ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় চিহ্নিত এক মাদক কারবারিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরিয়ে দিয়ে পরিবারসহ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন দুর্জয় রহমান অনিক নামের ২৬ বছরের এক যুবক। এই ঘটনার জেরে এক পুলিশ সদস্য ও তার প্রবাসী ভাইয়ের নিকট থেকে অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদর বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী দুর্জয় রহমান অনিক। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অনিক জানান, তিনি এলাকার একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় নওয়াপাড়া গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারি রবি ঘোষকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে তিনি সহযোগিতা করেন। পরবর্তীতে আদালত অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় রবি ঘোষকে ৯ মাসের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেন। তবে রবি ঘোষ সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পর থেকেই তার মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা অনিক ও তার পরিবারের ওপর চড়াও হয়। অনিকের অভিযোগ, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার বাকাইল গ্রামের দরবেশ মিয়ার ছেলে এবং পুলিশে কর্মরত সদস্য মো. রাসেল মিয়া (৩৫) ওই মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।
রবি ঘোষ গ্রেপ্তার হওয়ার পেছনে অনিককে দায়ী করে রাসেল মিয়া অনিককে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি রাসেল মিয়ার ভাই সৌদি প্রবাসী সোহেল মিয়াও দূরপ্রবাস থেকে অনিকের বোনকে বিভিন্ন মাধ্যমে চরম প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। অনিক জানান, জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তার তাগিদ অনুভব করে তিনি ইতোমধ্যেই আলফাডাঙ্গা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
বর্তমানে তিনি ও তার পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনগত শাস্তি প্রদান এবং পরিবারের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মো. রাসেল মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা থানার ওসি মো. সোহেল সারোয়ার বলেন, আমরা এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















