আজ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
২৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৭°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

কক্সবাজারে ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বকগুলো অবমুক্ত করা হয়েছে

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:49:23 pm, Tuesday, 13 October 2026
  • 22

কক্সবাজারে ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বকগুলো অবমুক্ত করা হয়েছে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

শিকারির পাতা ফাঁদে আটকে বন্দিদশায় পড়েছিল বকগুলো। পরে বন বিভাগের অভিযানে উদ্ধার করা হয় পাখিগুলো। এবার আদালতের আদেশে খাঁচাবন্দি জীবন পেরিয়ে আবারও মুক্ত আকাশে ডানা মেলেছে বক। কক্সবাজারের উখিয়ার মাছকারিয়া বিল থেকে ফাঁদে আটকানো বক উদ্ধারের পর ১৩ অক্টোবর বিকেলে বাকখালী নদীর মোহনায় সেগুলো অবমুক্ত করা হয়।

ফাঁদ পেতে পাখি শিকারের ঘটনায় একজন শিকারিসহ বকগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগ। পরে উদ্ধার করা পাখি ও অভিযুক্ত শিকারিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বন আদালত, কক্সবাজারের আদেশে বকগুলো প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বন মামলা পরিচালক টিএম আলী নওয়াজ, উত্তর বন বিভাগের বন মামলা পরিচালক আকরাম হোসেন, বন আদালতের প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন এবং ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা কুদ্দুসুর রহমানসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা।

প্রাকৃতিক জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার মাছকারিয়া বিল। বিশেষ করে শীত মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আগমনে মুখর হয়ে ওঠে বিলটি। কিন্তু নির্বিচারে ফাঁদ পেতে পাখি শিকারের কারণে হুমকির মুখে পড়ছে পাখির নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের স্বাভাবিক ভারসাম্যও। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযান চালিয়ে পাখি উদ্ধার ও শিকারের ফাঁদ ধ্বংস করার পাশাপাশি শিকারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

একই সঙ্গে পাখি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং শিকার করা পাখি কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্যথায়, বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে পাখি শিকারের প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে। পরিবেশসচেতন মহলের মতে, মাছকারিয়া বিলকে পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে টিকিয়ে রাখতে বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি জোরদার করতে হবে।

পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং পাখি শিকার ও বেচাকেনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রকৃতির এই নীরব বাসিন্দাদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করা গেলে রক্ষা পাবে জলাভূমির জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য। এর আগে, মাছকারিয়া বিলে অভিযান চালিয়ে ৫০০ ফুট বক ধরার ফাঁদটার. জব্দ করা হয়েছে। এই সময় শতাধিক পাখি শিকারের ঘর ও আনুমানিক ১০০০ ককসিটের তৈরি নকল বক ধ্বংস করেছে বনবিভাগ।

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন বিট কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান রনি, থাইংখালী বিট কর্মকর্তা আরাফাত মাহমুদ, মোচারখোলা বিট কর্মকর্তা দীপক চাকমা এবং রাজাপালং বিট কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান। এ ছাড়া অভিযানে উখিয়া রেঞ্জের সব বিটের কর্মী ও ইআরটি সদস্যরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ড. ইউনূসকে হেনস্তার দায় খলিলুরকে নিতে হবে: নাহিদ

কক্সবাজারে ফাঁদ থেকে উদ্ধার হওয়া বকগুলো অবমুক্ত করা হয়েছে

Update Time : 09:49:23 pm, Tuesday, 13 October 2026

শিকারির পাতা ফাঁদে আটকে বন্দিদশায় পড়েছিল বকগুলো। পরে বন বিভাগের অভিযানে উদ্ধার করা হয় পাখিগুলো। এবার আদালতের আদেশে খাঁচাবন্দি জীবন পেরিয়ে আবারও মুক্ত আকাশে ডানা মেলেছে বক। কক্সবাজারের উখিয়ার মাছকারিয়া বিল থেকে ফাঁদে আটকানো বক উদ্ধারের পর ১৩ অক্টোবর বিকেলে বাকখালী নদীর মোহনায় সেগুলো অবমুক্ত করা হয়।

ফাঁদ পেতে পাখি শিকারের ঘটনায় একজন শিকারিসহ বকগুলো উদ্ধার করে বন বিভাগ। পরে উদ্ধার করা পাখি ও অভিযুক্ত শিকারিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, বন আদালত, কক্সবাজারের আদেশে বকগুলো প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বন মামলা পরিচালক টিএম আলী নওয়াজ, উত্তর বন বিভাগের বন মামলা পরিচালক আকরাম হোসেন, বন আদালতের প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন এবং ফুলছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা কুদ্দুসুর রহমানসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা।

প্রাকৃতিক জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার মাছকারিয়া বিল। বিশেষ করে শীত মৌসুমে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আগমনে মুখর হয়ে ওঠে বিলটি। কিন্তু নির্বিচারে ফাঁদ পেতে পাখি শিকারের কারণে হুমকির মুখে পড়ছে পাখির নিরাপদ বিচরণক্ষেত্র। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের স্বাভাবিক ভারসাম্যও। সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযান চালিয়ে পাখি উদ্ধার ও শিকারের ফাঁদ ধ্বংস করার পাশাপাশি শিকারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

একই সঙ্গে পাখি কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা এবং শিকার করা পাখি কোথায় সরবরাহ করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অন্যথায়, বিচ্ছিন্ন অভিযান চালিয়ে পাখি শিকারের প্রবণতা পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন হবে। পরিবেশসচেতন মহলের মতে, মাছকারিয়া বিলকে পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে টিকিয়ে রাখতে বন বিভাগের নিয়মিত নজরদারি জোরদার করতে হবে।

পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং পাখি শিকার ও বেচাকেনা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রকৃতির এই নীরব বাসিন্দাদের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করা গেলে রক্ষা পাবে জলাভূমির জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য। এর আগে, মাছকারিয়া বিলে অভিযান চালিয়ে ৫০০ ফুট বক ধরার ফাঁদটার. জব্দ করা হয়েছে। এই সময় শতাধিক পাখি শিকারের ঘর ও আনুমানিক ১০০০ ককসিটের তৈরি নকল বক ধ্বংস করেছে বনবিভাগ।

উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নানের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন বিট কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান রনি, থাইংখালী বিট কর্মকর্তা আরাফাত মাহমুদ, মোচারখোলা বিট কর্মকর্তা দীপক চাকমা এবং রাজাপালং বিট কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান। এ ছাড়া অভিযানে উখিয়া রেঞ্জের সব বিটের কর্মী ও ইআরটি সদস্যরা।