আজ রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

৩০-৩৫ জন ধেয়ে আসায় অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:22:57 pm, Sunday, 18 October 2026
  • 19

৩০-৩৫ জন ধেয়ে আসায় অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নিজের নির্বাচনী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এই সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, গতকাল শনিবার গেন্ডারিয়া এলাকায় অভিযানের সময় ৩০-৩৫ জন ব্যক্তি তার দিকে ধেয়ে আসছিলেন।

তাই আত্মরক্ষায় নিজের সঙ্গে থাকা বৈধ অস্ত্রটি উঁচিয়ে ধরেন তিনি। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে আজ রবিবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এক বিবৃতিতে এই দাবি করেন ইশরাক। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভায়ও স্থান পান তিনি।

গতকাল শনিবার প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের একাধিক ছবি-ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। এই অভিযান রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকার। অভিযানের পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অস্ত্রকাণ্ডে খোঁচা দিয়েছেন ইশরাককে। তিনি নিজের ফেসুবকে লিখেছেন, ‘আসিফ মাহমুদের অস্ত্রটা কি এখন ইশরাক ভাইয়ের কাছে নাকি?

’ সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক দাবি করেছেন, হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তার দাবি, ঘটনাটির কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ও ছবি প্রচার করে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট আড়াল করা হচ্ছে। ইশরাক হোসেনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি ১৭ অক্টোবর ওই এলাকায় যান। ইশরাক হোসেনের দাবি, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তার নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল।

মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে আকস্মিক গুলি চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা জানানো হয়। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করতে করতে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। তখন হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।

তার দাবি, সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার জন্যই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অপরাধে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা আলামতসহ তাদের গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা নিজের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বলে উল্লেখ করেছেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। তার ভাষ্য, একটি ঘটনাকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন থামানো যাবে না। জনস্বার্থে মাদকের আস্তানা উচ্ছেদের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ভেড়ামারায় নতুন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার যোগদান

৩০-৩৫ জন ধেয়ে আসায় অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

Update Time : 02:22:57 pm, Sunday, 18 October 2026

নিজের নির্বাচনী এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় অস্ত্র প্রদর্শনের ব্যাখ্যা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এই সংসদ সদস্য দাবি করেছেন, গতকাল শনিবার গেন্ডারিয়া এলাকায় অভিযানের সময় ৩০-৩৫ জন ব্যক্তি তার দিকে ধেয়ে আসছিলেন।

তাই আত্মরক্ষায় নিজের সঙ্গে থাকা বৈধ অস্ত্রটি উঁচিয়ে ধরেন তিনি। প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে আজ রবিবার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এক বিবৃতিতে এই দাবি করেন ইশরাক। অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রিসভায়ও স্থান পান তিনি।

গতকাল শনিবার প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক পেজে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের একাধিক ছবি-ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। এই অভিযান রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকার। অভিযানের পোস্ট প্রকাশের পর থেকেই শুরু হয় সমালোচনা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অস্ত্রকাণ্ডে খোঁচা দিয়েছেন ইশরাককে। তিনি নিজের ফেসুবকে লিখেছেন, ‘আসিফ মাহমুদের অস্ত্রটা কি এখন ইশরাক ভাইয়ের কাছে নাকি?

’ সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক দাবি করেছেন, হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা আত্মরক্ষার্থে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তার দাবি, ঘটনাটির কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও ও ছবি প্রচার করে পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট আড়াল করা হচ্ছে। ইশরাক হোসেনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গেন্ডারিয়ার ঘণ্টিঘর, মুন্সিটেক, করাতিটোলা ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের বিস্তার নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ পেয়ে আসছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতাদের যৌথ সিদ্ধান্তে সাধারণ নাগরিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে সমন্বিত সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই তিনি ১৭ অক্টোবর ওই এলাকায় যান। ইশরাক হোসেনের দাবি, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্র থেকে তার নিরাপত্তাঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছিল।

মাদক কারবারিরা ভবনের ছাদ থেকে আকস্মিক গুলি চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা জানানো হয়। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, কর্মসূচি চলাকালে একটি অস্থায়ী আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি হইচই করতে করতে তাঁদের গাড়িবহরের দিকে মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসেন। তখন হামলার আশঙ্কায় তিনি ও তাঁর সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন।

তার দাবি, সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কেটে যাওয়ার পরপরই অস্ত্রটি যথাস্থানে রাখা হয়। ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি বৈধ লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং আত্মরক্ষার জন্যই তা প্রদর্শন করা হয়েছিল বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অপরাধে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। জব্দ করা আলামতসহ তাদের গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করা নিজের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার বলে উল্লেখ করেছেন ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। তার ভাষ্য, একটি ঘটনাকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন থামানো যাবে না। জনস্বার্থে মাদকের আস্তানা উচ্ছেদের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।