আজ বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৮%

চট্টগ্রামে ঋণ জালিয়াতি মামলায় ব্যবসায়ীর ১৬ বছরের কারাদণ্ড

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:51:08 pm, Tuesday, 13 October 2026
  • 18

চট্টগ্রামে ঋণ জালিয়াতি মামলায় ব্যবসায়ীর ১৬ বছরের কারাদণ্ড

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নগরের কোতোয়ালী থানার জাল স্বাক্ষরে ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার মামলায় মোহাম্মদ শাহ আলম নামে এক ব্যবসায়ীকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় দেন।

দুদকের পিপি মোকাররম হোসেন বলেন, সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে জাল স্বাক্ষরে ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাহ আলমকে ৪২০ ধারায় তিন বছর, ৪৬৭ ধারায় পাঁচ বছর, ৪৬৮ ধারায় তিন বছর এবং ৪৭১ ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রমসহ মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তবে সব ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হবে। রায়ের সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। সাজা পরোয়ানা মূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার অভিযোগে বলা হয়, শাহ আলম ও তাঁর ছেলে এস এম পারভেজ আলম তিন সহোদরের স্বাক্ষর জাল করে ২০০৪ সালে চারটি ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করেন।

এসব গ্যারান্টিনামায় প্রত্যেকের নামে ২৫ কোটি টাকা প্রদর্শন করা হয়। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে এসব নথি ব্যবহার করে ২০১২ সালে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শাখা থেকে পাঁচটি এলটিআর ও একটি সিসি (হাইপো) ঋণ সুবিধার বিপরীতে ২৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৮২ টাকা ঋণ নেন তাঁরা। অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণ নেওয়ার পর মাত্র ৮ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৮ টাকা পরিশোধ করা হয়।

২০১৪ সালের ১১ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ১৪ হাজার ৭১২ টাকা। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক এইচ. এম. আখতারুজ্জামান ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দিলে ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসে যেভাবে আয় করবেন

চট্টগ্রামে ঋণ জালিয়াতি মামলায় ব্যবসায়ীর ১৬ বছরের কারাদণ্ড

Update Time : 11:51:08 pm, Tuesday, 13 October 2026

নগরের কোতোয়ালী থানার জাল স্বাক্ষরে ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার মামলায় মোহাম্মদ শাহ আলম নামে এক ব্যবসায়ীকে ১৬ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় দেন।

দুদকের পিপি মোকাররম হোসেন বলেন, সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে জাল স্বাক্ষরে ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শাহ আলমকে ৪২০ ধারায় তিন বছর, ৪৬৭ ধারায় পাঁচ বছর, ৪৬৮ ধারায় তিন বছর এবং ৪৭১ ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রমসহ মোট ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তবে সব ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাভোগ করতে হবে। রায়ের সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। সাজা পরোয়ানা মূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার অভিযোগে বলা হয়, শাহ আলম ও তাঁর ছেলে এস এম পারভেজ আলম তিন সহোদরের স্বাক্ষর জাল করে ২০০৪ সালে চারটি ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করেন।

এসব গ্যারান্টিনামায় প্রত্যেকের নামে ২৫ কোটি টাকা প্রদর্শন করা হয়। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে এসব নথি ব্যবহার করে ২০১২ সালে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে প্রিমিয়ার ব্যাংকের শাখা থেকে পাঁচটি এলটিআর ও একটি সিসি (হাইপো) ঋণ সুবিধার বিপরীতে ২৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৮২ টাকা ঋণ নেন তাঁরা। অভিযোগ অনুযায়ী, ঋণ নেওয়ার পর মাত্র ৮ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৮ টাকা পরিশোধ করা হয়।

২০১৪ সালের ১১ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ১৪ হাজার ৭১২ টাকা। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক এইচ. এম. আখতারুজ্জামান ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাদী হয়ে নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দিলে ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।