আজ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
২৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৭°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

জনবল সংকটে সন্ধ্যার পর বন্ধ ঢাকার দুই হাসপাতালের জরুরি সেবা

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:43:58 am, Tuesday, 13 October 2026
  • 10

জনবল সংকটে সন্ধ্যার পর বন্ধ ঢাকার দুই হাসপাতালের জরুরি সেবা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সারি সারি বেড ফাঁকা পড়ে আছে। আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কাজে লাগছে না। গুরুতর অসুস্থ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েও রাতে থাকতে পারে না। এমন চিত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মহানগর জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতালের। বিশাল অবকাঠামো কিন্তু জনবল সংকটে মিলছে না সেবা। বছরের পর বছর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতাল দুটি।

পুরান ঢাকার নয়াবাজারের ১৫০ শয্যার মহানগর জেনারেল হাসপাতাল। বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নেন তিন শতাধিক রোগী। হাসপাতালটিতে রয়েছে রেডিওলজি, ডেন্টাল চেয়ারসহ ২১ ধরনের পরীক্ষার আধুনিক যন্ত্রপাতি। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও জনবল সংকটে পড়ে আছে অকেজো।

করোনার সময় স্থাপন করা হয় ৫টি আইসিইউ। ১২টি হাইফ্লো অক্সিজেন সরঞ্জাম যুক্ত করা হলেও ব্যবহার হয়নি একবারও। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২০ সালে হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে অথচ জনবল কমেছে দুই ভাগ।

ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. আশরাফুল হাসান, পর্যবেক্ষণ করবে ডাক্তারা। এখনও নার্সও নেই, ডাক্তারও নেই। রোগী ভর্তি করতে গিয়ে বিবেচনা করতে হচ্ছে এসব বিষয়।

ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা.সাকিলা খাতুন বিভা বলেন, প্যাথলজির যিনি; উনি অবসরে যাওয়ার পর আর একজনও আসেনি। অন্য আরেক ডিপার্টমেন্টেরও একই অবস্থা।

চকবাজারের ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতালের অবস্থাও করুণ। চিকিৎসক, নার্স সংকটে বন্ধ অপারেশন থিয়েটার, রোগ নির্ণয়ের সব পরীক্ষা। নিউমোনিয়া, জন্ডিস আক্রান্ত ভর্তি শিশুদেরও রাতে থাকার সুযোগ নেই। সন্ধ্যার পর জরুরি সেবাও বন্ধ।

চারতলা ভবনের ১০০ শয্যা সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ। শুধু বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি দিনে চার-পাঁচজন রোগীকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওয়ার্ডে রাখা হয়।

ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতালের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. হামিদা খাতুন বলেন, কনসালটেন্ট যারা ছিলেন, অবসরে চলে গেছেন। রাতের সেবা আমরা দিতে পারছি না। মেডিকেল অফিসার যারা ছিলেন; তাও পর্যাপ্ত নয়।

জটিল রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েও সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরতে হয় অনিশ্চয়তায়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়ায় অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় গ্যারেজ শ্রমিক নিহত

জনবল সংকটে সন্ধ্যার পর বন্ধ ঢাকার দুই হাসপাতালের জরুরি সেবা

Update Time : 11:43:58 am, Tuesday, 13 October 2026

সারি সারি বেড ফাঁকা পড়ে আছে। আধুনিক অপারেশন থিয়েটার ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কাজে লাগছে না। গুরুতর অসুস্থ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েও রাতে থাকতে পারে না। এমন চিত্র ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মহানগর জেনারেল হাসপাতাল ও ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতালের। বিশাল অবকাঠামো কিন্তু জনবল সংকটে মিলছে না সেবা। বছরের পর বছর খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে হাসপাতাল দুটি।

পুরান ঢাকার নয়াবাজারের ১৫০ শয্যার মহানগর জেনারেল হাসপাতাল। বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নেন তিন শতাধিক রোগী। হাসপাতালটিতে রয়েছে রেডিওলজি, ডেন্টাল চেয়ারসহ ২১ ধরনের পরীক্ষার আধুনিক যন্ত্রপাতি। অপারেশন থিয়েটার থাকলেও জনবল সংকটে পড়ে আছে অকেজো।

করোনার সময় স্থাপন করা হয় ৫টি আইসিইউ। ১২টি হাইফ্লো অক্সিজেন সরঞ্জাম যুক্ত করা হলেও ব্যবহার হয়নি একবারও। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০২০ সালে হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে অথচ জনবল কমেছে দুই ভাগ।

ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. আশরাফুল হাসান, পর্যবেক্ষণ করবে ডাক্তারা। এখনও নার্সও নেই, ডাক্তারও নেই। রোগী ভর্তি করতে গিয়ে বিবেচনা করতে হচ্ছে এসব বিষয়।

ঢাকা মহানগর জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা.সাকিলা খাতুন বিভা বলেন, প্যাথলজির যিনি; উনি অবসরে যাওয়ার পর আর একজনও আসেনি। অন্য আরেক ডিপার্টমেন্টেরও একই অবস্থা।

চকবাজারের ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতালের অবস্থাও করুণ। চিকিৎসক, নার্স সংকটে বন্ধ অপারেশন থিয়েটার, রোগ নির্ণয়ের সব পরীক্ষা। নিউমোনিয়া, জন্ডিস আক্রান্ত ভর্তি শিশুদেরও রাতে থাকার সুযোগ নেই। সন্ধ্যার পর জরুরি সেবাও বন্ধ।

চারতলা ভবনের ১০০ শয্যা সম্পূর্ণ তালাবদ্ধ। শুধু বহির্বিভাগে চিকিৎসা দেয়ার পাশাপাশি দিনে চার-পাঁচজন রোগীকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওয়ার্ডে রাখা হয়।

ঢাকা মহানগর শিশু হাসপাতালের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. হামিদা খাতুন বলেন, কনসালটেন্ট যারা ছিলেন, অবসরে চলে গেছেন। রাতের সেবা আমরা দিতে পারছি না। মেডিকেল অফিসার যারা ছিলেন; তাও পর্যাপ্ত নয়।

জটিল রোগ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েও সন্ধ্যার পর বাড়ি ফিরতে হয় অনিশ্চয়তায়।