আজ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
৮ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

ভোক্তা অধিদপ্তরে জমা পড়া অভিযোগের ৬১ শতাংশই অনলাইন কেনাকাটার প্রতারণা সংক্রান্ত

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:55:59 am, Friday, 23 October 2026
  • 24

ভোক্তা অধিদপ্তরে জমা পড়া অভিযোগের ৬১ শতাংশই অনলাইন কেনাকাটার প্রতারণা সংক্রান্ত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ই-কমার্স বা অনলাইন কেনাকাটা নিয়ে অভিযোগ বেড়েই চলেছে। গেল অর্থবছরে ভোক্তা অধিদপ্তরে মোট অভিযোগের প্রায় ৬১ শতাংশই এসেছে অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা নিয়ে। তবে এ বিষয়ে দেশে আইনের প্রয়োগ ও কার্যকর প্রতিকার ব্যবস্থা এখনও সীমিতই রয়েছে বলে জানান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

অনলাইনে বাচ্চার জন্য পোশাক কিনেছিলেন রুবাইয়া সুলতানা। ৩০০ টাকায় কেনা টপস একবার ধোয়ার পরই রঙ উঠে যাওয়ায়, তা আর ব্যবহার করতে পারেননি।

এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘যেহেতু বাচ্চাদের পোশাক– আমি প্রথমে একবার ধুয়ে তারপর বাচ্চাকে পরাব। একবার ধুয়ে এনে দেখি পুরো পোশাকে রং ছড়িয়ে গেছে।’

তার মতো এমন অনেকেই অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে, পণ্যের পুরো দাম বা বুকিং মানি অগ্রিম পরিশোধ করার পর বিক্রেতা আর যোগাযোগ করে না। এছাড়া, নকল পণ্যসহ বিভিন্ন ফাঁদে পড়ছেন গ্রাহকরা।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি ফোনের কভার অর্ডার করেছি। ডেলিভারির পর দেখে একদম ভিন্ন রং। আমি ওদের নম্বরে কল করলাম। ওরা বলল রিফান্ড করবে। কিন্তু এরপর ফোন বন্ধ করে দেয়।’

আকর্ষণীয় ছাড়ের লোভ দেখিয়ে ভুয়া লিংক বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা পাসওয়ার্ডের গোপনীয় তথ্য পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়।

ভোক্তা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছর সংস্থায় অভিযোগ এসেছে ৫২ হাজার ৪৫৯ টি।এর মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশিই বিভিন্ন ফেইসবুক পেইজ এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। এছাড়া, চলতি অর্থবছরের ৩ মাসেই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার।

অধিদপ্তর জানায়, ই-কমার্স ও অনলাইন মাধ্যমে প্রতারণা রোধে, শাস্তির বিধান আরও কঠোর করতে আইন ও সংশোধনের কাজ চলছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার সংশোধনটা যদি হয়; আইনের মধ্যে কিন্তু এটাও বলা আছে যে, ই–কমার্স বা ডিজিটাল ফ্লাটফর্মে যারা ব্যবসা করবে তাদের নিবন্ধন করা লাগবে। যদি মনে করে যে অন্যকোনো কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন দেবে– সেটা আইনে উল্লেখ থাকবে।’

সংস্থাটি জানায়, ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভালে উপচে পড়া ভিড়

ভোক্তা অধিদপ্তরে জমা পড়া অভিযোগের ৬১ শতাংশই অনলাইন কেনাকাটার প্রতারণা সংক্রান্ত

Update Time : 03:55:59 am, Friday, 23 October 2026

ই-কমার্স বা অনলাইন কেনাকাটা নিয়ে অভিযোগ বেড়েই চলেছে। গেল অর্থবছরে ভোক্তা অধিদপ্তরে মোট অভিযোগের প্রায় ৬১ শতাংশই এসেছে অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণা নিয়ে। তবে এ বিষয়ে দেশে আইনের প্রয়োগ ও কার্যকর প্রতিকার ব্যবস্থা এখনও সীমিতই রয়েছে বলে জানান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

অনলাইনে বাচ্চার জন্য পোশাক কিনেছিলেন রুবাইয়া সুলতানা। ৩০০ টাকায় কেনা টপস একবার ধোয়ার পরই রঙ উঠে যাওয়ায়, তা আর ব্যবহার করতে পারেননি।

এক ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘যেহেতু বাচ্চাদের পোশাক– আমি প্রথমে একবার ধুয়ে তারপর বাচ্চাকে পরাব। একবার ধুয়ে এনে দেখি পুরো পোশাকে রং ছড়িয়ে গেছে।’

তার মতো এমন অনেকেই অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে, পণ্যের পুরো দাম বা বুকিং মানি অগ্রিম পরিশোধ করার পর বিক্রেতা আর যোগাযোগ করে না। এছাড়া, নকল পণ্যসহ বিভিন্ন ফাঁদে পড়ছেন গ্রাহকরা।

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমি ফোনের কভার অর্ডার করেছি। ডেলিভারির পর দেখে একদম ভিন্ন রং। আমি ওদের নম্বরে কল করলাম। ওরা বলল রিফান্ড করবে। কিন্তু এরপর ফোন বন্ধ করে দেয়।’

আকর্ষণীয় ছাড়ের লোভ দেখিয়ে ভুয়া লিংক বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড বা পাসওয়ার্ডের গোপনীয় তথ্য পর্যন্ত হাতিয়ে নেওয়া হয়।

ভোক্তা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছর সংস্থায় অভিযোগ এসেছে ৫২ হাজার ৪৫৯ টি।এর মধ্যে ৬০ শতাংশের বেশিই বিভিন্ন ফেইসবুক পেইজ এবং ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। এছাড়া, চলতি অর্থবছরের ৩ মাসেই এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার।

অধিদপ্তর জানায়, ই-কমার্স ও অনলাইন মাধ্যমে প্রতারণা রোধে, শাস্তির বিধান আরও কঠোর করতে আইন ও সংশোধনের কাজ চলছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়ার সংশোধনটা যদি হয়; আইনের মধ্যে কিন্তু এটাও বলা আছে যে, ই–কমার্স বা ডিজিটাল ফ্লাটফর্মে যারা ব্যবসা করবে তাদের নিবন্ধন করা লাগবে। যদি মনে করে যে অন্যকোনো কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন দেবে– সেটা আইনে উল্লেখ থাকবে।’

সংস্থাটি জানায়, ই-কমার্স খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার।