আজ রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৫%

সারের ডিলারশিপ না পেয়ে পদত্যাগ যুবদল নেতার

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:49:46 pm, Saturday, 10 October 2026
  • 27
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সারের ডিলারশিপ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন দড়গ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সারের ডিলারশিপের জন্য আবেদন করে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আপাতত দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সাদ্দাম হোসেন লেখেন, ‘আজ থেকে বিএনপি অঙ্গসংগঠনের সকল প্রকার পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। GOOD BYE। ’ সাদ্দাম হোসেন বলেন, তার বাবা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং তিনি নিজে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।

অতীতে তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা ছিল। বাবা-ছেলে একসঙ্গে কারাবরণও করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করলেও সারের ডিলারশিপ না পাওয়ায় তিনি হতাশ। সাদ্দাম বলেন, তার বাবা প্রায় ৪০ বছর ধরে সারের ব্যবসা করছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সারের ডিলার নিয়োগের সময় তার বাবা বিএনপি এবং তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ডিলারশিপ পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

এরপর থেকে অন্য এক ডিলারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে তারা সারের ব্যবসা করে আসছেন। এবার নতুন করে ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদন করেও তারা ডিলারশিপ পাননি। ক্ষোভ প্রকাশ করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। এখন বিএনপি ক্ষমতায়, নতুন করে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা ডিলারশিপ পেলাম না।

আমার বাবার ৪০ বছরের সারের ব্যবসা। দলের কাছে কখনো টাকা-পয়সা চাইনি। প্রয়োজনের সময় যদি কিছুই না পাই, তাহলে রাজনীতি করে লাভ কী? আমাদের তো ব্যবসা করে চলতে হবে। অনেক টাকা বাকি আছে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকলে এ নিয়ে কোনো ক্ষোভ থাকত না। এখন আমাদের পেটে লাথি দেওয়া হলো। এলাকায় মুখ দেখাতে পারছি না।

দল থেকে নয়, আপাতত পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। ’ ডিলারশিপের বিষয়ে যোগাযোগের প্রসঙ্গে সাদ্দাম হোসেন বলেন, আবেদন করার পর মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) দুলালকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে রেজা নামের একজন তাকে সমস্যা নেই, সব ঠিক আছে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। এ বিষয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু বলেন, একটি ইউনিয়ন থেকে একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছেন।

উপজেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে আবেদনগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকেই ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় নতুন সারের ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকা অনুযায়ী, সাটুরিয়ার দড়গ্রাম ইউনিয়নে নতুন ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. রুহুল আমীন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

তাজমিন কীভাবে কক্সবাজারে গেল, মুখ খুললেন মা

সারের ডিলারশিপ না পেয়ে পদত্যাগ যুবদল নেতার

Update Time : 03:49:46 pm, Saturday, 10 October 2026

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সারের ডিলারশিপ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন দড়গ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও সারের ডিলারশিপের জন্য আবেদন করে তিনি বঞ্চিত হয়েছেন।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আপাতত দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে সাদ্দাম হোসেন লেখেন, ‘আজ থেকে বিএনপি অঙ্গসংগঠনের সকল প্রকার পদ থেকে অব্যাহতি নিলাম। GOOD BYE। ’ সাদ্দাম হোসেন বলেন, তার বাবা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং তিনি নিজে ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক।

অতীতে তার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা ছিল। বাবা-ছেলে একসঙ্গে কারাবরণও করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করলেও সারের ডিলারশিপ না পাওয়ায় তিনি হতাশ। সাদ্দাম বলেন, তার বাবা প্রায় ৪০ বছর ধরে সারের ব্যবসা করছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সারের ডিলার নিয়োগের সময় তার বাবা বিএনপি এবং তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় ডিলারশিপ পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

এরপর থেকে অন্য এক ডিলারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে তারা সারের ব্যবসা করে আসছেন। এবার নতুন করে ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদন করেও তারা ডিলারশিপ পাননি। ক্ষোভ প্রকাশ করে সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছি। এখন বিএনপি ক্ষমতায়, নতুন করে সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অথচ আমরা ডিলারশিপ পেলাম না।

আমার বাবার ৪০ বছরের সারের ব্যবসা। দলের কাছে কখনো টাকা-পয়সা চাইনি। প্রয়োজনের সময় যদি কিছুই না পাই, তাহলে রাজনীতি করে লাভ কী? আমাদের তো ব্যবসা করে চলতে হবে। অনেক টাকা বাকি আছে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সারের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকলে এ নিয়ে কোনো ক্ষোভ থাকত না। এখন আমাদের পেটে লাথি দেওয়া হলো। এলাকায় মুখ দেখাতে পারছি না।

দল থেকে নয়, আপাতত পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। ’ ডিলারশিপের বিষয়ে যোগাযোগের প্রসঙ্গে সাদ্দাম হোসেন বলেন, আবেদন করার পর মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) দুলালকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে রেজা নামের একজন তাকে সমস্যা নেই, সব ঠিক আছে বলে আশ্বস্ত করেছিলেন। এ বিষয়ে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাজী মোস্তাক হোসেন দীপু বলেন, একটি ইউনিয়ন থেকে একাধিক ব্যক্তি সারের ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছেন।

উপজেলা কমিটি যাচাই-বাছাই করে আবেদনগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকেই ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। পর্যায়ক্রমে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর মানিকগঞ্জের সাত উপজেলায় নতুন সারের ডিলারদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। ওই তালিকা অনুযায়ী, সাটুরিয়ার দড়গ্রাম ইউনিয়নে নতুন ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. রুহুল আমীন।