বরগুনার তালতলীতে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে ১২ পিস ইয়াবা এবং ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছে আরও দুই মাদক কারবারি। গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার সোনাকাটা ও শারিকখালী ইউনিয়নে এই পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সোনাকাটা ইউনিয়নের ছোট আমখোলা এলাকার জোড়া কালভার্ট এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় মো. রুবেল আকন (৩০) নামের এক মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
তার শরীর তল্লাশি করে উদ্ধার করা হয় ১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পালিয়ে যায় তার সহযোগী রুবেল মৃধা (নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তাঁতিপাড়া এলাকার আফজাল মৃধার ছেলে)। গ্রেপ্তার রুবেল আকন ওই এলাকার জলিল আকনের ছেলে। অপরদিকে, একই দিন রাত ১১টার দিকে শারিকখালী ইউনিয়নের নলবুনিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী আরেকটি অভিযান চালানো হয়।
সেখানে চিহ্নিত মাদক কারবারি মো. হিমু তালুকদার (৫০) ও তার ছেলে মো. সোহান তালুকদারকে (২৬) হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের বসতঘরের খাটের নিচ থেকে তল্লাশি চালিয়ে ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ সময় হিমু তালুকদারের অপর ছেলে মো. সজল তালুকদার (৩০) পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। গ্রেপ্তার হিমু তালুকদারের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও মাদক ও হত্যা মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে এই অবৈধ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল। এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি মো. সাইদুল ইসলাম অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের কঠোরভাবে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে নিয়মিত মাদক আইনে মামলা রুজু করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পালিয়ে যাওয়া আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকমুক্ত তালতলী গড়তে পুলিশের এই কঠোর অভিযান নিয়মিত চলবে।























