আজ বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
৫ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

জলবায়ু-স্বাস্থ্য পরিকল্পনায় বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর ১৩

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:50:26 pm, Monday, 19 October 2026
  • 27

জলবায়ু-স্বাস্থ্য পরিকল্পনায় বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর ১৩

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্বাস্থ্যগত সুফল বিবেচনায় ৩২-এর মধ্যে ১৩ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে জলবায়ু ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রমের অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে কোনো পয়েন্ট পায়নি দেশটি।

অর্থাৎ জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও তা বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ অ্যালায়েন্সের (জিসিএইচএ) প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘হেলদি এনডিসি স্কোরকার্ডে’ এ তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে ১৩২টি দেশের ১১৭টি জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা আটটি বিভাগে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

মূল্যায়নে স্বাস্থ্যগত সহ-সুফলের স্বীকৃতিতে ৪-এর মধ্যে ৪ এবং স্বাস্থ্য খাতের কার্যক্রমে ৪-এর মধ্যে ৩ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। বায়ুদূষণ ও সমন্বিত শাসনব্যবস্থায় পেয়েছে ২ পয়েন্ট করে। স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং ন্যায়সংগত রূপান্তরে পেয়েছে ১ পয়েন্ট করে। তবে অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে শূন্য স্কোর দেশের জলবায়ু-স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

স্কোরকার্ডে বাংলাদেশের সমান ১৩ পয়েন্ট পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ইন্দোনেশিয়ার স্কোর ১১ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১২। সর্বোচ্চ ২৯ পয়েন্ট পেয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে কলম্বিয়া। নাইজেরিয়া ২৫ এবং কম্বোডিয়া ২৪ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে জাপান, ভারত ও নিউজিল্যান্ড পেয়েছে মাত্র ২ পয়েন্ট করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া ২০টি দেশের মধ্যে ১৯টিই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশ।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় দেশগুলো জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পরিকল্পনা জমা দেয়। বাংলাদেশের পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই পরিবেশের অধিকার স্বীকার করা হয়েছে। জাতীয় জলবায়ু কার্যক্রমে জনস্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, রোগের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে আগাম পরামর্শসেবা চালু এবং জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে। চিকিৎসাশিক্ষার পাঠ্যক্রম ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণেও জলবায়ু ও স্বাস্থ্যবিষয়ক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের পরিবেশগত প্রভাব কমাতে চিকিৎসাবর্জ্য পোড়ানো ছাড়া অন্য পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনা, হাসপাতালে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন এবং জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদ্যমান সরকারি ভবন, প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয় ও হাসপাতালের ৫০ শতাংশে এবং নতুন এসব স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া পরিবহন, কৃষি, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জলবায়ুবান্ধব উদ্যোগের স্বাস্থ্যগত সুফল তুলে ধরা হয়েছে। হাঁটা ও সাইকেল চালানো উৎসাহিত করা, জলবায়ু সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য বজায় রাখা এবং পুষ্টির মান উন্নয়নের বিষয়গুলোও রয়েছে পরিকল্পনায়।

পয়ঃনিষ্কাশন, কঠিন বর্জ্য ও পানি সরবরাহসেবা থেকে নির্গমন কমানোর মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বিশেষ করে শিশু ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বন্যা ও চরম আবহাওয়ার সময় এবং পরে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সহনশীল পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও রয়েছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে বায়ুদূষণ কমানো এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার ব্যবস্থা উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে শিশুদের শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়। পাশাপাশি, ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘স্টেট অব গ্লোবাল এয়ারে’র তথ্য উদ্ধৃত করে স্কোরকার্ডে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৫৯ দশমিক ২ জন।

বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন— দুই ক্ষেত্রেই মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন জিসিএইচএর নির্বাহী পরিচালক ডা. জেনি মিলার। তিনি বলেন, ‘সরকারগুলোকে বুঝতে হবে, কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপের জন্য বায়ুর মান উন্নত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনঝুঁকির মুখে রয়েছে।

’ বৈশ্বিক মূল্যায়নে জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্যারিস চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহায়তা পাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনার শক্তিশালী দিক, ঘাটতি ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে সহায়তা করাই এ স্কোরকার্ডের উদ্দেশ্য।

পাশাপাশি, বিভিন্ন দেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রতিশ্রুতিতে স্বাস্থ্যকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা তুলনা করার সুযোগ তৈরি করে এটি। জিসিএইচএ বিশ্বের ৩০০টির বেশি স্বাস্থ্য পেশাজীবী সংগঠন, স্বাস্থ্যবিষয়ক নাগরিক সমাজের সংগঠন ও নেটওয়ার্কের একটি জোট। জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যগত ক্ষতি কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনের ফলে স্বাস্থ্য খাতে পাওয়া সুফল বাড়াতে কাজ করে সংগঠনটি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

রায়পুরে প্রবাসী দম্পতিকে জিম্মি করে মারধর, কৃষকদল নেতা আটক

জলবায়ু-স্বাস্থ্য পরিকল্পনায় বাংলাদেশের প্রাপ্ত স্কোর ১৩

Update Time : 10:50:26 pm, Monday, 19 October 2026

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্বাস্থ্যগত সুফল বিবেচনায় ৩২-এর মধ্যে ১৩ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে জলবায়ু ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কার্যক্রমের অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে কোনো পয়েন্ট পায়নি দেশটি।

অর্থাৎ জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও তা বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে। গ্লোবাল ক্লাইমেট অ্যান্ড হেলথ অ্যালায়েন্সের (জিসিএইচএ) প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘হেলদি এনডিসি স্কোরকার্ডে’ এ তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে ১৩২টি দেশের ১১৭টি জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা আটটি বিভাগে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

মূল্যায়নে স্বাস্থ্যগত সহ-সুফলের স্বীকৃতিতে ৪-এর মধ্যে ৪ এবং স্বাস্থ্য খাতের কার্যক্রমে ৪-এর মধ্যে ৩ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। বায়ুদূষণ ও সমন্বিত শাসনব্যবস্থায় পেয়েছে ২ পয়েন্ট করে। স্বাস্থ্যগত প্রভাব এবং ন্যায়সংগত রূপান্তরে পেয়েছে ১ পয়েন্ট করে। তবে অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে শূন্য স্কোর দেশের জলবায়ু-স্বাস্থ্যবিষয়ক প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

স্কোরকার্ডে বাংলাদেশের সমান ১৩ পয়েন্ট পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ইন্দোনেশিয়ার স্কোর ১১ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১২। সর্বোচ্চ ২৯ পয়েন্ট পেয়ে প্রথম স্থানে রয়েছে কলম্বিয়া। নাইজেরিয়া ২৫ এবং কম্বোডিয়া ২৪ পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে জাপান, ভারত ও নিউজিল্যান্ড পেয়েছে মাত্র ২ পয়েন্ট করে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া ২০টি দেশের মধ্যে ১৯টিই নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশ।

প্যারিস জলবায়ু চুক্তির আওতায় দেশগুলো জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পরিকল্পনা জমা দেয়। বাংলাদেশের পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই পরিবেশের অধিকার স্বীকার করা হয়েছে। জাতীয় জলবায়ু কার্যক্রমে জনস্বাস্থ্যকে গুরুত্ব দিতে বিভিন্ন খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।

পরিকল্পনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, রোগের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে আগাম পরামর্শসেবা চালু এবং জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ রয়েছে। চিকিৎসাশিক্ষার পাঠ্যক্রম ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণেও জলবায়ু ও স্বাস্থ্যবিষয়ক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের পরিবেশগত প্রভাব কমাতে চিকিৎসাবর্জ্য পোড়ানো ছাড়া অন্য পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনা, হাসপাতালে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন এবং জ্বালানি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদ্যমান সরকারি ভবন, প্রতিষ্ঠান, বিদ্যালয় ও হাসপাতালের ৫০ শতাংশে এবং নতুন এসব স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া পরিবহন, কৃষি, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জলবায়ুবান্ধব উদ্যোগের স্বাস্থ্যগত সুফল তুলে ধরা হয়েছে। হাঁটা ও সাইকেল চালানো উৎসাহিত করা, জলবায়ু সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য বজায় রাখা এবং পুষ্টির মান উন্নয়নের বিষয়গুলোও রয়েছে পরিকল্পনায়।

পয়ঃনিষ্কাশন, কঠিন বর্জ্য ও পানি সরবরাহসেবা থেকে নির্গমন কমানোর মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বিশেষ করে শিশু ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বন্যা ও চরম আবহাওয়ার সময় এবং পরে পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমাতে সহনশীল পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও রয়েছে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে বায়ুদূষণ কমানো এবং পরিচ্ছন্ন রান্নার ব্যবস্থা উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে শিশুদের শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্য সুরক্ষায়। পাশাপাশি, ন্যায়সংগত জ্বালানি রূপান্তরের ক্ষেত্রে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘স্টেট অব গ্লোবাল এয়ারে’র তথ্য উদ্ধৃত করে স্কোরকার্ডে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ২৫৯ দশমিক ২ জন।

বায়ুদূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন— দুই ক্ষেত্রেই মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনঝুঁকিতে রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন জিসিএইচএর নির্বাহী পরিচালক ডা. জেনি মিলার। তিনি বলেন, ‘সরকারগুলোকে বুঝতে হবে, কার্যকর জলবায়ু পদক্ষেপের জন্য বায়ুর মান উন্নত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, উভয় ক্ষেত্রেই মানুষের স্বাস্থ্য ও জীবনঝুঁকির মুখে রয়েছে।

’ বৈশ্বিক মূল্যায়নে জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্যারিস চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সহায়তা পাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নীতিনির্ধারকদের জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনার শক্তিশালী দিক, ঘাটতি ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে সহায়তা করাই এ স্কোরকার্ডের উদ্দেশ্য।

পাশাপাশি, বিভিন্ন দেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার প্রতিশ্রুতিতে স্বাস্থ্যকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা তুলনা করার সুযোগ তৈরি করে এটি। জিসিএইচএ বিশ্বের ৩০০টির বেশি স্বাস্থ্য পেশাজীবী সংগঠন, স্বাস্থ্যবিষয়ক নাগরিক সমাজের সংগঠন ও নেটওয়ার্কের একটি জোট। জলবায়ু পরিবর্তনের স্বাস্থ্যগত ক্ষতি কমানো এবং জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনের ফলে স্বাস্থ্য খাতে পাওয়া সুফল বাড়াতে কাজ করে সংগঠনটি।