ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার সড়ক সংস্কারে অনিয়ম এবং মানহীন সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প তথ্যের সাইনবোর্ড না টানিয়েই বারবার প্রশাসনিক সতর্কবার্তা ও নোটিশ অমান্য করে নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার মতো তথ্যও পাওয়া গেছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ‘কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারি প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি)’-এর আওতায় পৌরসভার ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়াইচ প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা থেকে বাঁকাইল ঈদগাহ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৮ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি সড়ক সংস্কারকাজ চলছে। প্রায় ৯৭ লাখ টাকা ব্যয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স গ্রিন কনস্ট্রাকশন’।
জানা যায়, সড়কটির ভিত্তি নির্মাণ লেয়ারে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে গত ৮ জুলাই পৌরসভার পক্ষ থেকে এসব মানহীন সামগ্রী দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেই নির্দেশ অমান্য করে নিজেদের খেয়ালখুশিমতো কাজ চালিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর রিজিওনাল মিউনিসিপ্যাল সাপোর্ট ইউনিটের (আরএমএসইউ) প্রকৌশলী সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং কাজে অনিয়মের সত্যতা পান।
পরিদর্শনের পর তিনি দ্রুত মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সংশোধনের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর পৌরসভার প্রশাসক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোসহ চূড়ান্ত নোটিশ জারি করেন। ওই নোটিশে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সব মানহীন সামগ্রী অপসারণ করে নতুন করে কাজের শিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করার কঠোর সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ পুনর্নির্মাণ করতে ব্যর্থ হলে আগে উত্তোলিত বিল সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়াসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী এস এম কোবাদ বলেন, চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করা হবে। পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জাকারিয়া আলম জানান, সড়ক নির্মাণকাজে মানহীন সামগ্রী ব্যবহারের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
কাজের মান নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ বিষয়ে পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও মো. জোবায়ের হাবিব বলেন, পৌরসভার উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতির বিন্দুমাত্র সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানহীন সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





















