আজ সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে স্বপ্নপূরণের অপেক্ষায় বাংলাদেশিরা

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:28:04 am, Monday, 19 October 2026
  • 12

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে স্বপ্নপূরণের অপেক্ষায় বাংলাদেশিরা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বিদেশের মাটিতে পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ। কারো লক্ষ্য সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো, কারো পাকা বাড়ি তৈরি করা, আবার কারো দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা লাঘব করা।

সেই স্বপ্নের সঙ্গে বহু বছর ধরে জড়িয়ে আছে মালয়েশিয়ার নাম। কিন্তু বন্ধ শ্রমবাজার, নিয়োগের অনিশ্চয়তা আর বিদেশযাত্রার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বাস্তবতা অনেকের স্বপ্নকে আটকে রেখেছিল অপেক্ষার ঘরে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার নতুন আশার খবর এসেছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়া।

একই সঙ্গে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশের ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি। ১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে আশার এই দুয়ার খুললেও এখনো পেরোতে হবে কয়েকটি ধাপ। কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা ও বিএমইটি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই বাস্তবে বিদেশযাত্রার সুযোগ তৈরি হবে।

এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া নতুন ব্যবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি প্রশাসনিক সহায়তা দেবে। অন্যদিকে ৩১২টি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ, কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

কর্মী নির্বাচনের পর বোয়েসেলসহ তালিকাভুক্ত প্রসেসিং এজেন্সিগুলো অনাপত্তিপত্র, কলিং ভিসা ও ই-ভিসাসংক্রান্ত কাজে সহায়তা করবে। এরপর জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে কর্মীরা মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সরকারের প্রত্যাশা, এ ব্যবস্থায় বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির অংশগ্রহণ বাড়বে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে।

তবে তালিকাভুক্ত হলেই কোনো এজেন্সির হাতে নিশ্চিত চাকরি রয়েছে, এমন নয়। প্রকৃত নিয়োগের জন্য বৈধ নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকতে হবে। জিরো কস্টে ১০ হাজার কর্মী, কতটা বাস্তবায়নযোগ্য? নতুন উদ্যোগের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলোÑ ১০ হাজার কর্মীকে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগের বিষয়ে মালয়েশিয়ার নীতিগত সম্মতি। বিদেশে যেতে অনেক কর্মীকে ঋণ নিতে হয়, জমি বিক্রি করতে হয় কিংবা পরিবারের সঞ্চয় ব্যয় করতে হয়।

ফলে জিরো কস্ট ব্যবস্থা কার্যকর হলে কর্মী ও তাদের পরিবারের আর্থিক চাপ কমতে পারে। তবে নীতিগত সম্মতি আর বাস্তবে বিনা খরচে বিদেশযাত্রা এক বিষয় নয়। বিমানভাড়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা ও অন্যান্য নিয়োগসংক্রান্ত ব্যয় কে বহন করবে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ১০ হাজার কর্মী কীভাবে নির্বাচিত হবেন, কোন পেশার কর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন এবং আবেদনপ্রক্রিয়া কখন শুরু হবে, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রয়োজন।

অতীতে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দালালের দৌরাত্ম্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৪ সালে নতুন কর্মী প্রবেশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকের বিদেশযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই এবার শুধু শ্রমবাজার চালু করাই যথেষ্ট নয়; নিয়োগের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। জিরো কস্টের সুযোগ নিশ্চিত করার নামে কেউ টাকা দাবি করলে কর্মীদের তা যাচাই করতে হবে।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভিসার অপেক্ষা মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করবে। এরপর নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

প্রাথমিকভাবে মালয়েশিয়ার নির্ধারিত ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত কেন্দ্রগুলোর মধ্য থেকে বিতর্কিত ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো একটি কেন্দ্রকে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এই পর্যায়ে কর্মীদের সতর্ক থাকা জরুরি।

অনুমোদিত এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারের তথ্য যাচাই, লিখিত চাকরির প্রস্তাব বুঝে নেওয়া এবং বেতন ও কাজের শর্ত নিশ্চিত না করে অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। কারণ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে কর্মীদের আর্থিক ঝুঁকি বাড়তে পারে। এবার চাই নিরাপদ যাত্রা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা হাজারো মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির অংশগ্রহণ এবং ১০ হাজার কর্মীকে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগের নীতিগত সম্মতি সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে। কিন্তু এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে কর্মীরা কত দ্রুত, কতটা নিরাপদে এবং কী পরিমাণ ব্যয়ে বিদেশে যেতে পারছেন, তার ওপর। সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলোÑ জিরো কস্টের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা।

একই সঙ্গে দুই দেশের প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়োগকর্তার চাহিদা, কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভিসার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। বিদেশে কাজের স্বপ্ন শুধু একটি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং ঋণমুক্ত জীবনের প্রত্যাশা। তাই বন্ধ দুয়ার খুলে যাওয়ার পর সবচেয়ে জরুরি হলোÑ সেই পথকে নিরাপদ করা।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের নতুন যাত্রা তখনই সত্যিকার অর্থে সফল হবে, যখন কর্মীরা প্রতারণা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা ছাড়াই মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজেদের স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যেতে পারবেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ইসলামী ব্যাংকের শরিয়া সুপারভাইজরি কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার ঘিরে স্বপ্নপূরণের অপেক্ষায় বাংলাদেশিরা

Update Time : 04:28:04 am, Monday, 19 October 2026

বিদেশের মাটিতে পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেন বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ। কারো লক্ষ্য সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালানো, কারো পাকা বাড়ি তৈরি করা, আবার কারো দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা লাঘব করা।

সেই স্বপ্নের সঙ্গে বহু বছর ধরে জড়িয়ে আছে মালয়েশিয়ার নাম। কিন্তু বন্ধ শ্রমবাজার, নিয়োগের অনিশ্চয়তা আর বিদেশযাত্রার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বাস্তবতা অনেকের স্বপ্নকে আটকে রেখেছিল অপেক্ষার ঘরে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এবার নতুন আশার খবর এসেছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রথম ধাপে ১০ হাজার কর্মীকে সম্পূর্ণ বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়া।

একই সঙ্গে দেশটিতে কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশের ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি। ১৫ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে আশার এই দুয়ার খুললেও এখনো পেরোতে হবে কয়েকটি ধাপ। কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা ও বিএমইটি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই বাস্তবে বিদেশযাত্রার সুযোগ তৈরি হবে।

এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া নতুন ব্যবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি প্রশাসনিক সহায়তা দেবে। অন্যদিকে ৩১২টি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ, কর্মী নির্বাচন ও নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

কর্মী নির্বাচনের পর বোয়েসেলসহ তালিকাভুক্ত প্রসেসিং এজেন্সিগুলো অনাপত্তিপত্র, কলিং ভিসা ও ই-ভিসাসংক্রান্ত কাজে সহায়তা করবে। এরপর জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে কর্মীরা মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাবেন। সরকারের প্রত্যাশা, এ ব্যবস্থায় বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির অংশগ্রহণ বাড়বে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে।

তবে তালিকাভুক্ত হলেই কোনো এজেন্সির হাতে নিশ্চিত চাকরি রয়েছে, এমন নয়। প্রকৃত নিয়োগের জন্য বৈধ নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন থাকতে হবে। জিরো কস্টে ১০ হাজার কর্মী, কতটা বাস্তবায়নযোগ্য? নতুন উদ্যোগের সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলোÑ ১০ হাজার কর্মীকে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগের বিষয়ে মালয়েশিয়ার নীতিগত সম্মতি। বিদেশে যেতে অনেক কর্মীকে ঋণ নিতে হয়, জমি বিক্রি করতে হয় কিংবা পরিবারের সঞ্চয় ব্যয় করতে হয়।

ফলে জিরো কস্ট ব্যবস্থা কার্যকর হলে কর্মী ও তাদের পরিবারের আর্থিক চাপ কমতে পারে। তবে নীতিগত সম্মতি আর বাস্তবে বিনা খরচে বিদেশযাত্রা এক বিষয় নয়। বিমানভাড়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসা ও অন্যান্য নিয়োগসংক্রান্ত ব্যয় কে বহন করবে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ১০ হাজার কর্মী কীভাবে নির্বাচিত হবেন, কোন পেশার কর্মীরা অগ্রাধিকার পাবেন এবং আবেদনপ্রক্রিয়া কখন শুরু হবে, সে বিষয়েও আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা প্রয়োজন।

অতীতে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, দালালের দৌরাত্ম্য ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৪ সালে নতুন কর্মী প্রবেশ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকের বিদেশযাত্রা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। তাই এবার শুধু শ্রমবাজার চালু করাই যথেষ্ট নয়; নিয়োগের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। জিরো কস্টের সুযোগ নিশ্চিত করার নামে কেউ টাকা দাবি করলে কর্মীদের তা যাচাই করতে হবে।

স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভিসার অপেক্ষা মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করবে। এরপর নতুন নীতিমালা অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার কথা।

প্রাথমিকভাবে মালয়েশিয়ার নির্ধারিত ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত কেন্দ্রগুলোর মধ্য থেকে বিতর্কিত ও অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বাদ দিয়ে কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো একটি কেন্দ্রকে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এই পর্যায়ে কর্মীদের সতর্ক থাকা জরুরি।

অনুমোদিত এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারের তথ্য যাচাই, লিখিত চাকরির প্রস্তাব বুঝে নেওয়া এবং বেতন ও কাজের শর্ত নিশ্চিত না করে অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। কারণ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে কর্মীদের আর্থিক ঝুঁকি বাড়তে পারে। এবার চাই নিরাপদ যাত্রা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা হাজারো মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সির অংশগ্রহণ এবং ১০ হাজার কর্মীকে বিনা অভিবাসন ব্যয়ে নিয়োগের নীতিগত সম্মতি সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলেছে। কিন্তু এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ভর করবে কর্মীরা কত দ্রুত, কতটা নিরাপদে এবং কী পরিমাণ ব্যয়ে বিদেশে যেতে পারছেন, তার ওপর। সরকারের সামনে এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হলোÑ জিরো কস্টের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা।

একই সঙ্গে দুই দেশের প্রশাসনিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়োগকর্তার চাহিদা, কর্মী নির্বাচন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভিসার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। বিদেশে কাজের স্বপ্ন শুধু একটি চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং ঋণমুক্ত জীবনের প্রত্যাশা। তাই বন্ধ দুয়ার খুলে যাওয়ার পর সবচেয়ে জরুরি হলোÑ সেই পথকে নিরাপদ করা।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারের নতুন যাত্রা তখনই সত্যিকার অর্থে সফল হবে, যখন কর্মীরা প্রতারণা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা ছাড়াই মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজেদের স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যেতে পারবেন।