আজ সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে যে ১০ দফা সুপারিশ দিল এডিটরস কাউন্সিল

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:29:32 pm, Monday, 19 October 2026
  • 7

সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে যে ১০ দফা সুপারিশ দিল এডিটরস কাউন্সিল

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ থেকে ২৬(ক) ধারা বাদ দেওয়াসহ গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষায় ১০ দফা সুপারিশ করেছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)।

সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এসব সুপারিশ তুলে ধরে। এনইসির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের যুগে রাষ্ট্র ও নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর সাইবার সুরক্ষা আইন প্রয়োজন।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বাইরে অন্য কোনো সংস্থা বা বাহিনীকে এ আইনের অধীনে ক্ষমতা দেওয়া উচিত নয়। তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল বা আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার সুপারিশও করেছে সংগঠনটি।

এনইসির মতে, সাইবার সুরক্ষা আইনে মানহানির বিধান যুক্ত করা হলে এর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় পেনাল কোডে বিদ্যমান বিধান থাকায় নতুন করে এ আইনে মানহানি অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে সাইবার বুলিংয়ের সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্য প্রচারসংক্রান্ত প্রস্তাবিত ২৬(ক) ধারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে এনইসি। এ ছাড়া ৪১ নম্বর ধারা থেকে ২৬(ক) ধারার উল্লেখ বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২৯ নম্বর ধারায় কোম্পানির নিবন্ধন স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবিত বিধান প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় এ বিধান ব্যবহার করে গণমাধ্যমের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে অর্থদণ্ডের বিধান রাখা যেতে পারে।

সাংবাদিকতা ও বৈধ মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষায় আইনে সুস্পষ্ট বিধান রাখা, সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে বিচারিক অনুমোদন নিশ্চিত করা এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাইবার অপরাধের বিচারের প্রস্তাবিত বিধান বাতিলেরও সুপারিশ করেছে এনইসি।

বিবৃতিতে সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, মহান জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার এমন কোনো আইন প্রণয়ন করবে না, যা গণমাধ্যম ও জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সাইবার সুরক্ষা আইন নিয়ে যে ১০ দফা সুপারিশ দিল এডিটরস কাউন্সিল

Update Time : 06:29:32 pm, Monday, 19 October 2026

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ থেকে ২৬(ক) ধারা বাদ দেওয়াসহ গণমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সুরক্ষায় ১০ দফা সুপারিশ করেছে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)।

সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এসব সুপারিশ তুলে ধরে। এনইসির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশের যুগে রাষ্ট্র ও নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাকস্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় কার্যকর সাইবার সুরক্ষা আইন প্রয়োজন।

বিবৃতিতে বলা হয়, নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বাইরে অন্য কোনো সংস্থা বা বাহিনীকে এ আইনের অধীনে ক্ষমতা দেওয়া উচিত নয়। তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল বা আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করার সুপারিশও করেছে সংগঠনটি।

এনইসির মতে, সাইবার সুরক্ষা আইনে মানহানির বিধান যুক্ত করা হলে এর অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় পেনাল কোডে বিদ্যমান বিধান থাকায় নতুন করে এ আইনে মানহানি অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে সাইবার বুলিংয়ের সংজ্ঞা সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্য প্রচারসংক্রান্ত প্রস্তাবিত ২৬(ক) ধারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে এনইসি। এ ছাড়া ৪১ নম্বর ধারা থেকে ২৬(ক) ধারার উল্লেখ বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ২৯ নম্বর ধারায় কোম্পানির নিবন্ধন স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবিত বিধান প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় এ বিধান ব্যবহার করে গণমাধ্যমের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে অর্থদণ্ডের বিধান রাখা যেতে পারে।

সাংবাদিকতা ও বৈধ মতপ্রকাশের অধিকার সুরক্ষায় আইনে সুস্পষ্ট বিধান রাখা, সাংবাদিকের পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে বিচারিক অনুমোদন নিশ্চিত করা এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাইবার অপরাধের বিচারের প্রস্তাবিত বিধান বাতিলেরও সুপারিশ করেছে এনইসি।

বিবৃতিতে সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, মহান জুলাই বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার এমন কোনো আইন প্রণয়ন করবে না, যা গণমাধ্যম ও জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করে।