আজ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
৭ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১৮%

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ৬৩ শতাংশ আসামি পলাতক

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:45:49 am, Friday, 23 October 2026
  • 12

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ৬৩ শতাংশ আসামি পলাতক

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ৬৩ শতাংশ আসামিই পলাতক। এদের অনেকে দেশে থাকলেও রয়েছে ধরাছোয়ার বাইরে। আর ইন্টারপোলের মাধ্যমে বিদেশে পলাতকদেরও গ্রেপ্তার করা যায়নি।

প্রসিকিউশন বলছে, পলাতক থাকলেও অপরাধীদের কাউকেই ছাড় নয়। বিচার নিশ্চিতে কাজ করছেন তারা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৭০টি মামলায় আসামি ৫৫৮ জন। এর মধ্যে পলাতক ৩৫২। রায় হয়ে যাওয়া ৭ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৬৮ জনের মধ্যে ৪৮ জনই পলাতক। আর বিচারাধীন ২৬ মামলার ৩২৮ আসামির মধ্যে ধরাছোঁয়ার বাইরে ২৪৪ জন। গ্রেপ্তার হয়েছে ৮৪ জন।

গণ-অভ্যুত্থানে হত্যা-গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পলাতক আসামিদের বেশির ভাগই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও দলীয় নেতা-কর্মী। পলাতক আসামিদের মধ্যে দু-এক জন ছাড়া কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রসিকিউটররা জানান, আসামিরা পলাতক থাকলেও বিচার চলবে।

প্রসিকিউটর এম এইচ তামিম বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের যেমন মানসিকতা, এটা যদি আমাদের আইনে থাকে যে, অনুপস্থিত অবস্থায় বিচার করা যাবে না। তাহলে কেউ কোনোদিন আইনের আশ্রয়ে আসবে না। এমনিতেই আমাদের দেশের অপরাধীদের পলাতক থাকার প্রবণতা রয়েছে। যখন পলাতক অবস্থায় আমরা বিচার করতে পারব না, তখন তো তারা পালিয়েই থাকবে। আমরা নিরপরাধ একজনকেও বিচারের আওতায় আনব না এবং একজন অপরাধীকেও ছাড় দেব না।’

পলাতক আসামিদের পক্ষে মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্র কর্তৃক আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তাদের থাকে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা। চিফ প্রসকিউটর জানালেন, কেউ নিজেকে নিরপরাধ দাবি করলে তার আত্মসমর্পণ করে বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে বিচার হচ্ছে তারা যদি পলাতক থাকে, তারা ট্রাইব্যুনালে আসা উচিৎ। হাজির হয়ে তাদের পছন্দের আইনজীবী দিয়ে মামলা পরিচালনা করা উচিৎ। রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আসামির কাছ থেকে ব্যক্তিগত কোনো তথ্য আনতে পারে না। সেটা ব্যবহারও করতে পারে না। রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী প্রসিকিউশনের সরবরাকৃত যেসব কাগজ, এর বাইরে উনারা যেতে পারবে না।’

বিদেশে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হলেও, নেই কোনো অগ্রগতি।

সাজাপ্রাপ্তদের এর মধ্যে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত রংপুরের বেগম রকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ। তবে বিনা অপরাধে যাতে কারও সাজা না হয় সে বিষয়ে সতর্ক তারা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ভারতে বাদপড়া ভোটারদের আপিল: মুসলমান আবেদনকারীদের আবেদন খারিজের হার বেশি

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ৬৩ শতাংশ আসামি পলাতক

Update Time : 09:45:49 am, Friday, 23 October 2026

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার ৬৩ শতাংশ আসামিই পলাতক। এদের অনেকে দেশে থাকলেও রয়েছে ধরাছোয়ার বাইরে। আর ইন্টারপোলের মাধ্যমে বিদেশে পলাতকদেরও গ্রেপ্তার করা যায়নি।

প্রসিকিউশন বলছে, পলাতক থাকলেও অপরাধীদের কাউকেই ছাড় নয়। বিচার নিশ্চিতে কাজ করছেন তারা।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ৭০টি মামলায় আসামি ৫৫৮ জন। এর মধ্যে পলাতক ৩৫২। রায় হয়ে যাওয়া ৭ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৬৮ জনের মধ্যে ৪৮ জনই পলাতক। আর বিচারাধীন ২৬ মামলার ৩২৮ আসামির মধ্যে ধরাছোঁয়ার বাইরে ২৪৪ জন। গ্রেপ্তার হয়েছে ৮৪ জন।

গণ-অভ্যুত্থানে হত্যা-গুমসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পলাতক আসামিদের বেশির ভাগই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী-এমপি ও দলীয় নেতা-কর্মী। পলাতক আসামিদের মধ্যে দু-এক জন ছাড়া কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রসিকিউটররা জানান, আসামিরা পলাতক থাকলেও বিচার চলবে।

প্রসিকিউটর এম এইচ তামিম বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষের যেমন মানসিকতা, এটা যদি আমাদের আইনে থাকে যে, অনুপস্থিত অবস্থায় বিচার করা যাবে না। তাহলে কেউ কোনোদিন আইনের আশ্রয়ে আসবে না। এমনিতেই আমাদের দেশের অপরাধীদের পলাতক থাকার প্রবণতা রয়েছে। যখন পলাতক অবস্থায় আমরা বিচার করতে পারব না, তখন তো তারা পালিয়েই থাকবে। আমরা নিরপরাধ একজনকেও বিচারের আওতায় আনব না এবং একজন অপরাধীকেও ছাড় দেব না।’

পলাতক আসামিদের পক্ষে মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্র কর্তৃক আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তাদের থাকে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা। চিফ প্রসকিউটর জানালেন, কেউ নিজেকে নিরপরাধ দাবি করলে তার আত্মসমর্পণ করে বিচারের মুখোমুখি হওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে বিচার হচ্ছে তারা যদি পলাতক থাকে, তারা ট্রাইব্যুনালে আসা উচিৎ। হাজির হয়ে তাদের পছন্দের আইনজীবী দিয়ে মামলা পরিচালনা করা উচিৎ। রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী আসামির কাছ থেকে ব্যক্তিগত কোনো তথ্য আনতে পারে না। সেটা ব্যবহারও করতে পারে না। রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী প্রসিকিউশনের সরবরাকৃত যেসব কাগজ, এর বাইরে উনারা যেতে পারবে না।’

বিদেশে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করা হলেও, নেই কোনো অগ্রগতি।

সাজাপ্রাপ্তদের এর মধ্যে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত রংপুরের বেগম রকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তৎকালীন ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ। তবে বিনা অপরাধে যাতে কারও সাজা না হয় সে বিষয়ে সতর্ক তারা।