আজ শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৩৫%

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হোটেলে নাশতার ফাঁকে ৫ লাখ টাকা চুরি, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:43:58 am, Saturday, 3 October 2026
  • 11

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হোটেলে নাশতার ফাঁকে ৫ লাখ টাকা চুরি, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে একটি হোটেলে নাশতা করার সময় পাঁচ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগ উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পার্শ্ববর্তী একটি ফটোকপির দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নাশতা শেষে ব্যবসায়ী ও তার সঙ্গী হোটেল থেকে বের হওয়ার পরপরই এক ব্যক্তি হোটেল থেকে বেরিয়ে অটোরিকশার অপেক্ষায় দাঁড়ান।

পরে হোটেলের ভেতর থেকে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে ওই অটোরিকশায় উঠে চলে যান তিনি। ব্যবসায়ীর দাবি, ওই সময়ই তার টাকার ব্যাগটি উধাও হয়। শুক্রবার সকালে আক্কেলপুর শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে এস এম হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হোটেলের ক্যাশিয়ারসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। প্রায় নয় ঘণ্টা পর ব্যবসায়ী মো. লিটন হোসেন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী মো. লিটন হোসেনের বাড়ি বগুড়ার শেরপুরে। তিনি ট্রাকে করে নওগাঁর ধামইরহাটে ধান কিনতে যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে ধান কেনার পাঁচ লাখ টাকা ছিল। পথে ট্রাকটি আক্কেলপুর শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে থামিয়ে চালক আলম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে এস এম হোটেলে নাশতা করতে যান তিনি। লিটনের ভাষ্য, নাশতা শেষে পাঁচ লাখ টাকা রাখা হলুদ রঙের ব্যাগটি রেখে পাশের একটি চেয়ারে চা খেতে যান।

নাশতা শেষে হাত ধুয়ে ক্যাশে থাকা নারী ক্যাশিয়ারকে বিল পরিশোধ করেন। এরপর পাশের চায়ের দোকানে চা খেতে যান। সেখানে যাওয়ার প্রায় এক মিনিট পর ব্যাগের কথা মনে পড়লে দ্রুত হোটেলে ফিরে আসেন। কিন্তু তখন ক্যাশে থাকা নারী ক্যাশিয়ারও সেখানে ছিলেন না। চেয়ারে রাখা ব্যাগটিও পাওয়া যায়নি। আজ শনিবার পাশের দোকানি মীর মোহাম্মদ সুজনের ফটোকপির দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়।

লিটনের দাবি, ফুটেজে দেখা যায়, তিনি ও তার সঙ্গী ৭টা ৫১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের দিকে হোটেল থেকে বের হওয়ার পর এক ব্যক্তি হোটেল থেকে বেরিয়ে অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছেন। পরে হোটেলের ভেতর থেকে হলুদ রঙের ব্যাগটিসহ এক নারীকে নিয়ে এসে ওই অটোরিকশায় উঠে দুজন চলে যান। লিটন হোসেন বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে, যে হলুদ রঙের ব্যাগটি নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে, সেটি আমার ব্যাগ।

ট্রাকচালক আলম হোসেন বলেন, লিটন তাকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে নাশতা করতে ঢোকেন। তার কাছে ধান কেনার পাঁচ লাখ টাকা ছিল। লিটন পাশের চেয়ারে টাকার ব্যাগ রেখে নাশতা করছিলেন। তার নাশতা শেষ হলে তিনি হোটেলের পাশের চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন। কিছুক্ষণ পর লিটনও সেখানে এসে চায়ের অর্ডার করেন। তিনি টাকার ব্যাগের কথা জানতে চাইলে লিটন দ্রুত হোটেলে গিয়ে দেখেন, ব্যাগটি নেই।

খবর পেয়ে আক্কেলপুর থানার পুলিশ হোটেলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে হোটেলের ক্যাশিয়ার মাহফুজা খাতুন (৫০), তার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং দুই কর্মচারী মিন্টু (৪০) ও আবিদকে (৩০) থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। হোটেল মালিক সোলাইমান আলীর বাড়ি পাশের কালাই উপজেলার মহেশপুর গ্রামে।

তিনি ভাড়া নিয়ে হোটেলটি পরিচালনা করেন। সোলাইমান আলী বলেন, শুক্রবার সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় সাধারণত খরিদ্দার কম থাকে। তবে সকালে নাশতার সময় কিছুটা ভিড় ছিল। তিনি তার স্ত্রীকে ক্যাশে রেখে বাজারে গিয়েছিলেন। পরে হোটেলে ফিরে পুলিশ দেখতে পান। হোটেলের কেউ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। বাসা ও হোটেলের বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও টাকা পাওয়া যায়নি।

হোটেলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই। আক্কেলপুর থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, হোটেলের ক্যাশিয়ারসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযোগকারীর বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায় এমন একটি ব্যাগ হাতে এক পুরুষ ও এক নারীকে অটোরিকশায় উঠে চলে যেতে দেখা গেছে।

ফুটেজটি সংগ্রহ করে পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছে। ওসি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে ব্যাগ নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তাদের শনাক্ত করতে সড়কের বিভিন্ন দোকানের সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বৈশাখী টিভিতে শুরু হচ্ছে প্রথম পডকাস্ট শো ‘ক্যারিয়ার ক্লাসরুম’

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হোটেলে নাশতার ফাঁকে ৫ লাখ টাকা চুরি, সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে

Update Time : 11:43:58 am, Saturday, 3 October 2026

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে একটি হোটেলে নাশতা করার সময় পাঁচ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগ উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পার্শ্ববর্তী একটি ফটোকপির দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নাশতা শেষে ব্যবসায়ী ও তার সঙ্গী হোটেল থেকে বের হওয়ার পরপরই এক ব্যক্তি হোটেল থেকে বেরিয়ে অটোরিকশার অপেক্ষায় দাঁড়ান।

পরে হোটেলের ভেতর থেকে এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে ওই অটোরিকশায় উঠে চলে যান তিনি। ব্যবসায়ীর দাবি, ওই সময়ই তার টাকার ব্যাগটি উধাও হয়। শুক্রবার সকালে আক্কেলপুর শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে এস এম হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হোটেলের ক্যাশিয়ারসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। প্রায় নয় ঘণ্টা পর ব্যবসায়ী মো. লিটন হোসেন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগকারী মো. লিটন হোসেনের বাড়ি বগুড়ার শেরপুরে। তিনি ট্রাকে করে নওগাঁর ধামইরহাটে ধান কিনতে যাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে ধান কেনার পাঁচ লাখ টাকা ছিল। পথে ট্রাকটি আক্কেলপুর শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে থামিয়ে চালক আলম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে এস এম হোটেলে নাশতা করতে যান তিনি। লিটনের ভাষ্য, নাশতা শেষে পাঁচ লাখ টাকা রাখা হলুদ রঙের ব্যাগটি রেখে পাশের একটি চেয়ারে চা খেতে যান।

নাশতা শেষে হাত ধুয়ে ক্যাশে থাকা নারী ক্যাশিয়ারকে বিল পরিশোধ করেন। এরপর পাশের চায়ের দোকানে চা খেতে যান। সেখানে যাওয়ার প্রায় এক মিনিট পর ব্যাগের কথা মনে পড়লে দ্রুত হোটেলে ফিরে আসেন। কিন্তু তখন ক্যাশে থাকা নারী ক্যাশিয়ারও সেখানে ছিলেন না। চেয়ারে রাখা ব্যাগটিও পাওয়া যায়নি। আজ শনিবার পাশের দোকানি মীর মোহাম্মদ সুজনের ফটোকপির দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ দেখা হয়।

লিটনের দাবি, ফুটেজে দেখা যায়, তিনি ও তার সঙ্গী ৭টা ৫১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের দিকে হোটেল থেকে বের হওয়ার পর এক ব্যক্তি হোটেল থেকে বেরিয়ে অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছেন। পরে হোটেলের ভেতর থেকে হলুদ রঙের ব্যাগটিসহ এক নারীকে নিয়ে এসে ওই অটোরিকশায় উঠে দুজন চলে যান। লিটন হোসেন বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে মনে হচ্ছে, যে হলুদ রঙের ব্যাগটি নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে, সেটি আমার ব্যাগ।

ট্রাকচালক আলম হোসেন বলেন, লিটন তাকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে নাশতা করতে ঢোকেন। তার কাছে ধান কেনার পাঁচ লাখ টাকা ছিল। লিটন পাশের চেয়ারে টাকার ব্যাগ রেখে নাশতা করছিলেন। তার নাশতা শেষ হলে তিনি হোটেলের পাশের চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন। কিছুক্ষণ পর লিটনও সেখানে এসে চায়ের অর্ডার করেন। তিনি টাকার ব্যাগের কথা জানতে চাইলে লিটন দ্রুত হোটেলে গিয়ে দেখেন, ব্যাগটি নেই।

খবর পেয়ে আক্কেলপুর থানার পুলিশ হোটেলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে হোটেলের ক্যাশিয়ার মাহফুজা খাতুন (৫০), তার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং দুই কর্মচারী মিন্টু (৪০) ও আবিদকে (৩০) থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। হোটেল মালিক সোলাইমান আলীর বাড়ি পাশের কালাই উপজেলার মহেশপুর গ্রামে।

তিনি ভাড়া নিয়ে হোটেলটি পরিচালনা করেন। সোলাইমান আলী বলেন, শুক্রবার সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় সাধারণত খরিদ্দার কম থাকে। তবে সকালে নাশতার সময় কিছুটা ভিড় ছিল। তিনি তার স্ত্রীকে ক্যাশে রেখে বাজারে গিয়েছিলেন। পরে হোটেলে ফিরে পুলিশ দেখতে পান। হোটেলের কেউ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। বাসা ও হোটেলের বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও টাকা পাওয়া যায়নি।

হোটেলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরাও নেই। আক্কেলপুর থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, হোটেলের ক্যাশিয়ারসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে তাদের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযোগকারীর বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায় এমন একটি ব্যাগ হাতে এক পুরুষ ও এক নারীকে অটোরিকশায় উঠে চলে যেতে দেখা গেছে।

ফুটেজটি সংগ্রহ করে পুলিশ পর্যবেক্ষণ করছে। ওসি আরও বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে ব্যাগ নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তাদের শনাক্ত করতে সড়কের বিভিন্ন দোকানের সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা হবে।