নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের তহবিল থেকে ১৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পরিষদের সচিব মো. মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন, বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা অর্থ ব্যাংকে জমা না দেওয়া এবং ব্যাংকে অর্থ জমার স্লিপে জালিয়াতির অভিযোগ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখিত অভিযোগ পেয়ে সচিবকে তলব ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগপত্র জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউএনও। তবে স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সচিব। তিনি দাবি করেন, তার কাছে থাকা কিছু টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিয়েছেন। চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিল থেকে ভ্যাট-ট্যাক্স বাবদ ৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা এবং সাধারণ তহবিল থেকে ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে উত্তোলন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি ও বিভিন্ন খাত থেকে আদায় করা ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগ করা হয়েছে মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগে উল্লেখ করা তিনটি খাতের অর্থের পরিমাণ যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ১৫ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এসব অর্থের লেনদেন ও হিসাব নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, অর্থের প্রকৃত হিসাব নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন চেয়ারম্যান।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের ব্যাংক হিসাব থেকে একাধিকবার টাকা উত্তোলন করা হলেও বিষয়টি চেয়ারম্যানের জানা ছিল না। পরে সোনালী ব্যাংকের কলমাকান্দা শাখা থেকে পরিষদের ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করার পর বিভিন্ন লেনদেনে অসংগতি তার নজরে আসে। এরপর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে অর্থ উত্তোলন, ব্যাংকে টাকা জমা না দেওয়া এবং স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন তিনি।
চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘সোনালী ব্যাংকের কলমাকান্দা শাখা থেকে পরিষদের ব্যাংক হিসাবের স্টেটমেন্ট হাতে পাওয়ার পর বিষয়টি জানতে পারি। ব্যাংক স্টেটমেন্ট না নিলে এত টাকা সরানোর বিষয়টি জানতেই পারতাম না। ’ চেয়ারম্যানের বলেন, দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকায় অনেক সময় আর্থিক লেনদেন ও দাপ্তরিক কার্যক্রমের জন্য সচিবের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে।
সেই সুযোগে আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ। প্রথমে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে জানানোর পর লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাব, উত্তোলনসংক্রান্ত কাগজপত্র, জমার স্লিপ ও পরিষদের আর্থিক নথি যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন চেয়ারম্যান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. মজিবুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।
তবে তার কাছে কিছু টাকা ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি। ইউএনওর দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই টাকা জমা দিয়েছেন বলেও দাবি করেন সচিব। তার কাছে কত টাকা ছিল, কোন খাতের সেই অর্থ এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কত টাকা জমা দিয়েছেন—জানতে চাইলে নথিপত্র দেখে পরে জানাবেন বলে জানান তিনি। ফলে তার কাছে থাকা অর্থের পরিমাণ, অর্থের উৎস এবং টাকা জমা দেওয়ার দাবির পক্ষে কী নথি রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এন. এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘চেয়ারম্যানের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর সচিব মজিবুর রহমানকে তলব করা হয়েছে। সচিব প্রাথমিকভাবে তার কাছে কিছু টাকা রয়েছে বলে জানিয়েছেন। পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অভিযোগপত্রটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।






















