আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৯%

ভাঙনের শঙ্কা নিয়েই শেষ হলো অলহরী ব্রিজ-আমলীতলা সড়ক নির্মাণকাজ

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:47:21 am, Tuesday, 27 October 2026
  • 18

ভাঙনের শঙ্কা নিয়েই শেষ হলো অলহরী ব্রিজ-আমলীতলা সড়ক নির্মাণকাজ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার অলহরী ব্রিজ-আমলীতলা বাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নকাজ ভাঙনের ঝুঁকি নিয়েই সমাপ্ত হয়েছে। মাওলানা জামাল উদ্দিনের বাড়িসংলগ্ন একটি অংশে নদীভাঙনের ঝুঁকি থাকায় সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত বর্ষা মৌসুমেই ওই অংশের প্রায় পাঁচ ফুট নদীতে বিলীন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়াই সড়ক নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। তবে নদীসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সুরক্ষাব্যবস্থার দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় নতুন সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সড়কের প্রান্ত থেকে মাত্র এক থেকে দেড় ফুট দূরত্বে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় ১০-১৫ মিটার এলাকাজুড়ে মাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে সড়কের একাংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক নির্মাণের শুরুতে ওই অংশের পাশের জমির মালিকের কাছে উপজেলা প্রকৌশলী কয়েক ফুট জমি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

সড়কের কাজের স্বার্থে জমির মালিকরা জায়গা ছেড়ে দেন। এ সময় নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানান স্থানীয়রা। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দা এবিএস কামাল আহমেদ বলেন, রাস্তার কাজ শুরুর সময় উপজেলা প্রকৌশলী অনুরোধ করে বলছিলেন, কিছুটা জায়গা ছাড়েন, না হলে রাস্তার কাজ শুরু করা সম্ভব না।

আমরা তার অনুরোধে কয়েক ফুট জায়গা ছেড়ে দেই। এ সময় ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, অনেক দিনের দাবির পর সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে নদীভাঙনের কারণে তারা উদ্বিগ্ন। গাইডওয়াল নির্মাণ করে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা না নিলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

এ জন্য তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, এ এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমাতে সড়কটি পাকাকরণের প্রয়োজন ছিল। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী অনেক দিন পর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে কাজ শেষ হলেও ভাঙনের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি থাকবে, দ্রুত একটি টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, নদীভাঙনের জন্য নতুন নির্মাণাধীন এ সড়কটি ঝুঁকিতে রয়েছে।

চেষ্টা করব, কোনো প্রকল্প থেকে বরাদ্দ দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী ঘাটপাড় ব্রিজ থেকে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৬ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজ।

নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে এসে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সড়কটি অল্প সময়েই নদীতে বিলীন না হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ভাঙনের শঙ্কা নিয়েই শেষ হলো অলহরী ব্রিজ-আমলীতলা সড়ক নির্মাণকাজ

Update Time : 07:47:21 am, Tuesday, 27 October 2026

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার অলহরী ব্রিজ-আমলীতলা বাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নকাজ ভাঙনের ঝুঁকি নিয়েই সমাপ্ত হয়েছে। মাওলানা জামাল উদ্দিনের বাড়িসংলগ্ন একটি অংশে নদীভাঙনের ঝুঁকি থাকায় সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গত বর্ষা মৌসুমেই ওই অংশের প্রায় পাঁচ ফুট নদীতে বিলীন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতেও ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়াই সড়ক নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সড়কটির কার্পেটিংয়ের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। তবে নদীসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সুরক্ষাব্যবস্থার দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় নতুন সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সড়কের প্রান্ত থেকে মাত্র এক থেকে দেড় ফুট দূরত্বে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। প্রায় ১০-১৫ মিটার এলাকাজুড়ে মাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে সড়কের একাংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক নির্মাণের শুরুতে ওই অংশের পাশের জমির মালিকের কাছে উপজেলা প্রকৌশলী কয়েক ফুট জমি ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

সড়কের কাজের স্বার্থে জমির মালিকরা জায়গা ছেড়ে দেন। এ সময় নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানান স্থানীয়রা। তবে নির্মাণকাজ শেষ হলেও ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দা এবিএস কামাল আহমেদ বলেন, রাস্তার কাজ শুরুর সময় উপজেলা প্রকৌশলী অনুরোধ করে বলছিলেন, কিছুটা জায়গা ছাড়েন, না হলে রাস্তার কাজ শুরু করা সম্ভব না।

আমরা তার অনুরোধে কয়েক ফুট জায়গা ছেড়ে দেই। এ সময় ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বলেন, অনেক দিনের দাবির পর সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। তবে নদীভাঙনের কারণে তারা উদ্বিগ্ন। গাইডওয়াল নির্মাণ করে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা না নিলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।

এ জন্য তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, এ এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমাতে সড়কটি পাকাকরণের প্রয়োজন ছিল। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী অনেক দিন পর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে কাজ শেষ হলেও ভাঙনের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি থাকবে, দ্রুত একটি টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, নদীভাঙনের জন্য নতুন নির্মাণাধীন এ সড়কটি ঝুঁকিতে রয়েছে।

চেষ্টা করব, কোনো প্রকল্প থেকে বরাদ্দ দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী ঘাটপাড় ব্রিজ থেকে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৬ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজ।

নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে এসে নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশে ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামোটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে টেকসই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, যাতে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সড়কটি অল্প সময়েই নদীতে বিলীন না হয়।