আজ মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

ভয়কে জয় করার এক অনন্য গল্প

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:51:52 am, Tuesday, 20 October 2026
  • 13

ভয়কে জয় করার এক অনন্য গল্প

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

আজ একটু অন্যরকম গল্প শোনা যাক! গল্পটি অরিয়ন নামের একটি ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে। অরিয়নের বয়স কেবল ১১ বছর। সে ছিল ভীষণ মিষ্টি একটা ছেলে। তবে তার একটা সমস্যাও ছিল। সে পৃথিবীর প্রায় সবকিছুকেই খুব ভয় পেত!

স্কুলে কোনো সহপাঠী তার সঙ্গে কথা বলতে এলে সে নার্ভাস হয়ে যেত। কুকুরের ডাক শুনলে ভয় পেত। এমনকি ঘরে ছোট কোনো পোকা দেখলেও তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যেত। সে সারাদিন তার গোপন ডায়েরিতে লিখে রাখত যে সে কী কী জিনিসকে ভয় পায়। তার সবচেয়ে বড় ভয় ছিল রাতের অন্ধকার! সে ভাবত অন্ধকারে বুঝি কোনো ভয়ংকর রাক্ষস লুকিয়ে আছে। এরই মধ্যে এক রাতে তার শহরের বিদ্যুৎ চলে গেল এবং তার পুরো ঘর অন্ধকারে ডুবে গেল।

অরিয়ন যখন ভয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে কাঁপছিল, ঠিক তখনই তার ঘরের মধ্যে হাজির হলো স্বয়ং রাতের অন্ধকার! যাকে আমরা ডার্ক নামে চিনব। এই অন্ধকার কিন্তু মোটেও কোনো ভয়ংকর দানব ছিল না। ডার্কের গায়ের রং ছিল রাতের আকাশের মতো গাঢ় নীল আর চোখের মনি দুটো ছিল সোনালি আলোর মতো মিষ্টি। ডার্ক এসে অরিয়নকে বলল, তুমি যে আমাকে এত ভয় পাও এবং আমার নামে এত বদনাম করো, তা দেখতেই আমি এসেছি!

চলো আজ রাতে তোমাকে নিয়ে জাদুকরী ভ্রমণে বের হই। আমি তোমাকে দেখাব যে রাতের অন্ধকার কতটা সুন্দর হতে পারে! ’ অরিয়ন প্রথমে রাজি হতে চায়নি, কিন্তু ডার্কের মিষ্টি ব্যবহারে ভরসা পেয়ে সে তার সঙ্গে মেঘের ওপর উড়াল দিল। ভ্রমণে বেরিয়ে ডার্ক অরিয়নকে পরিচয় করিয়ে দিল রাতের অন্য বন্ধুদের সঙ্গে।

তাদের মধ্যে ছিল ‘স্লিপ’Ñ যে সবাইকে ঘুম পাড়ায়, ছিল ‘সুইট ড্রিমস’Ñ যে মিষ্টি স্বপ্ন দেখায়, ‘কোয়ায়েট’Ñ যে রাতের নিরবতা ধরে রাখে, আরও ছিল ‘ইনসোমনিয়া’Ñ যে রাতে মাঝে মাঝে মানুষকে জাগিয়ে রাখে। সবাই মিলে রাতের আকাশে ভাসতে ভাসতে দারুণ সময় কাটাচ্ছিল। অরিয়ন ধীরে ধীরে বুঝতে পারল যে রাত না থাকলে মানুষ ঘুমাতে পারত না, মিষ্টি স্বপ্ন দেখতে পারত না আর চারপাশের এই শান্ত পরিবেশ কখনোই তৈরি হতো না।

কিন্তু পথে হঠাৎ তাদের দেখা হলো ‘লাইট’ বা দিনের আলোর সঙ্গে। অরিয়ন ভয় পেয়ে ভুল করে বলে ফেলল, ডার্কের চেয়ে আলোই বেশি ভালো, কারণ আলোতে সবকিছু দেখা যায়! এ কথায় ডার্ক ভীষণ কষ্ট পেল। সে মনে করল, অরিয়ন হয়তো তাকে কখনোই ভালোবাসতে পারবে না। অভিমানে ডার্ক একটি পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে বসে রইল এবং সকালে যখন সূর্যের প্রথম আলো এসে ফুটল, তখন ডার্ক সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চিরতরে উধাও হয়ে গেল!

অন্ধকার না থাকায় দুনিয়ায় দিন আর থামল না। সূর্য আর ডোবে না, রাত আর আসে না! ডার্ক উধাও হয়ে যাওয়ার পর অরিয়ন তার ভুল বুঝতে পেরে অনুতাপে কাঁদতে লাগল। সে বুঝতে পারল যে রাত না থাকলে কত বড় বিপদ হতে পারে! অরিয়ন তখন তার মনের সব ভয় দূরে ঠেলে দিল এবং বন্ধুদের নিয়ে একটি বুদ্ধি বের করল। সে ‘সুইট ড্রিমস’-এর সাহায্য নিয়ে নিজের স্বপ্নের গভীরে প্রবেশ করল এবং সেখানে ডার্ককে খুঁজে বের করল।

ডার্ক সেখানে বিশাল কালো গহ্বরে আটকে পড়েছিল। অরিয়ন নিজের জীবন বাজি রেখে সাহসিকতার সঙ্গে সেই গহ্বরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ডার্ককে উদ্ধার করে আনল। আবার আকাশে রাত নেমে এলো, তারা ফুটে উঠল এবং পুরো পৃথিবী আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল। ডার্ককে নিজের সেরা বন্ধু হিসেবে জড়িয়ে ধরে অরিয়ন বুঝতে পারল যে জীবনের কোনো ভয়কেই পালিয়ে এড়িয়ে যাওয়া যায় না, বরং সাহস করে ভয়কে চিনে নিলেই সে নিজের বন্ধু হয়ে যায়।

এর পর থেকে অরিয়ন আর কখনো রাত বা অন্ধকারকে ভয় পায়নি। তোমরা এতক্ষণ যে গল্পটি পড়লে, তা ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া এনিমেশন সিনেমা ‘অরিয়ন অ্যান্ড দ্য ডার্ক’-এর গল্প। এই সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে বিশ্বখ্যাত অ্যানিমেশন স্টুডিও ড্রিমওয়ার্কস। বিখ্যাত লেখিকা এমা ইয়ারলেটের জনপ্রিয় শিশুতোষ বই অবলম্বনে সিনেমাটি বানানো হয়েছে। চমৎকার এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন সিয়ান চার্মাটজ এবং এর চিত্রনাট্য লিখেছেন বিখ্যাত অস্কারজয়ী লেখক চার্লি কফম্যান।

সোনামণিরা, ‘অরিয়ন অ্যান্ড দ্য ডার্ক’ গল্পটি আমাদের খুব দামি একটি কথা শেখায়। আমরা অনেকেই হয়তো ঘর অন্ধকার হলে কিংবা অজানা কোনো কিছু দেখলে ভয় পাই। কিন্তু না জেনে না বুঝে কোনো কিছুকে ভয় পাওয়া উচিত নয়। রাতের অন্ধকার যেমন আমাদের ভয় দেখায় না, বরং পরম মমতায় ঘুম পাড়িয়ে মিষ্টি স্বপ্নের দেশে নিয়ে যায়, ঠিক তেমনি আমাদের জীবনের যেকোনো ভয়কে সাহস দিয়ে মুখোমুখি করলে দেখা যাবে সেই ভয়ের ভেতরেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে সুন্দর উপহার।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ভয়কে জয় করার এক অনন্য গল্প

Update Time : 05:51:52 am, Tuesday, 20 October 2026

আজ একটু অন্যরকম গল্প শোনা যাক! গল্পটি অরিয়ন নামের একটি ছোট্ট ছেলেকে নিয়ে। অরিয়নের বয়স কেবল ১১ বছর। সে ছিল ভীষণ মিষ্টি একটা ছেলে। তবে তার একটা সমস্যাও ছিল। সে পৃথিবীর প্রায় সবকিছুকেই খুব ভয় পেত!

স্কুলে কোনো সহপাঠী তার সঙ্গে কথা বলতে এলে সে নার্ভাস হয়ে যেত। কুকুরের ডাক শুনলে ভয় পেত। এমনকি ঘরে ছোট কোনো পোকা দেখলেও তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যেত। সে সারাদিন তার গোপন ডায়েরিতে লিখে রাখত যে সে কী কী জিনিসকে ভয় পায়। তার সবচেয়ে বড় ভয় ছিল রাতের অন্ধকার! সে ভাবত অন্ধকারে বুঝি কোনো ভয়ংকর রাক্ষস লুকিয়ে আছে। এরই মধ্যে এক রাতে তার শহরের বিদ্যুৎ চলে গেল এবং তার পুরো ঘর অন্ধকারে ডুবে গেল।

অরিয়ন যখন ভয়ে কম্বল মুড়ি দিয়ে কাঁপছিল, ঠিক তখনই তার ঘরের মধ্যে হাজির হলো স্বয়ং রাতের অন্ধকার! যাকে আমরা ডার্ক নামে চিনব। এই অন্ধকার কিন্তু মোটেও কোনো ভয়ংকর দানব ছিল না। ডার্কের গায়ের রং ছিল রাতের আকাশের মতো গাঢ় নীল আর চোখের মনি দুটো ছিল সোনালি আলোর মতো মিষ্টি। ডার্ক এসে অরিয়নকে বলল, তুমি যে আমাকে এত ভয় পাও এবং আমার নামে এত বদনাম করো, তা দেখতেই আমি এসেছি!

চলো আজ রাতে তোমাকে নিয়ে জাদুকরী ভ্রমণে বের হই। আমি তোমাকে দেখাব যে রাতের অন্ধকার কতটা সুন্দর হতে পারে! ’ অরিয়ন প্রথমে রাজি হতে চায়নি, কিন্তু ডার্কের মিষ্টি ব্যবহারে ভরসা পেয়ে সে তার সঙ্গে মেঘের ওপর উড়াল দিল। ভ্রমণে বেরিয়ে ডার্ক অরিয়নকে পরিচয় করিয়ে দিল রাতের অন্য বন্ধুদের সঙ্গে।

তাদের মধ্যে ছিল ‘স্লিপ’Ñ যে সবাইকে ঘুম পাড়ায়, ছিল ‘সুইট ড্রিমস’Ñ যে মিষ্টি স্বপ্ন দেখায়, ‘কোয়ায়েট’Ñ যে রাতের নিরবতা ধরে রাখে, আরও ছিল ‘ইনসোমনিয়া’Ñ যে রাতে মাঝে মাঝে মানুষকে জাগিয়ে রাখে। সবাই মিলে রাতের আকাশে ভাসতে ভাসতে দারুণ সময় কাটাচ্ছিল। অরিয়ন ধীরে ধীরে বুঝতে পারল যে রাত না থাকলে মানুষ ঘুমাতে পারত না, মিষ্টি স্বপ্ন দেখতে পারত না আর চারপাশের এই শান্ত পরিবেশ কখনোই তৈরি হতো না।

কিন্তু পথে হঠাৎ তাদের দেখা হলো ‘লাইট’ বা দিনের আলোর সঙ্গে। অরিয়ন ভয় পেয়ে ভুল করে বলে ফেলল, ডার্কের চেয়ে আলোই বেশি ভালো, কারণ আলোতে সবকিছু দেখা যায়! এ কথায় ডার্ক ভীষণ কষ্ট পেল। সে মনে করল, অরিয়ন হয়তো তাকে কখনোই ভালোবাসতে পারবে না। অভিমানে ডার্ক একটি পাহাড়ের চূড়ায় গিয়ে বসে রইল এবং সকালে যখন সূর্যের প্রথম আলো এসে ফুটল, তখন ডার্ক সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে চিরতরে উধাও হয়ে গেল!

অন্ধকার না থাকায় দুনিয়ায় দিন আর থামল না। সূর্য আর ডোবে না, রাত আর আসে না! ডার্ক উধাও হয়ে যাওয়ার পর অরিয়ন তার ভুল বুঝতে পেরে অনুতাপে কাঁদতে লাগল। সে বুঝতে পারল যে রাত না থাকলে কত বড় বিপদ হতে পারে! অরিয়ন তখন তার মনের সব ভয় দূরে ঠেলে দিল এবং বন্ধুদের নিয়ে একটি বুদ্ধি বের করল। সে ‘সুইট ড্রিমস’-এর সাহায্য নিয়ে নিজের স্বপ্নের গভীরে প্রবেশ করল এবং সেখানে ডার্ককে খুঁজে বের করল।

ডার্ক সেখানে বিশাল কালো গহ্বরে আটকে পড়েছিল। অরিয়ন নিজের জীবন বাজি রেখে সাহসিকতার সঙ্গে সেই গহ্বরে ঝাঁপিয়ে পড়ে ডার্ককে উদ্ধার করে আনল। আবার আকাশে রাত নেমে এলো, তারা ফুটে উঠল এবং পুরো পৃথিবী আবার স্বাভাবিক হয়ে গেল। ডার্ককে নিজের সেরা বন্ধু হিসেবে জড়িয়ে ধরে অরিয়ন বুঝতে পারল যে জীবনের কোনো ভয়কেই পালিয়ে এড়িয়ে যাওয়া যায় না, বরং সাহস করে ভয়কে চিনে নিলেই সে নিজের বন্ধু হয়ে যায়।

এর পর থেকে অরিয়ন আর কখনো রাত বা অন্ধকারকে ভয় পায়নি। তোমরা এতক্ষণ যে গল্পটি পড়লে, তা ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া এনিমেশন সিনেমা ‘অরিয়ন অ্যান্ড দ্য ডার্ক’-এর গল্প। এই সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে বিশ্বখ্যাত অ্যানিমেশন স্টুডিও ড্রিমওয়ার্কস। বিখ্যাত লেখিকা এমা ইয়ারলেটের জনপ্রিয় শিশুতোষ বই অবলম্বনে সিনেমাটি বানানো হয়েছে। চমৎকার এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন সিয়ান চার্মাটজ এবং এর চিত্রনাট্য লিখেছেন বিখ্যাত অস্কারজয়ী লেখক চার্লি কফম্যান।

সোনামণিরা, ‘অরিয়ন অ্যান্ড দ্য ডার্ক’ গল্পটি আমাদের খুব দামি একটি কথা শেখায়। আমরা অনেকেই হয়তো ঘর অন্ধকার হলে কিংবা অজানা কোনো কিছু দেখলে ভয় পাই। কিন্তু না জেনে না বুঝে কোনো কিছুকে ভয় পাওয়া উচিত নয়। রাতের অন্ধকার যেমন আমাদের ভয় দেখায় না, বরং পরম মমতায় ঘুম পাড়িয়ে মিষ্টি স্বপ্নের দেশে নিয়ে যায়, ঠিক তেমনি আমাদের জীবনের যেকোনো ভয়কে সাহস দিয়ে মুখোমুখি করলে দেখা যাবে সেই ভয়ের ভেতরেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে সুন্দর উপহার।