সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর বিমান চলাচল স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রিয়াদগামী যাত্রীরা। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসসহ বিভিন্ন সংস্থার অন্তত সাতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
এ খবর না জেনে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে ভোগান্তিতে পড়েছেন দুই হাজারের বেশি প্রবাসী। তাদের কারও কারও ভিসার মেয়াদ রয়েছে আর মাত্র দুই থেকে তিন দিন। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তারা। ছুটি কাটিয়ে রোববার দুপুরে সৌদি আরবের রিয়াদে ফেরার কথা ছিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের রোহিতপুরের বাসিন্দা শাহ আলম, হিমেল ও মনিরসহ শতাধিক প্রবাসীর।
বিভিন্ন এয়ারলাইনসের টিকিট কেটে দেশে এসেছিলেন তারা। ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার প্রস্তুতি থাকলেও ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় আটকে গেছে তাদের যাত্রা। কবে আবার ফ্লাইট চালু হবে, কখন কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন, এমন অনিশ্চয়তায় রয়েছেন শাহ আলমসহ অন্য যাত্রীরা। একই উদ্বেগে দিন কাটছে তাদের পরিবারের সদস্যদেরও। ফ্লাইট বাতিলের খবর না পেয়ে বিমানবন্দরে এসে বিপাকে পড়েছেন অনেকে।
তাদের কারও কারও ভিসার মেয়াদ শেষ হতে বাকি মাত্র দুই থেকে তিন দিন। নির্ধারিত সময়ে সৌদি আরবে ফিরতে না পারলে কী হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। হাসান নামে এক যাত্রী বলেন, ‘আমরা সঠিক তথ্য জানতাম না। সময়মতো সৌদি আরবে যেতে না পারলে প্রবাসীদের সমস্যা হবে। এখন কী করব, কিছুই বুঝতে পারছি না। আমাদের পরিবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে।
’ রোববার সকাল পর্যন্ত বাতিল হওয়া অন্তত সাতটি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ঢাকা–রিয়াদ রুটের একটি ফ্লাইট। বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) কামরুল ইসলাম জানান, তাদের সপ্তাহে রিয়াদে পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনার কথা রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইতোমধ্যে দুটি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের কিং খালিদ ও দক্ষিণাঞ্চলীয় আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি গোষ্ঠীর হামলার খবরের পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কিং খালিদ বিমানবন্দরে একজন বিদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়। শনিবার বিমানবন্দরটিতে আবারও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্থগিত করে সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন।
এর প্রভাব পড়ে রিয়াদগামী বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে। কবে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হবে, কখন মিলবে পরবর্তী ফ্লাইট-সেই অপেক্ষায় রয়েছেন আটকে পড়া যাত্রীরা। বিশেষ করে ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে আসায় কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে তাদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।






















