আজ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
২৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৭°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা চলছে

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:16:47 pm, Monday, 12 October 2026
  • 7

গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা চলছে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ডিজিটাল প্লাটফর্মে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সামরিক বাহিনীকে ঘিরে নানা ধরনের গুজব-অপতথ্য ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। সম্প্রতি সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, এমপি, সেনাবাহিনী প্রধানসহ বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে বিদেশে অবস্থানরত ইউটিউবার ও ফেসবুক এক্টিভিস্ট হিসেবে পরিচিত একটি চক্র গুজব অপতথ্য ছড়িয়েছে।

গত ৯ মাসে চার হাজার ৩৯৯টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার নামক একটি প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে সরকারকে নিয়ে ৪৯১টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ৯ মাসে সেনাবাহিনীকে নিয়ে ১১৫টি এবং পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে ১১২টি অপতথ্য ছড়ানো হয়। এদিকে রিউমর স্ক্যানার বাংলাদেশের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে গণমাধ্যমের নাম, লোগো ও শিরোনাম ব্যবহার করে মোট ৮৫০টি অপতথ্য প্রচারের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।

এসব ঘটনায় প্রথম প্রান্তিকে ৫৯, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২৮ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৩৩টি গণমাধ্যম আক্রান্ত হয়েছে। এ সময়ে যথাক্রমে ৫৯৩, ১২৭ ও ১৩০টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী মহল এবং বিভিন্ন সচেতন মহলের ভাষ্য, বিদেশে পলাতক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুসারী এবং ওই ঘরোনার ফেসবুক এক্টিভিস্ট ও ইউটিউবারদের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এসব অপতথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

চক্রটি দেশীয় গোষ্ঠীর পাশাপাশি বিদেশি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সামারিক বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরির টার্গেট নিয়ে অপতথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের সাথে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের নির্দেশে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়েছে।

সরকারবিরোধী রাজনৈতিক একটি দলের পাঁচ সহস্রাধিক বেনামি আইডিও রীতিমতো সক্রিয় গুজব অপতথ্য ছড়ানোর কাজে। ফটোকার্ড, মিথ্যা ভিডিও তৈরিতে বেছে নেওয়া হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি। আবার কিছু কিছু ইউটিউব চ্যানেল অনলাইন প্লাটফর্মে বিভিন্ন ব্যক্তিকে যুক্ত করে অপতথ্য তুলে ধরে টকশোর আদলে কনটেন্ট তৈরি করে সেগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।

এসব অপতথ্য প্রতিরোধ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য। বিশেষ করে বিদেশে বসে অপতথ্য ছড়ানোর কার্যক্রম চলায় জড়িত ব্যক্তিরা চিহ্নিত হলেও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, বিদেশে বসে একটি মহল নানা মাধ্যমে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশকিছু অনলাইন, ইউটিউব ও ফেসবুক পেজ শনাক্ত করা হয়েছে।

অপতথ্য বা গুজব ছড়াচ্ছে এমন আরও কিছু অনলাইন প্লাটফর্ম শনাক্তের কাজ চলছে। চক্রটি রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, উচ্চ পদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনা ও আলোচিত ইস্যুকে কেন্দ্র করেও অপতথ্য ছড়াচ্ছে।

এসবের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরির প্রবণতা তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ইতোমধ্যে সরকার সাইবার পুলিশ নামে একটি নতুন ইউনিট গঠন করেছে। নব গঠিত পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে গুজব অপতথ্য প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখা যাবে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী বলেছেন, গুজব, অপপ্রচার, মিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য) ও ডিজইনফরমেশন (অপতথ্য) সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় হতে হবে। গুজব, গুঞ্জন ও অপতথ্য বাদ দিয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে গণমাধ্যমকে। স্বাধীনতার অর্থ যা ইচ্ছা তাই লেখা নয়। তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও যাচাই-বাছাই জরুরি। মিথ্যা তথ্য, গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সম্প্রতি নানা ধরনের গুজব অপতথ্যের ছড়াছড়ি আমরা ডিজিটাল প্লাটফর্মে দেখতে পাচ্ছি। সেটি কখনো সরকারকে নিয়ে, কখনো বিভিন্ন বাহিনী প্রধান অথবা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে। এ ধরনের গুজব অপতথ্যের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো ইউটিউব চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সরকারের চুক্তি জরুরি।

কারণ যেকোনো ধরনের গুজব অপতথ্য সমাজে যেমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তেমনি সেটি দেশের ভাবমূর্তিও বিনষ্ট করে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় চার হাজার ৫৯২ জনবল বিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। গঠিত সাইবার ইউনিটে এখনো পদায়ন শুরু হয়নি। সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলে গুজব অপতথ্য প্রতিরোধে বড় ভূমিকা পালন করবে।

বিভিন্ন বাহিনীকে ঘিরে ভুল তথ্য : চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীকে জড়িয়ে ২৪৪টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশকে নিয়ে। এ সময়ে সেনাবাহিনীকে ঘিরে ১১৫ এবং পুলিশকে ঘিরে ১১২টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে, যা বাহিনীগুলোকে জড়িয়ে ছড়ানো মোট ভুল তথ্যের প্রায় ৯৩ শতাংশ।

প্রান্তিকভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য (১৩৪) শনাক্ত হয়েছে। পরবর্তী দুই প্রান্তিকে (যথাক্রমে ৬১ ও ৪৯) এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। তিন প্রান্তিক মিলিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ঘিরে শনাক্ত হওয়া ১১৫টি ভুল তথ্যের মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে ৭০, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২৬ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ১৯টি শনাক্ত হয়।

এই বাহিনীকে ঘিরে শনাক্ত মোট ভুল তথ্যের প্রায় ৬১ শতাংশই প্রথম প্রান্তিকে পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে ঘিরে তিন প্রান্তিকে মোট ২২টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে, যা বাহিনীগুলোর প্রধানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রান্তিকভিত্তিক এই হিসাবে তার নাম জড়িয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমতে দেখা গেছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের বাইরে অন্যান্য বাহিনীকেও ঘিরে ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে।

এর মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) ঘিরে তিন প্রান্তিকে মোট ৯টি ভুল তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম প্রান্তিকে একটি শনাক্ত হলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই সংখ্যা বেড়ে ছয়টিতে দাঁড়ায়। তৃতীয় প্রান্তিকে তা কমে দুটিতে নেমে আসে। সদ্য বিলুপ্ত হওয়া র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং নতুন পরিচয়ে যাত্রা শুরু করা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নকে (এসআরবি) জড়িয়ে তিন প্রান্তিকে পাঁচটি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে।

প্রথম প্রান্তিকে তিনটি এবং পরবর্তী দুই প্রান্তিকে একটি করে ভুল তথ্য পাওয়া যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ঘিরে প্রথম প্রান্তিকে একটি করে ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে ঘিরে তৃতীয় প্রান্তিকে একটি ভুল তথ্য পাওয়া যায়। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে প্রচারিত ১ হাজার ১৮৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। এ সময়ে শনাক্ত হওয়া ভুল তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল রাজনৈতিক অপতথ্য, যার পরিমাণ মোট শনাক্তের প্রায় ৬১ শতাংশ। সব মিলিয়ে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বাংলাদেশে প্রচারিত ৪ হাজার ৩৯৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।

২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচারের ঘটনায় প্ল্যাটফর্মভেদে ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। ৯ মাসে ফেসবুকে সর্বাধিক ৩ হাজার ৯২৮টি ভুল তথ্য প্রচারের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইনস্টাগ্রামে ৭৮৪টি, টিকটকে ৭৪৯টি, ইউটিউবে ৩৬০টি এবং দেশের গণমাধ্যমগুলোয় ২৮১টি ঘটনায় ভুল তথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে।

এক্সে ১৯৮টি এবং থ্রেডসে ১২০টি ঘটনায় ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য বিএনপিকে নিয়ে : ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্যে সবচেয়ে বেশি জড়ানো হয়েছে বিএনপিকে। দলটি, এর বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং নেতাকর্মীদের ঘিরে এ সময় ১ হাজার ১৫৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে, যার প্রায় ৯৭ শতাংশই নেতিবাচক।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে ৯ মাসে ৮৭৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে, যার প্রায় ৮৮ শতাংশই নেতিবাচক। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ক্ষেত্রে মোট ৪৩১টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। অপতথ্যের শিকার দলীয় প্রধানরা : ২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে মোট ৮৪৫টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার।

এর মধ্যে তারেক রহমানকে নিয়ে ৪১০টি, শেখ হাসিনাকে নিয়ে ২৫৮টি, ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়ে ১৩০টি এবং নাহিদ ইসলামকে নিয়ে ৪৭টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। অপতথ্য সংবলিত কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, তারেক রহমানকে নিয়ে শনাক্ত হওয়া অপতথ্যের প্রায় ৮৭ শতাংশই ছিল তার জন্য নেতিবাচক। ডা. শফিকুর রহমানের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৮৯ শতাংশ।

নাহিদ ইসলামকে নিয়ে শনাক্ত অপতথ্যে প্রায় ৯৪ শতাংশই তার জন্য নেতিবাচক, যা উল্লিখিত দুই শীর্ষ নেতার তুলনায় বেশি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ফরিদপুরে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রবাসীর স্ত্রীর চুল কাটার ঘটনায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ

গুজব ও অপতথ্য ছড়িয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে বিশৃঙ্খলার অপচেষ্টা চলছে

Update Time : 11:16:47 pm, Monday, 12 October 2026

ডিজিটাল প্লাটফর্মে সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সামরিক বাহিনীকে ঘিরে নানা ধরনের গুজব-অপতথ্য ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। সম্প্রতি সরকারের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, এমপি, সেনাবাহিনী প্রধানসহ বিভিন্ন বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে বিদেশে অবস্থানরত ইউটিউবার ও ফেসবুক এক্টিভিস্ট হিসেবে পরিচিত একটি চক্র গুজব অপতথ্য ছড়িয়েছে।

গত ৯ মাসে চার হাজার ৩৯৯টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার নামক একটি প্রতিষ্ঠান। এরমধ্যে সরকারকে নিয়ে ৪৯১টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ৯ মাসে সেনাবাহিনীকে নিয়ে ১১৫টি এবং পুলিশ বাহিনীকে নিয়ে ১১২টি অপতথ্য ছড়ানো হয়। এদিকে রিউমর স্ক্যানার বাংলাদেশের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে গণমাধ্যমের নাম, লোগো ও শিরোনাম ব্যবহার করে মোট ৮৫০টি অপতথ্য প্রচারের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে।

এসব ঘটনায় প্রথম প্রান্তিকে ৫৯, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২৮ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৩৩টি গণমাধ্যম আক্রান্ত হয়েছে। এ সময়ে যথাক্রমে ৫৯৩, ১২৭ ও ১৩০টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী মহল এবং বিভিন্ন সচেতন মহলের ভাষ্য, বিদেশে পলাতক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনুসারী এবং ওই ঘরোনার ফেসবুক এক্টিভিস্ট ও ইউটিউবারদের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী এসব অপতথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।

চক্রটি দেশীয় গোষ্ঠীর পাশাপাশি বিদেশি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সামারিক বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরির টার্গেট নিয়ে অপতথ্য ও গুজব ছড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাদের সাথে গোপন যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের নির্দেশে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়েছে।

সরকারবিরোধী রাজনৈতিক একটি দলের পাঁচ সহস্রাধিক বেনামি আইডিও রীতিমতো সক্রিয় গুজব অপতথ্য ছড়ানোর কাজে। ফটোকার্ড, মিথ্যা ভিডিও তৈরিতে বেছে নেওয়া হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি। আবার কিছু কিছু ইউটিউব চ্যানেল অনলাইন প্লাটফর্মে বিভিন্ন ব্যক্তিকে যুক্ত করে অপতথ্য তুলে ধরে টকশোর আদলে কনটেন্ট তৈরি করে সেগুলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।

এসব অপতথ্য প্রতিরোধ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য। বিশেষ করে বিদেশে বসে অপতথ্য ছড়ানোর কার্যক্রম চলায় জড়িত ব্যক্তিরা চিহ্নিত হলেও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, বিদেশে বসে একটি মহল নানা মাধ্যমে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশকিছু অনলাইন, ইউটিউব ও ফেসবুক পেজ শনাক্ত করা হয়েছে।

অপতথ্য বা গুজব ছড়াচ্ছে এমন আরও কিছু অনলাইন প্লাটফর্ম শনাক্তের কাজ চলছে। চক্রটি রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, উচ্চ পদস্থ বেসামরিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তাদের টার্গেট করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন ঘটনা ও আলোচিত ইস্যুকে কেন্দ্র করেও অপতথ্য ছড়াচ্ছে।

এসবের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর বয়ান তৈরির প্রবণতা তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ইতোমধ্যে সরকার সাইবার পুলিশ নামে একটি নতুন ইউনিট গঠন করেছে। নব গঠিত পুলিশ ইউনিটের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হলে গুজব অপতথ্য প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখা যাবে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ এ এম সালেহ শিবলী বলেছেন, গুজব, অপপ্রচার, মিসইনফরমেশন (ভুল তথ্য) ও ডিজইনফরমেশন (অপতথ্য) সামাজিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তথ্যের সত্যতা যাচাই-বাছাই করে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমকে আরও সক্রিয় হতে হবে। গুজব, গুঞ্জন ও অপতথ্য বাদ দিয়ে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে হবে গণমাধ্যমকে। স্বাধীনতার অর্থ যা ইচ্ছা তাই লেখা নয়। তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা ও যাচাই-বাছাই জরুরি। মিথ্যা তথ্য, গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সম্প্রতি নানা ধরনের গুজব অপতথ্যের ছড়াছড়ি আমরা ডিজিটাল প্লাটফর্মে দেখতে পাচ্ছি। সেটি কখনো সরকারকে নিয়ে, কখনো বিভিন্ন বাহিনী প্রধান অথবা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে। এ ধরনের গুজব অপতথ্যের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপতথ্য ও গুজব ছড়ানো ইউটিউব চ্যানেল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সরকারের চুক্তি জরুরি।

কারণ যেকোনো ধরনের গুজব অপতথ্য সমাজে যেমন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তেমনি সেটি দেশের ভাবমূর্তিও বিনষ্ট করে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় চার হাজার ৫৯২ জনবল বিশিষ্ট একটি বিশেষায়িত সাইবার পুলিশ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। গঠিত সাইবার ইউনিটে এখনো পদায়ন শুরু হয়নি। সাইবার ইউনিটের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলে গুজব অপতথ্য প্রতিরোধে বড় ভূমিকা পালন করবে।

বিভিন্ন বাহিনীকে ঘিরে ভুল তথ্য : চলতি বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন বাহিনীকে জড়িয়ে ২৪৪টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশকে নিয়ে। এ সময়ে সেনাবাহিনীকে ঘিরে ১১৫ এবং পুলিশকে ঘিরে ১১২টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে, যা বাহিনীগুলোকে জড়িয়ে ছড়ানো মোট ভুল তথ্যের প্রায় ৯৩ শতাংশ।

প্রান্তিকভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের প্রথম প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য (১৩৪) শনাক্ত হয়েছে। পরবর্তী দুই প্রান্তিকে (যথাক্রমে ৬১ ও ৪৯) এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমেছে। তিন প্রান্তিক মিলিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ঘিরে শনাক্ত হওয়া ১১৫টি ভুল তথ্যের মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে ৭০, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২৬ এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ১৯টি শনাক্ত হয়।

এই বাহিনীকে ঘিরে শনাক্ত মোট ভুল তথ্যের প্রায় ৬১ শতাংশই প্রথম প্রান্তিকে পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে ঘিরে তিন প্রান্তিকে মোট ২২টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে, যা বাহিনীগুলোর প্রধানদের মধ্যে সর্বোচ্চ। প্রান্তিকভিত্তিক এই হিসাবে তার নাম জড়িয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে কমতে দেখা গেছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের বাইরে অন্যান্য বাহিনীকেও ঘিরে ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে।

এর মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) ঘিরে তিন প্রান্তিকে মোট ৯টি ভুল তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম প্রান্তিকে একটি শনাক্ত হলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে এই সংখ্যা বেড়ে ছয়টিতে দাঁড়ায়। তৃতীয় প্রান্তিকে তা কমে দুটিতে নেমে আসে। সদ্য বিলুপ্ত হওয়া র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং নতুন পরিচয়ে যাত্রা শুরু করা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নকে (এসআরবি) জড়িয়ে তিন প্রান্তিকে পাঁচটি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে।

প্রথম প্রান্তিকে তিনটি এবং পরবর্তী দুই প্রান্তিকে একটি করে ভুল তথ্য পাওয়া যায়। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ঘিরে প্রথম প্রান্তিকে একটি করে ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে ঘিরে তৃতীয় প্রান্তিকে একটি ভুল তথ্য পাওয়া যায়। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে প্রচারিত ১ হাজার ১৮৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার।

গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় ২৪ শতাংশ বেশি। এ সময়ে শনাক্ত হওয়া ভুল তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল রাজনৈতিক অপতথ্য, যার পরিমাণ মোট শনাক্তের প্রায় ৬১ শতাংশ। সব মিলিয়ে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে বাংলাদেশে প্রচারিত ৪ হাজার ৩৯৯টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।

২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচারের ঘটনায় প্ল্যাটফর্মভেদে ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। ৯ মাসে ফেসবুকে সর্বাধিক ৩ হাজার ৯২৮টি ভুল তথ্য প্রচারের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ইনস্টাগ্রামে ৭৮৪টি, টিকটকে ৭৪৯টি, ইউটিউবে ৩৬০টি এবং দেশের গণমাধ্যমগুলোয় ২৮১টি ঘটনায় ভুল তথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে।

এক্সে ১৯৮টি এবং থ্রেডসে ১২০টি ঘটনায় ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি অপতথ্য বিএনপিকে নিয়ে : ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্যে সবচেয়ে বেশি জড়ানো হয়েছে বিএনপিকে। দলটি, এর বিভিন্ন সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন এবং নেতাকর্মীদের ঘিরে এ সময় ১ হাজার ১৫৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে, যার প্রায় ৯৭ শতাংশই নেতিবাচক।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে ৯ মাসে ৮৭৮টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে, যার প্রায় ৮৮ শতাংশই নেতিবাচক। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ক্ষেত্রে মোট ৪৩১টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। অপতথ্যের শিকার দলীয় প্রধানরা : ২০২৬ সালের প্রথম তিন প্রান্তিকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে মোট ৮৪৫টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার।

এর মধ্যে তারেক রহমানকে নিয়ে ৪১০টি, শেখ হাসিনাকে নিয়ে ২৫৮টি, ডা. শফিকুর রহমানকে নিয়ে ১৩০টি এবং নাহিদ ইসলামকে নিয়ে ৪৭টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। অপতথ্য সংবলিত কনটেন্ট বিশ্লেষণে দেখা যায়, তারেক রহমানকে নিয়ে শনাক্ত হওয়া অপতথ্যের প্রায় ৮৭ শতাংশই ছিল তার জন্য নেতিবাচক। ডা. শফিকুর রহমানের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি, প্রায় ৮৯ শতাংশ।

নাহিদ ইসলামকে নিয়ে শনাক্ত অপতথ্যে প্রায় ৯৪ শতাংশই তার জন্য নেতিবাচক, যা উল্লিখিত দুই শীর্ষ নেতার তুলনায় বেশি।