চট্টগ্রামে জাল দলিল তৈরি ও তা আসল হিসেবে ব্যবহার করে ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ টাকা মূল্যের সরকারি জমি আত্মসাতের অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। অভিযুক্তরা হলেন- চট্টগ্রাম গণপূর্ত বিভাগের সাবেক উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও বর্তমানে বাগেরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাহ-আলম ফারুক, ফাতেমা বেগম, মো. ফরিদ আহমদ, মোহাম্মদ ফাহিম আহমেদ, হাসিনা মমতাজ, মোহাম্মদ ফয়েজ আহমদ, রোকেয়া সুলতানা ও শাহিন সুলতানা।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করে জাল দলিল তৈরি এবং তা আসল হিসেবে ব্যবহার করেছেন। প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি জমি ভোগদখলে রেখে তারা নিজেরা লাভবান হয়েছেন এবং সরকারের আর্থিক ক্ষতি করেছেন। অভিযোগটি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার গোঁসাইলডাঙা মৌজার লিজ আউট প্ল্যানের ১৬ নম্বর প্লটের ২৪ দশমিক ৯৬ শতক জমি নিয়ে।
দুদকের হিসাবে, ২০২৫ সালের মৌজা রেট অনুযায়ী বাড়ি বাদে ওই জমির মূল্য ১৭ কোটি ১২ লাখ ৬৩ হাজার ১৪০ টাকা। এর সঙ্গে বকেয়া ভাড়া ৬ কোটি ৫৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৮ টাকা যোগ করলে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ২৩৮ টাকা। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ না করেই অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখলে রেখেছেন।
জাল নথি তৈরি ও ব্যবহারের পাশাপাশি সরকারি জমি দখলে রাখার মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করেছেন বলে অনুসন্ধান প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দুদকের চট্টগ্রাম-১ কার্যালয়কে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।






















