সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় আমন ধানের জমিতে পাতাপোড়া রোগের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। উপজেলার নলকা, সোনাখারা, ধবিল ও চান্দাইকোনাসহ সব ইউনিয়নের আমন ক্ষেত এই রোগে আক্রান্ত হওয়ায় ধানের ফলন নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে আমন ধানের জমিতে এ পাতা পোরা রোগের লক্ষণ দেখা যায়। কৃষকেরা জানান, শুরুতে ধানের পাতার কিছু অংশে বিবর্ণতা দেখা দেয়। পরে ধীরে ধীরে পাতার আগা ও কিনারা শুকিয়ে পুরো গাছের ওপর প্রভাব পড়তে শুরু করে। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় সঠিক ফলন পাওয়া নিয়ে তারা শঙ্কিত রয়েছে। নলকার ইউনিয়নের কৃষক মো. শাহ্ আলম বলেন, আমার ১৮ শতক জমিতে ধানের গাছ ভালোই ছিল।
হঠাৎ করে পাতার আগা শুকাতে শুরু করে। পরে ধীরে ধীরে পুরো জমিতে একই অবস্থা হয়েছে। এখন কীভাবে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি। কুমাজপুর গ্রামের কৃষক মো. জীবন আহমেদ বলেন, ধানের জমিতে পাতাপোড়া রোগ দেখা দেওয়ায় আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। কয়েকদিন আগেও ধানের গাছগুলো বেশ ভালো ছিল। হঠাৎ করে পাতার আগা ও কিনারা শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে।
রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ফলন কমে যেতে পারে। তাই কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের দ্রুত জমি পরিদর্শন করে রোগ শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার অনুরোধ করছি। আলমচাদঁপুর গ্রামের কৃষক মো. নুরুল ইসলাম বলেন, আমার ৩ বিঘা ধানের জমিতে হঠাৎ করে পাতাপোড়া রোগ দেখা দেওয়ায় আমি খুব চিন্তায় পড়ে গেছি। প্রথমে কয়েকটি গাছের পাতায় সমস্যা দেখা দিলেও এখন ধীরে ধীরে তা পুরো জমিতে ছড়িয়ে পড়ছে।
সময়মতো রোগের চিকিৎসা না করা গেলে ধানের ফলন কমে গিয়ে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারি। তাই কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের দ্রুত জমি পরিদর্শন করে রোগ শনাক্ত ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। কাঠালবাড়িয়া গ্রামের কৃষক মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, আমি ৭ বিঘা জমিতে ধান করি তার মধ্যে আমার ১৫ শতক কাটারি ভোগ ধানের জমিতে পাতাপোড়া রোগ দেখা দেওয়ায় আমি বেশ দুশ্চিন্তায় আছি।
ধানের গাছ ভালো থাকলেও হঠাৎ করে পাতার আগা ও কিনারা শুকিয়ে যাচ্ছে। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে আমন ধানের জমিতে বিএলবি (BLB-Bacterial Leaf Blight) বা ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতা ঝলসানো রোগ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আক্রান্ত জমির কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।
পাশাপাশি রোগটি যাতে অন্য জমিতে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়ে কৃষকদের সতর্ক করা হবে এবং কৃষকদের নিয়মিত জমি পরিদর্শন করে রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এদিকে কৃষকেরা বলছেন, আমন ধান আমাদের মৌসুমি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। ধানের জমিতে পাতাপোড়া রোগ দেখা দেওয়ায় ইতোমধ্যে ফলন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রোগটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। তাদের দাবি, দ্রুত আক্রান্ত জমিগুলো পরিদর্শন করে রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।






















