নতুন স্মার্টফোন কেনার সময় ক্যামেরা, প্রসেসর, ব্যাটারি কিংবা ডিসপ্লের দিকে নজর দেন প্রায় সবাই। কিন্তু ফোনে থাকা টাইপ-সি পোর্ট নিয়ে কতজন খোঁজ নেন? অনেকের ধারণা, ফোনে টাইপ-সি থাকলেই সেটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।
বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। একই টাইপ-সি পোর্টের আকারের ভেতরে একেবারে পুরোনো ইউএসবি প্রযুক্তিও থাকতে পারে। টাইপ-সি মানেই কিন্তু দ্রুত নয় প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার ইউএসবি টাইপ-সি মূলত একটি কানেক্টরের আকৃতি বা সংযোগের ধরন। এর মাধ্যমে কোন গতিতে ডাটা আদান-প্রদান হবে, সেটি নির্ভর করে পোর্টের ভেতরে কোন ইউসবি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে তার ওপর।
ফলে ফোনে টাইপ-সি পোর্ট থাকলেও সেটি ইউসিবি ২.০ প্রযুক্তির হতে পারে। ইউসিবি ২.০ প্রকাশিত হয়েছিল ২০০০ সালের আগস্টে। অর্থাৎ নতুন ফোনেও প্রায় ২৬ বছরের পুরোনো ডাটা ট্রান্সফার প্রযুক্তি দেখা যেতে পারে। সমস্যা কোথায়? ইউসিবি ২.০-ভিত্তিক টাইপ-সি পোর্টের তাত্ত্বিক সর্বোচ্চ ডাটা ট্রান্সফার গতি প্রায় ৪৮০ এমবিপিএস। সাধারণ ব্যবহারে এই গতি আরও কম হতে পারে।
ফলে ফোন থেকে কয়েক গিগাবাইটের ছবি, ভিডিও বা অন্য ফাইল কম্পিউটারে পাঠাতে গেলে বেশ সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে, ইউসিবি ৩ সিরিজের তুলনামূলক আধুনিক প্রযুক্তিতে অনেক বেশি গতিতে ডাটা স্থানান্তর করা সম্ভব। নির্দিষ্ট ইউসিবি ৩ সংস্করণ অনুযায়ী গতি ১০ জিবিপিএস বা তারও বেশি হতে পারে। অর্থাৎ টাইপ-সি কানেক্টর একই হলেও দুটি ফোনের ডাটা ট্রান্সফারের অভিজ্ঞতায় বড় পার্থক্য থাকতে পারে।
শুধু ডাটা নয়, ডিসপ্লেতেও প্রভাব টাইপ-সি পোর্টের ক্ষমতা শুধু ফাইল কপি করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পোর্টটি যদি ভিডিও আউটপুট সমর্থন করে, তাহলে ফোনকে উপযুক্ত মনিটর বা অন্য ডিসপ্লের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। কিন্তু ইউসিবি ২.০-ভিত্তিক অনেক টাইপ-সি পোর্টে এই ধরনের ডিসপ্লে আউটপুট সুবিধা থাকে না। ফলে ফোনকে বড় স্ক্রিনের সঙ্গে যুক্ত করে কাজ করার পরিকল্পনা থাকলে শুধু ‘টাইপ-সি’ লেখা দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
কেন এত সহজে বোঝা যায় না? এখানেই ক্রেতাদের বড় সমস্যা। ইউসিবি-এ পোর্টের ক্ষেত্রে অনেক সময় নীল রঙের অংশ দেখে দ্রুতগতির ইউসিবি সংস্করণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু টাইপ-সি পোর্ট দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় শুধু বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় থাকে না, এর ভেতরে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তাই নতুন ফোন কেনার সময় শুধু ‘টাইপ-সি চার্জিং’ লেখা আছে কি না দেখলেই হবে না।
নির্মাতার স্পেসিফিকেশন দেখে ইউসিবি ভার্শন, ডাটা ট্রান্সফার স্পিড এবং ভিডিও আউটপুট সাপোর্ট পরীক্ষা করা উচিত। নতুন ফোন কিনলে কী দেখবেন? নিয়মিত বড় ফাইল স্থানান্তর করেন, ফোনকে মনিটরের সঙ্গে যুক্ত করতে চান কিংবা দীর্ঘদিন ব্যবহার করার জন্য ফোন কিনছেন, তাহলে তুলনামূলক আধুনিক ইউসিবি প্রযুক্তি থাকা মডেল বেছে নেওয়া ভালো। ইউসিবি ৩.২ বা ইউসিবি৪-সমর্থিত পোর্ট হলে সাধারণত দ্রুত ডাটা ট্রান্সফারের সুবিধা পাওয়া যায়।
তবে শুধু চার্জিং এবং সাধারণ ব্যবহারের জন্য ফোন কিনলে ইউসিবি ২.০-ভিত্তিক টাইপ-সি আপনার জন্য বড় সমস্যা নাও হতে পারে। তাই টাইপ-সি আছে কি না নয়, টাইপ-সি-এর ভেতরে কী প্রযুক্তি আছে নতুন ফোন কেনার সময় সেটিই আসল প্রশ্ন।
























