রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে গত ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক চিঠিতে জামালগঞ্জ স্টেশন পুনরায় চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগগুলোকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্টেশনটিতে স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যান পদায়নের কার্যক্রম চলছে।

তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় স্টেশনটির অবকাঠামো, সিগন্যালিং ও পরিচালনব্যবস্থা সচল করা প্রয়োজন। পাকশী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত ওই চিঠি অনুযায়ী, স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যানের ঘাটতির কারণে ২০১০ সালের ২৫ নভেম্বর থেকে জামালগঞ্জ স্টেশনের অপারেটিং কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। একই চিঠিতে পাকশী বিভাগের ৫৬টি স্টেশনের অপারেটিং কার্যক্রম বন্ধ থাকার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

স্টেশনটির অপারেটিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও রেলপথে ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু যাত্রীসেবার প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন যাত্রীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত তিন থেকে চার বছর ধরে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থামানো হয় না। পরিবর্তে প্ল্যাটফর্মবিহীন ২ নম্বর লাইনে ট্রেন থামানোয় নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীদের ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হয়।

অনেক সময় নির্ধারিত স্থানে নামতে না পেরে পাশের স্টেশনে গিয়ে নামতে হয় তাদের। এতে সময় ও অর্থ-দুই-ই অপচয় হচ্ছে। ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাছাকাছি হওয়ায় পর্যটকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও জামালগঞ্জ স্টেশনের গুরুত্ব রয়েছে। স্টেশন বন্ধ থাকার পেছনে জনবল সংকটের বিষয়টি সামনে আসায় রেলওয়ের কর্মীদের মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলাদেশ রেলওয়ের এক স্টেশন মাস্টার বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে একই পদে কাজ করছি।

স্টেশনের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ফিল্ডের কাজও করতে হয়। দেশে এত বেকার যুবক থাকার পরও রেলওয়েতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ হচ্ছে না কেন? তিনি আরও বলেন, জনবল সংকটের কারণে জামালগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেশনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আর কত দিন এভাবে মানুষকে দুর্ভোগ সহ্য করতে হবে? দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে বন্ধ স্টেশনগুলো চালু করা এবং কর্মরত কর্মচারীদের অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানো জরুরি।

রেলওয়ের চিঠিতে জামালগঞ্জ স্টেশনের লুপ লাইন ফিটকরণ, সিগন্যালিং সরঞ্জাম কার্যকর করা এবং বৈদ্যুতিক ফিটিংস সচল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য পাকশী বিভাগের বিভাগীয় প্রকৌশলী-২, বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী এবং বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, স্টেশন বন্ধ থাকায় ব্লক সেকশন দীর্ঘ হচ্ছে, যা ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা রক্ষায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

স্টেশনটি পুনরায় চালু হলে ট্রেনের ক্রসিং পরিচালনাসহ রেলওয়ের অপারেটিং কার্যক্রম আরও সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ১৬ বছর পর জামালগঞ্জ স্টেশন চালুর উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। তবে স্টেশন মাস্টার ও পয়েন্টসম্যান পদায়ন, অবকাঠামোগত সংস্কার এবং প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা সচল করার কাজ কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে চিঠিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।

জামালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. হাসিবুল হাসান বিষয়টি রূপালী বাংলাদেশকে নিশ্চিত করে বলেন, জামালগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পুনরায় চালুর রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জারি করা চিঠিটি আমিও দেখেছি। স্টেশনটি চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে যাত্রীরা মুক্তি পাবেন বলে আশা করছি।