আজ রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮০%

মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হাফেজ সোহানুর, চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:29:21 pm, Sunday, 4 October 2026
  • 9

মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হাফেজ সোহানুর, চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের বড় মাঝদক্ষিনা গ্রামের কৃষক মো. নজরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে ২৫ পারা কোরআনের হাফেজ মো. সোহানুর রহমান (১৬) মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তার জীবনপ্রদীপ যেন নিভে যাওয়ার পথে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে এই কোরআনের হাফেজ। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে হঠাৎ করেই সোহানুরের শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর থেকেই শুরু হয় তার বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই। দীর্ঘ তিন বছর ধরে জমিজমা ও সহায়-সম্বল বিক্রি করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে আসছেন তার বাবা-মা।

কিন্তু দীর্ঘ চিকিৎসার পরও সোহানুর পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় সম্প্রতি চিকিৎসকদের পরামর্শে তার বাম পা কেটে ফেলতে হয়েছে। বর্তমানে সোহানুর সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, চিকিৎসা ও পরবর্তী থেরাপির খরচ জোগাতে পারছে না তার পরিবার। টাকার অভাবে অনেকটা থমকে গেছে তার চিকিৎসা। হাসপাতালের বেডে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটছে কিশোর সোহানুরের।

ছেলের করুণ পরিণতি দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা সূর্য খাতুন বলেন, আমার একমাত্র নাড়িছেঁড়া ধন শুধু বেঁচে থাকতে চায়। জমিজমা যা ছিল, সব বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসার পেছনে শেষ করেছি। এখন ওষুধ কিনে দেওয়ার মতো কোনো টাকা হাতে নেই। আপনাদের একটু সাহায্যে হয়তো আমার সোনামণিটা আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারবে। অসহায় বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, একমাত্র ছেলেকে চোখের সামনে তিলে তিলে শেষ হতে দেখছি।

কিন্তু বাবা হয়েও কিছু করতে পারছি না। পা-টা তো হারিয়েছেই, এখন জীবনটাই না চলে যায়—এই ভয়েই দিন কাটছে। ডাক্তাররা বলেছেন, চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলে সে ভালো হতে পারে। কিন্তু সেই সামর্থ্য আমাদের নেই। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষদের কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা আমার ছেলেটার পাশে দাঁড়ান। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোহানুরের চিকিৎসা চালিয়ে নিতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন।

তাই ২৫ পারা কোরআনের হাফেজ এই কিশোরকে বাঁচাতে সমাজের সহৃদয়, বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার। একটু সহযোগিতাই হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে সোহানুরের বেঁচে থাকার স্বপ্ন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার ও ইসির নিরপেক্ষতা দাবি জামায়াত ও এনসিপির

মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হাফেজ সোহানুর, চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবার

Update Time : 06:29:21 pm, Sunday, 4 October 2026

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের বড় মাঝদক্ষিনা গ্রামের কৃষক মো. নজরুল ইসলামের একমাত্র ছেলে ২৫ পারা কোরআনের হাফেজ মো. সোহানুর রহমান (১৬) মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে।

মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তার জীবনপ্রদীপ যেন নিভে যাওয়ার পথে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে এই কোরআনের হাফেজ। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে হঠাৎ করেই সোহানুরের শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর থেকেই শুরু হয় তার বেঁচে থাকার কঠিন লড়াই। দীর্ঘ তিন বছর ধরে জমিজমা ও সহায়-সম্বল বিক্রি করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে আসছেন তার বাবা-মা।

কিন্তু দীর্ঘ চিকিৎসার পরও সোহানুর পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় সম্প্রতি চিকিৎসকদের পরামর্শে তার বাম পা কেটে ফেলতে হয়েছে। বর্তমানে সোহানুর সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র, চিকিৎসা ও পরবর্তী থেরাপির খরচ জোগাতে পারছে না তার পরিবার। টাকার অভাবে অনেকটা থমকে গেছে তার চিকিৎসা। হাসপাতালের বেডে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দিন কাটছে কিশোর সোহানুরের।

ছেলের করুণ পরিণতি দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা সূর্য খাতুন বলেন, আমার একমাত্র নাড়িছেঁড়া ধন শুধু বেঁচে থাকতে চায়। জমিজমা যা ছিল, সব বিক্রি করে ছেলের চিকিৎসার পেছনে শেষ করেছি। এখন ওষুধ কিনে দেওয়ার মতো কোনো টাকা হাতে নেই। আপনাদের একটু সাহায্যে হয়তো আমার সোনামণিটা আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারবে। অসহায় বাবা নজরুল ইসলাম বলেন, একমাত্র ছেলেকে চোখের সামনে তিলে তিলে শেষ হতে দেখছি।

কিন্তু বাবা হয়েও কিছু করতে পারছি না। পা-টা তো হারিয়েছেই, এখন জীবনটাই না চলে যায়—এই ভয়েই দিন কাটছে। ডাক্তাররা বলেছেন, চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারলে সে ভালো হতে পারে। কিন্তু সেই সামর্থ্য আমাদের নেই। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষদের কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা আমার ছেলেটার পাশে দাঁড়ান। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোহানুরের চিকিৎসা চালিয়ে নিতে বিপুল অর্থের প্রয়োজন।

তাই ২৫ পারা কোরআনের হাফেজ এই কিশোরকে বাঁচাতে সমাজের সহৃদয়, বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তার পরিবার। একটু সহযোগিতাই হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে সোহানুরের বেঁচে থাকার স্বপ্ন।