বাংলাদেশ অনেক আগে থেকেই পোশাক শিল্পে হাত পাকিয়ে ফেলেছে। অনেক আগে থেকে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শিল্প স্থাপিত থাকায় দক্ষ কর্মী গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশে এই দক্ষ কর্মীদের যদি কাজের ব্যবস্থা করা যায়, তবে সাধারণ কর্মীর তুলনায় অনেক বেশি আয় করতে পারবে।
সরকারিভাবে বিভিন্ন দেশের গার্মেন্টসে আমাদের দেশ থেকে কর্মী পাঠানো হয়। তেমনি জর্ডানেও কাজের সুযোগ বাড়ছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে জর্ডান বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। কারখানায় অপারেটর, সহকারী ও বিভিন্ন উৎপাদনভিত্তিক কাজে দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদের চাহিদা তৈরি হয়।
তবে জর্ডানে যাওয়ার আগে নিয়োগ প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, চাকরির শর্ত এবং সরকারি নিয়ম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। গার্মেন্টসে কী ধরনের কাজ জর্ডানের তৈরি পোশাক কারখানায় মূলত পোশাক উৎপাদন ও কারখানাভিত্তিক বিভিন্ন কাজে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ করা হয়। সেলাই মেশিন অপারেটর, হেলপার, কাটিং, ফিনিশিং, আয়রন, কোয়ালিটি কন্ট্রোলসহ উৎপাদনসংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞতা থাকলে চাকরির ক্ষেত্রে সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
বিশেষ করে আগে গার্মেন্টসে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে সংশ্লিষ্ট পদে নিয়োগের সম্ভাবনা বাড়ে। বাংলাদেশ থেকে সরকারি ব্যবস্থাপনায়ও জর্ডানের গার্মেন্টস খাতে কর্মী নিয়োগের নজির রয়েছে। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডÑ বোয়েসেলের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে জর্ডানে কর্মী নিয়োগের তথ্য দেওয়া হয়েছিল। সেখানে নির্দিষ্ট পদ, বয়স, বেতন, কাজের শর্ত ও আবেদনসংক্রান্ত নির্দেশনা উল্লেখ ছিল।
সরকারি পথে আবেদন জর্ডানে কাজের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ হলোÑ বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করা। কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে প্রার্থীদের নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করতে হয়। বোয়েসেলের বিজ্ঞপ্তিতে অনলাইনে আবেদন করার জন্য তাদের নিয়োগসংক্রান্ত ওয়েব পোর্টালের উল্লেখ রয়েছে। আবেদনের সময় সাধারণত পাসপোর্ট, ছবি, বায়োডাটা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত বা অভিজ্ঞতার কাগজপত্র প্রস্তুত রাখতে হয়।
সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে প্রার্থীদের পাসপোর্টের কপি, ছবি ও বায়োডাটা জমা দেওয়ার নির্দেশনাও ছিল। বয়স ও যোগ্যতা জর্ডানের গার্মেন্টসের প্রতিটি নিয়োগে বয়স ও যোগ্যতার শর্ত এক নয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত দেখতে হবে। বোয়েসেলের প্রকাশিত একটি জর্ডান গার্মেন্টস নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য যোগ্যতার নির্দিষ্ট শর্ত দেওয়া হয়েছিল।
অর্থাৎ একই ধরনের চাকরির ক্ষেত্রেও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও পদের ওপর যোগ্যতা পরিবর্তিত হতে পারে। বেতন ও সুযোগ-সুবিধা জর্ডানের গার্মেন্টস খাতে বেতন নির্ভর করে পদ, অভিজ্ঞতা, কর্মঘণ্টা ও নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের চুক্তির ওপর। শুধু মাসিক বেতন দেখলেই চাকরির প্রকৃত সুবিধা বোঝা যায় না। থাকার ব্যবস্থা, খাবার, যাতায়াত, চিকিৎসা, ওভারটাইম এবং অন্যান্য সুবিধা চুক্তিতে কীভাবে উল্লেখ আছেÑসেগুলোও দেখতে হবে।
একটি সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে জর্ডানের গার্মেন্টস প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট বেতন ও অন্যান্য শর্ত উল্লেখ করা হয়েছিল। তাই প্রতিটি নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া বেতন ও সুবিধাই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। যাওয়ার আগে যে বিষয়গুলো যাচাই জরুরি বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলোÑ ভুয়া নিয়োগ, অতিরিক্ত টাকা দাবি এবং চুক্তির সঙ্গে বাস্তব চাকরির অমিল।
তাই জর্ডানে যাওয়ার আগে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, চাকরির পদ, বেতন, কর্মঘণ্টা, ওভারটাইম, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা এবং চুক্তির শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। পাসপোর্ট বা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র কোনো দালালের কাছে রেখে দেওয়া উচিত নয়। চাকরির জন্য কত টাকা দিতে হবে, কোন খাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং অর্থ প্রদানের সরকারি রসিদ রয়েছে কি নাÑ এসব বিষয়ও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
বোয়েসেলের মাধ্যমে সুযোগ বাংলাদেশ সরকারের বোয়েসেল বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জর্ডানের গার্মেন্টস খাতেও তাদের মাধ্যমে নিয়োগের উদাহরণ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে বোয়েসেলের ঠিকানা, যোগাযোগের তথ্য এবং অফিসিয়াল ওয়েবসাইট উল্লেখ করা হয়েছে। তাই জর্ডানে গার্মেন্টসের চাকরি খুঁজছেন এমন বাংলাদেশিদের জন্য প্রথম কাজ হওয়া উচিত বোয়েসেলের চলমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়মিত দেখা।
কোনো নিয়োগ খোলা থাকলে বিজ্ঞপ্তির যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি, খরচ, বেতন ও অন্যান্য শর্ত মিলিয়ে তারপর আবেদন করা নিরাপদ। নতুনদের জন্য বাস্তবতা জর্ডানে গার্মেন্টসে চাকরি মানেই সহজে বেশি আয়Ñ এমন ধারণা ঠিক নয়। বিদেশে যাওয়ার আগে নিজের দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং শারীরিক সক্ষমতার সঙ্গে চাকরির ধরন মিলিয়ে দেখা দরকার। কারখানার কাজ সাধারণত নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, উৎপাদনের লক্ষ্য এবং শৃঙ্খলার মধ্যে করতে হয়।
তবে গার্মেন্টস খাতে আগে থেকে অভিজ্ঞ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য জর্ডান একটি সম্ভাবনাময় কর্মসংস্থানের বাজার হতে পারে। বিশেষ করে বৈধ নিয়োগ, স্বচ্ছ চুক্তি এবং সরকারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গেলে প্রতারণার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। সুতরাং, জর্ডানে গার্মেন্টসে কাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলোÑ চাকরির বিজ্ঞপ্তি যাচাই, বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ, চুক্তির শর্ত বোঝা এবং সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো দালালের মাধ্যমে বিদেশে না যাওয়া।
বোয়েসেলের অফিসিয়াল তথ্য ও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি।





















