আজ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৭°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

মারা গেছেন ষাটের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:18:00 pm, Sunday, 11 October 2026
  • 21

মারা গেছেন ষাটের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

যাটের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর (ইন্না লিল্লাহি… রাজিউন)।

তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান।

ষাটের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের যে কয়েকজন অভিনেত্রী নিজেদের অভিনয় দিয়ে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন, নাসিমা খান ছিলেন তাদের অন্যতম। বাংলা ভাষার পাশাপাশি উর্দু চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে কাজ করে চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নিজের অবস্থান তৈরি করেন এই অভিনেত্রী।

১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তার পৈতৃক বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামের উকিলবাড়িতে। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান। দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল ব্রিটিশ আমলে ঢাকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪০-এর দশকে লালবাগে বাড়ি নির্মাণের পর সেখানেই বসবাস শুরু করে তার পরিবার।

পরিবারের সম্মতি নিয়েই চলচ্চিত্রে পা রাখেন নাসিমা। অভিনয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল অভিনেতা আনিসের, যিনি খান আতা নামেও পরিচিত। নাসিমাদের বাড়ির কাছেই থাকতেন তিনি। নাসিমার বাবার সঙ্গে সুসম্পর্কের সুবাদে একসময় মেয়েকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন আনিস। বাবার সম্মতি পাওয়ার পরই অভিনয়ের জগতে যাত্রা শুরু হয় নাসিমার।

১৯৫৯ সালে এ জে কারদারের পরিচালনায় ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত সিনেমাটিতে সহনায়িকাদের একজন ছিলেন নাসিমা। ছবিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরস্কার অর্জন করে। একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু ছবি ‘তানহা’য় অভিনয় করেন তিনি। সিনেমাটিতে তার সহশিল্পী ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও লাহোরের অভিনেত্রী শামীম আরা।

এরপর ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নাসিমা খান। ছবিটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আনিস। এ সিনেমার পর ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রে পরিচিতি বাড়তে থাকে তার।

নাসিমা খানের অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’। এসব চলচ্চিত্রে বিভিন্ন সময়ে আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, মুস্তফা, আজিম ও হারুনের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন তিনি।

বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নাসিমা খান হয়ে উঠেছিলেন ঢাকার চলচ্চিত্রের প্রাথমিক সময়ের পরিচিত মুখ। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ফরিদপুরে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রবাসীর স্ত্রীর চুল কাটার ঘটনায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ

মারা গেছেন ষাটের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান

Update Time : 11:18:00 pm, Sunday, 11 October 2026

যাটের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর (ইন্না লিল্লাহি… রাজিউন)।

তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অভিনেতা সনি রহমান।

ষাটের দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের যে কয়েকজন অভিনেত্রী নিজেদের অভিনয় দিয়ে দর্শকের নজর কেড়েছিলেন, নাসিমা খান ছিলেন তাদের অন্যতম। বাংলা ভাষার পাশাপাশি উর্দু চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা ধরনের চরিত্রে কাজ করে চলচ্চিত্রের ইতিহাসে নিজের অবস্থান তৈরি করেন এই অভিনেত্রী।

১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন নাসিমা খান। তার পৈতৃক বাড়ি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাড়িখাল গ্রামের উকিলবাড়িতে। তার বাবা মোহাম্মদ মাসুদ খান। দাদা খান বাহাদুর আবদুল জলিল ব্রিটিশ আমলে ঢাকার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪০-এর দশকে লালবাগে বাড়ি নির্মাণের পর সেখানেই বসবাস শুরু করে তার পরিবার।

পরিবারের সম্মতি নিয়েই চলচ্চিত্রে পা রাখেন নাসিমা। অভিনয়ে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল অভিনেতা আনিসের, যিনি খান আতা নামেও পরিচিত। নাসিমাদের বাড়ির কাছেই থাকতেন তিনি। নাসিমার বাবার সঙ্গে সুসম্পর্কের সুবাদে একসময় মেয়েকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন আনিস। বাবার সম্মতি পাওয়ার পরই অভিনয়ের জগতে যাত্রা শুরু হয় নাসিমার।

১৯৫৯ সালে এ জে কারদারের পরিচালনায় ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। ঢাকার দ্বিতীয় সবাক চলচ্চিত্র হিসেবে পরিচিত সিনেমাটিতে সহনায়িকাদের একজন ছিলেন নাসিমা। ছবিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পুরস্কার অর্জন করে। একই বছর বেবী ইসলাম পরিচালিত উর্দু ছবি ‘তানহা’য় অভিনয় করেন তিনি। সিনেমাটিতে তার সহশিল্পী ছিলেন শবনম, সুমিতা দেবী ও লাহোরের অভিনেত্রী শামীম আরা।

এরপর ১৯৬১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘যে নদী মরু পথে’ সিনেমায় নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন নাসিমা খান। ছবিটিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেন আনিস। এ সিনেমার পর ধীরে ধীরে চলচ্চিত্রে পরিচিতি বাড়তে থাকে তার।

নাসিমা খানের অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের তালিকায় রয়েছে ‘সূর্যস্নান’, ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘উজালা’, ‘বেগানা’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝন’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’, ‘আমার বৌ’ ও ‘ঢেউয়ের পরে ঢেউ’। এসব চলচ্চিত্রে বিভিন্ন সময়ে আনোয়ার হোসেন, হাসান ইমাম, রহমান, মুস্তফা, আজিম ও হারুনের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে পর্দা ভাগ করেছেন তিনি।

বাংলা ও উর্দু—দুই ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে নাসিমা খান হয়ে উঠেছিলেন ঢাকার চলচ্চিত্রের প্রাথমিক সময়ের পরিচিত মুখ। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্র অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।