দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল বিজয় দেবাশীষ নারায়ণ পাল এবং লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা।
বিশেষ অভিযানে রাজধানীর পল্লবী ও বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার দুই সেনা কর্মকর্তাকে ৪ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এ দুই আসামির বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী উসকানিমূলক অপপ্রচার চালানো এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার তথ্য-উপাত্ত মিলেছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার বলেছেন, রাষ্ট্রবিরোধী এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর কারা কারা যুক্ত রয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রচারণার নেপথ্যে অন্য কোনো ইন্ধন রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দুই অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও তাদের সহযোগীরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা, তহবিল সংগ্রহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের সঙ্গে জড়িত।
আসামিরা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে সরকারবিরোধী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছিল। এ ছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
আসামিরা ২০২৪-এর ৫ আগস্টের পর থেকে ২০২৬ সালের ১১ অক্টোবর পর্যন্ত তারা তাদের দোসরদের নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। এ প্রেক্ষিতে তাদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ২০২৪-এর ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের দোসররা নানাভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করে ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টির মাধ্যমে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেÑ অব্যাহতভাবে।
গুপ্ত হামলা, বোমাবাজি, হঠাৎ রাত-বিরাতে চার পাঁচজন কর্মী সমর্থক নিয়ে ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা ইত্যাদির মাধ্যমে পতিত স্বৈরাচার নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের তৎপরতা জনমনে মাঝে মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে যখন দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার যখন পতিত স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্নির্মাণের নানামুখী উদ্যোগ নিয়েছে, দেশ যখন নতুন এক নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে।
সেই প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিতে অপতৎপরতা শুরু করেছে একটানা ১৬ বছর ধরে স্বৈরশাসন চালানো পলাতক নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দলটি। তারা ক্ষমতায় থাকার সময় হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার করেছে। দেশে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। সেই লুণ্ঠিত অর্থ ও সম্পদ দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের কাজে এখন ব্যবহার করছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষ আর রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখতে চায় না।
দীর্ঘ সময়ের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সরকার এখন দেশ পরিচালনা করছে। হয়তো বর্তমান সরকারের কর্মকা-ে নানা সীমাবদ্ধতা, দুর্বলতা, ঘাটতি রয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী অনেক কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়া পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থান করে সেখানকার সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে তার দোসরদের নিয়ে মাঝে মাঝেই নানা ধরনের পরিকল্পনার কথা ভার্চুয়াল মিটিংয়ের মাধ্যমে, অনলাইনে প্রকাশ করছে।
তাদের এ ধরনের তৎপরতা এদেশের মানুষের সমর্থন পায়নি।
কারণ, এদেশের জনগণ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তাদের চালানো দুঃশাসন, স্বেচ্ছাচারিতা, নির্যাতন, জুলুম, জোর করে চাপিয়ে দেওয়া নিজদের মতবাদ, তাদের বিরুদ্ধাচরণকারীদের নির্মম নির্যাতন, হত্যা, গুম, আয়নাঘর নামক অন্ধকার বন্দিখানায় আটক রেখে তিল তিল করে মৃত্যুমুখে ঠেলে দেওয়াসহ আর্থিক, রাজনৈতিক, প্রশাসনিক সেক্টরে দুর্নীতি, লুটপাট, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ, গুন্ডামি, মাস্তানি, দখলদারি, টেন্ডারবাজি, হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পাচার এবং বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক বনে যাওয়া ইত্যাদি দেখেছে।
চব্বিশের জুলাইয়ে এবং আগস্ট মাসে সরকারবিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে পুলিশ ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অন্যায়ভাবে যথেচ্ছ ব্যবহারের তাদের নজিরবিহীন নৃশংস তৎপরতা এদেশের ইতিহাসে এর আগে ঘটেনি কখনো। এত অন্যায় করেও তারা জাতির কাছে কৃতকর্মের জন্য একটুও অনুতপ্ত হয়নি, অনুশোচনা প্রকাশ করেনি, ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। বরং চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য রাখছে, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি অসম্মান করে কথা বলার দুঃসাহস দেখাচ্ছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ এবং আহতদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে দ্বিধা করছে না। যেখানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশে স্বৈরাচারী স্বেচ্ছাচারী সরকারের দুঃশাসনের শিকার হয়ে হাজার হাজার নারী-পুরুষ-শিশুর হত্যাকা-ের মানবতাবিরোধী অপরাধের কথা স্বীকৃতি লাভ করেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে।
তাদের কারো কারো সাজাও হয়েছে ইতোমধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশে পালিয়ে থাকা পতিত স্বৈরাচার নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের দোসরদের নিন্দনীয় ষড়যন্ত্রমূলক তৎপরতা আমাদের বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে। অতি সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতা-কর্মী কর্তৃক বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় গোটা জাতি স্তম্ভিত হয়ে গেছে।
বিমানবন্দরের লবি দিয়ে যাওয়ার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকজন ব্যক্তি তাকে উদ্দেশ্য করে কটূক্তি ও চিৎকার-চেঁচামেচি করে। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা, নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে লক্ষ্য করে অব্যাহত হয়রানি, অনলাইনে কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচার ও উদ্দেশ্যমূলক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন দেশের সচেতন নাগরিকমহল। সবাই এসব কর্মকা- বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভয়ভীতি, মিথ্যা তথ্য ও হামলার মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষায় সূচিত পরিবর্তনের অঙ্গীকার নস্যাৎ করা যাবে না।
দেশ যখন চরম সংকটের মুখে ছিল, তখন অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক লুটপাট, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপর্যয়, দুর্নীতি, কর্তৃত্ববাদী শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কঠিন দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছে। ওই সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের মতো গুরুতর অপরাধমূলক চর্চার অবসান ঘটিয়েছিল।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, স্বৈরাচারী শাসনামলের ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে কিছু রাজনৈতিক অপতৎপরতায় যুক্ত ব্যক্তি ও স্বার্থান্বেষী মহল ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি তাকে শারীরিকভাবে হুমকি দেওয়ার ঔদ্ধত্য ও দুঃসাহস দেখাচ্ছে এখন।
এ ধরনের কর্মকা-ের উদ্দেশ্য অস্থিতিশীলতা তৈরি করা এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণœ করা। ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যাচার, অনলাইন হয়রানি কিংবা ব্যক্তিগত হুমকিÑ কোনো কিছুই পরিবর্তনের অঙ্গীকার থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। তরুণদের বিপুল আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যে সংস্কার ও মর্যাদার ঐতিহাসিক ম্যান্ডেট অর্জন করেছেন, অপপ্রচার কিংবা ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার সমর্থকদের প্রচেষ্টায় তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।
হুইলচেয়ারে একা একটা মানুষ। তার সামনে হঠাৎ এসে চিৎকার করে ‘টেররিস্ট’, ‘ট্রেইটর’ বলে দিলেন, আর তার মান-সম্মান চলে গেল! কী হাস্যকর আত্মসন্তুষ্টি, কী অসুস্থ চিন্তা! ফ্যাসিস্ট খুনি শাসকের দোসর-অনুসারী এবং হৃদয়ে ফ্যাসিস্ট মনোভাব ধারণকারী সুশীল ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আপনারা সুদূরতম কল্পনাতেও বুঝতে পারবেন না, ড. ইউনূস কতটা শ্রদ্ধেয় মানুষ সারা পৃথিবীতে।
তার কাজ কতটা অনুকরণীয় হয়েছে সারা বিশ্বে। এমনকি আপনাদের প্রিয় ভারতেও। ভারতের দুই আইনসভার যৌথ অধিবেশন ডেকে কাকে সম্মানিত করা হয়েছিল, মনে আছে? আপনাদের দৌড় কতদূর তা জানা হয়ে গেছে সবার। ড. ইউনূসের জন্য হৃদয় উন্মুক্ত নেলসন ম্যান্ডেলা থেকে বিল গেটসের! আমরা অনেক শক্তিশালী রাষ্ট্রপতি, রাজা-রানি আর করপোরেট দুনিয়ার শীর্ষ ব্যক্তিদের দেখেছি, তার সান্নিধ্যে আপ্লুত হতে।
তার কথা তন্ময় হয়ে শুনতে। আর আপনি একজন নিন্দিত পতিত স্বৈরাচার, বর্তমানে তুচ্ছ এক জীবনযাপন করা মানুষ, ড. ইউনূসকে সন্ত্রাসী বলে একটা হাঁক দিলেন, মিথ্যে গালাগালি করলেনÑ এতে তার কী ক্ষতি হবে? সূর্যের দিকে ইট ছুড়ে মারলে কী হয়? কতটা আলো আড়াল হয় তাতে? কিছুই হয় না সূর্যের। এটা উপলব্ধি করা প্রয়োজন আপনাদের। আমরা বারবার বলে আসছি, জুলাই গণহত্যা এবং আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত প্রতিটি গুম, খুন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ছাড়া বাংলাদেশে সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
অথচ আমরা প্রত্যক্ষ করছি, জুলাই গণহত্যার বিচারে অস্বাভাবিক ধীরগতি ও গড়িমসি চলছে। অনেক মামলার চার্জশিট পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। দায়সারাভাবে যেন চলছে মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লোকজনের বিচার কার্যক্রম। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সরকারের অভ্যন্তরীণ সমঝোতার প্রচেষ্টারও নানা ইঙ্গিত দৃশ্যমান হয়ে উঠছে যেন।
বিচারপ্রক্রিয়ায় এই দীর্ঘসূত্রতা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ককে দেশ-বিদেশে নানা অপতৎপরতা চালানোর সাহস জোগাচ্ছে। এই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের মূলোৎপাটন করতে হবে। বছরের পর বছর হাজারো মানুষকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার করা, গুম-খুন ও হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত থাকার পরও যাদের মধ্যে ন্যূনতম অনুশোচনা নেই, দল হিসেবে সেই আওয়ামী লীগের বিচার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।
কিন্তু দেশ যে আবার পুরোনো ধারার রাজনীতিতে ফিরে যাচ্ছে। তার দুর্ভাগ্যজনক দিক হচ্ছে, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও এখন ক্ষমতাসীন দলকে বিরোধী দলের প্রতি অবহেলা ও অবজ্ঞা, অপমান করতে দেখা যাচ্ছে। যা সুস্থ, সুন্দর রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিপন্থি বলে মনে করছি। আবার বিরোধী দলের নেতাদের মুখে সরকারের বিপক্ষে নানা ধরনের অযৌক্তিক অভিযোগ আনার প্রবণতা আমাদের পীড়িত করেছে।
পারস্পরিক এই সন্দেহ, অবিশ্বাস মাঝখান থেকে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সরকারের কর্মকা- এবং দেশ পরিচালনা নিয়ে অভিযোগ, সমালোচনা থাকতে পারে। তবে তার নিষ্পত্তি হতে হবে পারস্পরিক সমঝোতা এবং বোঝাপড়ার মাধ্যমে। এখন ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে ফ্যাসিস্ট, পতিত স্বৈরাচার নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে। সকল দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মোকাবিলা করতে হবে এ অপশক্তিকে।
কারণ, ওরা সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে। ষড়যন্ত্র চলছে প্রকাশ্যে এ আড়ালে। চব্বিশের জুলাইয়ে এবং আগস্টে সব গণতান্ত্রিক আধিপত্যবাদ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত বিজয় ছিনিয়ে এনেছে এখনো সেই ঐক্য ধরে রাখতে হবে। সামান্যতম সুযোগ দেওয়া যাবে নাÑ চব্বিশের পরাজিত অপশক্তিকে পুনরুত্থানের।





















