সারাদেশের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি ওষুধ, পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শয্যা সংকট রয়েছে। এর সঙ্গে কিছু অসাধু চিকিৎসক-স্টাফ ও দালালচক্রের যোগসাজশে সাধারণ মানুষের ন্যূনতম চিকিৎসাসেবাও সেখানে বিঘ্রিত।
এরসাথে সঠিক তথ্যে ও অর্থসংকটে প্রতিবছর প্রায় ৩ কোটি মানুষ নুণ্যতম চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকারের উচিত ছিল সব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সমন্বিত ডিজিটাল কাঠামো গড়ে তুলে হয়রানি বন্ধ এবং সব তথ্য উন্মুক্ত করে চিকিৎসা নিশ্চিত করা। তবে সরকার সে উদ্যোগ গ্রহণ করেনি যা খুবিই দুঃখজনক বলে, মন্তব্য করেছেন নিরাপদ হাসপাতাল চাই (নিহাচ)-এর সভাপতি ফারুক আহমেদ শাহেদ।
আজ (৪ অক্টোবর) রোববার এক বিজ্ঞপ্তিতে শাহেদ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে। তবে এই ব্যবস্থা যদি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় না আসে এবং সকল সেবার তথ্য উন্মুক্ত না থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ সেবা নয়, বরং নতুন করে দুর্ভোগের শিকার হবে। এটি গণমানুষের সঙ্গে প্রহসনের শামিল হবে।
তিনি বলেন, জনস্বার্থে এমন উদ্যোগ নিলে সাধুবাদ জানাই। সেক্ষেত্রে টিকিট, পরীক্ষা ফি, চিকিৎসাসেবা এবং খালি ও দখলকৃত শয্যাসহ সব তথ্য সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। কাউন্টার, চিকিৎসক ও রোগী—সব পক্ষ যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে পেতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এটি ছাড়া সরকারি সহযোগিতায় বেসরকারি চিকিৎসাব্যবস্থা পরিচালনা শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যিক স্বার্থকেই উৎসাহিত করবে।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় ভালো। তবে এর আগে,উপজেলা থেকে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সব সরকারি হাসপাতালগুলোকে আধুনিক করতে হবে। জেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোর আইসিইউর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট অনেক সময় চিকিৎসকের অভাবে কার্যত বন্ধ থাকে। অন্যদিকে রাজধানীতে সিরিয়াস রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়। এর পেছনের কারণ সরকারকে খুজে বের করতে হবে।
শাহেদ বলেন, সরকারি হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কারণে দরিদ্র রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো হবে এবং তাদের চিকিৎসার ব্যয় সরকার বহন করবে— বলা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এর আগেই কেন উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সেবার মান বাড়াতে পদক্ষেপ নেওয় হবে না? উপজেলা পর্যায় থেকেই যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিশ্চিত করা যায়, তাহলে রাজধানী ও বড় শহরের হাসপাতালগুলোতে রোগীর বাড়তি চাপ কোনোভাবেই তৈরি হতো না।
নিহাচের সভাপতি বলেন, সিঙ্গাপুরের হাসপাতালের আদলে ঢাকাতে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছে। কয়েক বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও হাসপাতালটির কার্যক্রম এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। একদিকে মানুষ উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত, অন্যদিকে দক্ষ জনবল ও টেকনিশিয়ানের অভাবে শত শত কোটি টাকার দামি চিকিৎসাযন্ত্র অব্যবহৃত থেকে নষ্ট হচ্ছে এই হাসপাতালটিতে।
অথচ একই ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বেসরকারি হাসপাতালে ঠিকই করা হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্য খাতে চরম অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতা স্পষ্ট হয়। তিনি বলেন, সরকার সর্বজনীন, প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কথা বলছে। সত্যিকার অর্থে এসব সেবা নিশ্চিত করতে হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই ন্যূনতম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা মানুষের জন্য নিশ্চিত ছাড়া কোন ভাবেই সম্ভব নয়।
তা না করতে পারলে- সরকারের এসব ঘোষণা কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা এখনো নিশ্চিত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রতিটি সভ্য দেশে সাধারণ মানুষ ন্যূনতম প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পেলেও বাংলাদেশে সেই সেবা পেতে মানুষকে রীতিমতো লড়াই করতে হয়। চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষের ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নিরাপদ হাসপাতাল চাই (নিহাচ) তার কার্যক্রম চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।






















