আজ রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮০%

রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত, সরবরাহ সংকট চরমে

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:08:32 pm, Sunday, 4 October 2026
  • 8

রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত, সরবরাহ সংকট চরমে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজধানীর বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা। কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারিত ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। বাড়তি দাম দিয়েও অনেকে এলপিজি পাচ্ছেন না।

কলোনি বাজারে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ পর্যন্ত এলপিজির সংকটের প্রভাব পড়েছে। প্রয়োজনীয় গ্যাস না পেয়ে অনেক ব্যবসায়ীকে বাড়তি দামে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের প্রায় দেড় গুণ দামেও সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের মাসে এই দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৭ টাকা।

তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের দোকানে খালি সিলিন্ডার পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কিছু দোকানে দু-চারটি ভর্তি সিলিন্ডার থাকলেও সেগুলোও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে।

ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানি পর্যায় থেকেই এলপিজির সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত সিলিন্ডার সরবরাহ না করায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

তবে এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন লোয়াবের দাবি, দেশে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে পাঁচ থেকে ছয়টি প্রতিষ্ঠান মিলে দেড় লাখ টনের বেশি এলপিজি আমদানি করেছে।

অপারেটররা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রচলিত উৎসের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানি করতে হয়েছে। এতে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারদরেও।

এদিকে অক্টোবর মাসের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস বা সিপি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এলপিজির দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বাড়িয়েছে বিইআরসি। নতুন দর অনুযায়ী ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে এর চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজারে প্রশাসনের তদারকি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছে লোয়াব। একই সঙ্গে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প পরিদর্শন করলেন প্রকল্প পরিচালক

রাজধানীতে এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত, সরবরাহ সংকট চরমে

Update Time : 07:08:32 pm, Sunday, 4 October 2026

রাজধানীর বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুই থেকে তিন সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করছেন ভোক্তারা। কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারিত ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। বাড়তি দাম দিয়েও অনেকে এলপিজি পাচ্ছেন না।

কলোনি বাজারে চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ পর্যন্ত এলপিজির সংকটের প্রভাব পড়েছে। প্রয়োজনীয় গ্যাস না পেয়ে অনেক ব্যবসায়ীকে বাড়তি দামে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামের প্রায় দেড় গুণ দামেও সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫০ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দর অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের মাসে এই দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৭ টাকা।

তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার খুচরা বিক্রেতাদের দোকানে খালি সিলিন্ডার পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। কিছু দোকানে দু-চারটি ভর্তি সিলিন্ডার থাকলেও সেগুলোও বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে।

ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানি পর্যায় থেকেই এলপিজির সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত সিলিন্ডার সরবরাহ না করায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

তবে এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন লোয়াবের দাবি, দেশে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি অব্যাহত রয়েছে। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে পাঁচ থেকে ছয়টি প্রতিষ্ঠান মিলে দেড় লাখ টনের বেশি এলপিজি আমদানি করেছে।

অপারেটররা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রচলিত উৎসের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে এলপিজি আমদানি করতে হয়েছে। এতে আমদানি ব্যয় বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাজারদরেও।

এদিকে অক্টোবর মাসের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস বা সিপি ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় এলপিজির দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বাড়িয়েছে বিইআরসি। নতুন দর অনুযায়ী ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে এর চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজারে প্রশাসনের তদারকি আরও জোরদারের দাবি জানিয়েছে লোয়াব। একই সঙ্গে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এলপিজির বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।