ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভায় সড়ক সংস্কারকাজে চরম অনিয়ম এবং নিম্নমানের উপাদান ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী উন্নয়নকাজের বিস্তারিত তথ্যসংক্রান্ত সাইনবোর্ড টাঙানো ছাড়াই নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে।
বারবার প্রশাসনিক সতর্কবার্তা ও নোটিশ দেওয়ার পরও নির্দেশ অমান্য করে মানহীন ইটের খোয়া দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘কোভিড-১৯ রেসপন্স অ্যান্ড রিকভারী প্রজেক্ট (এলজিসিআরআরপি)’-এর আওতায় আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বুড়াইচ প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে বাঁকাইল ঈদগাহ পর্যন্ত ১ হাজার ৪৮ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি ‘ইউনি ব্লক’ সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে।
প্রায় ৯৭ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ের এ কাজটি বাস্তবায়ন করছে ফরিদপুর সদরের কোমরপুর এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স গ্রীন কনস্ট্রাকশন’। প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরকারের কোনো উন্নয়ন কাজ চলাকালে প্রকল্পের নাম, প্রাক্কলিত ব্যয়, ঠিকাদারের নাম ও মেয়াদকাল উল্লেখ করে জনসম্মুখে সাইনবোর্ড টাঙানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেখানে কোনো তথ্য সাইনবোর্ড প্রদর্শন করা হয়নি।
তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকা এবং পর্যাপ্ত তদারকি না পাওয়ার সুযোগে ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো মানহীন সামগ্রী ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনুসন্ধানে জানা যায়, সড়কটির ‘ডব্লিউবিএম’ লেয়ার বা ভিত্তি নির্মাণের শুরুতেই অত্যন্ত নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছিল। গত ৮ জুলাই পৌরসভা থেকে সরকারি স্মারকে চিঠি দিয়ে সাইট থেকে এসব মানহীন সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও ঠিকাদার তা অমান্য করেই কাজ চালিয়ে যান।
পরবর্তীতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর আরএমএসইউ-এর রিজিওনাল সুপারভিশন ইঞ্জিনিয়ার সরেজমিনে পরিদর্শন করে অনিয়মের সত্যতা পান। পরিদর্শন শেষে তিনি অবিলম্বে নিম্নমানের খোয়া অপসারণ করে সিডিউল অনুযায়ী কাজের মান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। বারবার নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে এলে গত ১৪ সেপ্টেম্বর আলফাডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক ঠিকাদারকে কারণ দর্শানোসহ চূড়ান্ত নোটিশ জারি করেন।
নোটিশে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে পুরো সড়ক থেকে মানহীন খোয়া অপসারণ করে নতুন করে সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত খোয়া দিয়ে কাজ শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ পুনর্নির্মাণ ও সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হলে ঠিকাদারকে ইতিপূর্বে দেওয়া সমুদয় বিলের টাকা ফেরত বা আদায়সহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স গ্রীন কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার এস এম কোবাদ বলেন, ‘চিঠির নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হবে। কাজ শেষে কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করে বুঝে নেবে। ’ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী জাকারিয়া আলম জানান, ‘কাজে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় ঠিকাদারকে বারবার কাজ বন্ধ ও সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
নির্দেশ অমান্য করায় তাকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ’ আলফাডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিব বলেন, ‘আমি সদ্য এই উপজেলায় যোগদান করেছি। পৌরসভার কোনো উন্নয়নকাজে অনিয়মের মধ্য দিয়ে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। মানহীন সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ আগেই দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ডেকে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















