আজ শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৬%

রাজধানীতে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপে বিপর্যস্ত জনজীবন

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:16:09 pm, Friday, 2 October 2026
  • 10

রাজধানীতে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপে বিপর্যস্ত জনজীবন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজধানীর গুলশানের লেকপাড়ের বাসিন্দা মামুন সোহাগ ও নিফাত সুলতানা দম্পতির দুজনেই আলাদা আলাদা বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সদ্য বিবাহিত এই দম্পতির সংসারে ১৫ দিন যাবৎ সুখ যেন হারিয়ে গেছে।

স্বামী সোহাগ একদিন অফিস থেকে ফেরেন তীব্র জ্বর নিয়ে। এরপর টানা তিন দিন জ্বর ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রির নিচে নামেনি। আতঙ্কিত স্ত্রী তাকে নিয়ে যান চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসক ডেঙ্গুসহ কয়েকটি টেস্ট দেন, কিন্তু কোনো কিছুই ধরা পড়ে না। অথচ জ্বরের তাপ যে কমছেই না। ১৪ দিনের মাথায় জ্বরের তীব্রতা সইতে না পেরে বাসার পাশেই একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে যান সোহাগ, কিন্তু সেখান সিট খালি না থাকায় ছুটে যান মহাখালীর অন্য বেসরকারি হাসপাতালে।

সেখানে কেবিন ফাঁকা না থাকায় বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডেই অন্য রোগীদের সঙ্গে ভর্তি হন তিনি। সেখানে ডেঙ্গু রোগী বেশি ভর্তি থাকায় আতঙ্কে থাকেন দুজনেই। একই অবস্থা রাজধানীর গোড়ানের বাসিন্দা রাজনীতিবিদ হারুন-উর-রশিদেরও। গত মাসের শেষের দিকে একমাত্র শিশুকন্যা রাইসার জ্বর আসে। জ্বর আসার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান কোলের সন্তানকে।

পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চিকিৎসক তখন হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করার পরামর্শ দেন। রাজধানীর শান্তিনগরের যে হাসপাতালে ওই চিকিৎসক রোগী দেখেন, সেখানে একটিও সিট ফাঁকা নেই। এমনকি কেবিনও খালি না থাকায় বাধ্য হয়ে সন্তানকে নিয়ে যান মুগদা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনোমতে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে একটি সিট খালি পেলেও হাসপাতালজুড়ে হাম-আর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভিড়ে অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন হারুন-উর রশিদ ও তার স্ত্রী।

শুধু মামুন সোহাগ বা রাইসার পরিবারই নয়, রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব এলাকায় ঘরে ঘরে জ্বর। কারও শরীরে তীব্র জ্বর, সঙ্গে মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা; কারও আবার জ্বরের সঙ্গে দেখা দিচ্ছে র‌্যাশ, শ্বাসকষ্ট কিংবা নানা জটিলতা। হাসপাতালে গেলেই দীর্ঘ অপেক্ষা। সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ডে তো জায়গা নেইই, তিল ধারণের জায়গা নেই মেঝে এবং করিডরেও।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বেসরকারি হাসপাতালেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সিট। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন স্বজনেরা। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, একদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ, অন্যদিকে হাম ও হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর চাপ। সঙ্গে আবার পাওয়া যাচ্ছে টাইফয়েডের রোগীও। একসঙ্গে তিন ধরনের সংক্রমণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

এর সঙ্গে মৌসুমি ভাইরাসজনিত জ্বর ও অন্যান্য সংক্রমণ যুক্ত হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ আরও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট হাসপাতালের শয্যসংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৩। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যা ৭১ হাজার ৯৬২টি। আর লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতালের শয্যা ৯২ হাজার ৬০১টি।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতের সব শয্যা সংক্রামক রোগীর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার না হওয়ার কারণে জ্বরের রোগীর চাপ নিতে পারছে বেসরকারি হাসপাতালগুলো উল্লেখ করে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বেশির ভাগ বেসরকারি হাসপাতালই অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় গুরুত্ব দেয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক ডেঙ্গু-হামের প্রকোপ বাড়ার কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমরা এসব রোগীরও চিকিৎসা দিচ্ছি। কিন্তু আমাদের যেহেতু অন্য অসংক্রামক রোগীই বেশি, তাই জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের জন্য শয্যাসংখ্যা পর্যাপ্ত নয় এটা সত্যি। আমাদের মতো সব বেসরকারি হাসপাতালের অবস্থাই এরকম। তাই বেসরকারি হাসপাতালেও শয্যাসংকটের কথা বলছেন রোগীরা।

ঘরে ঘরে জ্বর : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই জ্বরের রোগী বাড়ার খবর পাওয়া যায়। পরিবারের একজন আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য সদস্যদের মধ্যেও জ্বর ছড়িয়ে পড়ছে এমন অভিজ্ঞতা জানাচ্ছেন অনেকেই। শিশুদের মধ্যে জ্বরের পাশাপাশি র‌্যাশ ও শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গও দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, শুধু উপসর্গ দেখে ডেঙ্গু, হাম কিংবা অন্য কোনো ভাইরাসজনিত জ্বর নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগের কারণ শনাক্ত করা জরুরি। বিশেষ করে ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে রোগের বিভিন্ন পর্যায়ে জটিলতার ঝুঁকি থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন বিপজ্জনক হতে পারে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে জ্বর নিয়ে আসা রোগীদের একটি অংশকে ভর্তি করতে হচ্ছে। আবার অনেককে বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হলেও ফলোআপের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যার সংকট নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু চলতি সংক্রমণ পরিস্থিতিতে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেয়ে তারা বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছেন।

সেখানে কাঙ্ক্ষিত সিট না পেয়ে একাধিক হাসপাতাল ঘুরতে হচ্ছে। কোথাও সাধারণ ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় কেবিন বা উচ্চমূল্যের বেড নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলে জ্বর বা সংক্রমণের চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেক পরিবারকে বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য এই চাপ আরও বেশি। আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে, কোনো একটি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেই হাসপাতালের বেডের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়।

কিন্তু দেশে রোগীর চাপ মোকাবিলায় হাসপাতালভিত্তিক প্রস্তুতি থাকলেও নগর ও জনস্বাস্থ্যভিত্তিক আগাম প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। সরকারকে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। ডেঙ্গুর সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে হাম : ডেঙ্গু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম বড় মৌসুমি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে এডিস মশার বিস্তার বাড়ায় রোগটির ঝুঁঁকি বাড়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ডেঙ্গুতে ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে ১ হাজার ১৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮২ হাজার ৭৬১।

অন্যদিকে, একই সময়ে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৫০। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৪২ জন। এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ৬২৩ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া, ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১২ জন মারা গেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু ও হাম— দুটি রোগেরই চাপ একই সময়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর পড়ছে।

ফলে হাসপাতালের সাধারণ শয্যা, শিশু ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ এবং আইসিইউ— সব জায়গাতেই বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। দুটি রোগের প্রকৃতি ভিন্ন হলেও নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা উভয়ের বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং হাম প্রতিরোধে উচ্চ টিকাদান কাভারেজ— দুটিই জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

যদিও সরকার চেষ্টা করছে শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার, কিন্তু ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা নিধনে সমন্বিত পদক্ষে না নিলে মারাত্মক বিপদ আসতে পারে সামনে। মশা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপের সঙ্গে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন স্থানে নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা, ড্রেন, ছাদ, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র কিংবা জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলেও সেসব ঠিকমতো নিধন করা যাচ্ছে না দাবি করে কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত নজরদারি, উৎসস্থলভিত্তিক ব্যবস্থা এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ততা জরুরি।

একটি এলাকায় মশার প্রজননস্থল রেখে অন্য এলাকায় ফগিং করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। তাই সিটি করপোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পানি ও পয়োনিষ্কাশন-সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে কোথাও পানি জমে থাকছে, কোথাও বর্জ্য পড়ে থাকছে, কোথাও অতিরিক্ত জনঘনত্ব তৈরি হচ্ছে— এসব পরিবেশ রোগজীবাণু ও বাহক মশার বিস্তারের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে।

এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু, হাম, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, নগর তাপ ও অনিরাপদ পানির মতো জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় নগর পরিকল্পনাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংস্থাটি বলেছে, জনস্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয় নয়; একটি শহরের ভূমি ব্যবহার, ড্রেনেজ, জলাশয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আবাসনের ঘনত্ব ও খোলা জায়গার পরিকল্পনার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ‘হাম ও ডেঙ্গু : জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নগর পরিকল্পনার ভূমিকা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান বিআইপির সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মে মাসের প্রাকবর্ষা জরিপে ৬৩টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ড ছিল সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে।

২ হাজার ২৩৮টি বাড়ি পরিদর্শন করে ২৮১টিতে এডিস মশার লার্ভা বা পিউপা পাওয়া যায়। এসব পজিটিভ বাড়ির ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ ছিল বহুতল ভবন এবং ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ নির্মাণাধীন ভবন। নির্মাণাধীন ভবন, বেজমেন্ট, লিফটের গর্ত ও ছাদে পানি জমে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তাই ভবন নির্মাণের অনুমোদনের শর্তে পানি জমা প্রতিরোধ ও বেজমেন্ট ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করা এবং নির্মাণস্থলে নিয়মিত লার্ভা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘হাম নিয়ন্ত্রণে আবারও টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য একটি শিশুও যেন টিকার আওতার বাইরে না থাকে। আর ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা রোগী ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু এর সঙ্গে যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেটা হলো জনসচেতনতা।

নিজের বাড়িঘর পরিষ্কার রাখা, কোথাও জমানো পানি না রাখা, জ্বর হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। এতে কিছুটা হলেও পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

প্রতিষ্ঠার দুই দশকে নোবিপ্রবিতে বিদেশি শিক্ষার্থী মাত্র ১২ জন

রাজধানীতে ডেঙ্গু ও হামের প্রকোপে বিপর্যস্ত জনজীবন

Update Time : 10:16:09 pm, Friday, 2 October 2026

রাজধানীর গুলশানের লেকপাড়ের বাসিন্দা মামুন সোহাগ ও নিফাত সুলতানা দম্পতির দুজনেই আলাদা আলাদা বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। সদ্য বিবাহিত এই দম্পতির সংসারে ১৫ দিন যাবৎ সুখ যেন হারিয়ে গেছে।

স্বামী সোহাগ একদিন অফিস থেকে ফেরেন তীব্র জ্বর নিয়ে। এরপর টানা তিন দিন জ্বর ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রির নিচে নামেনি। আতঙ্কিত স্ত্রী তাকে নিয়ে যান চিকিৎসকের কাছে। চিকিৎসক ডেঙ্গুসহ কয়েকটি টেস্ট দেন, কিন্তু কোনো কিছুই ধরা পড়ে না। অথচ জ্বরের তাপ যে কমছেই না। ১৪ দিনের মাথায় জ্বরের তীব্রতা সইতে না পেরে বাসার পাশেই একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হতে যান সোহাগ, কিন্তু সেখান সিট খালি না থাকায় ছুটে যান মহাখালীর অন্য বেসরকারি হাসপাতালে।

সেখানে কেবিন ফাঁকা না থাকায় বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডেই অন্য রোগীদের সঙ্গে ভর্তি হন তিনি। সেখানে ডেঙ্গু রোগী বেশি ভর্তি থাকায় আতঙ্কে থাকেন দুজনেই। একই অবস্থা রাজধানীর গোড়ানের বাসিন্দা রাজনীতিবিদ হারুন-উর-রশিদেরও। গত মাসের শেষের দিকে একমাত্র শিশুকন্যা রাইসার জ্বর আসে। জ্বর আসার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান কোলের সন্তানকে।

পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। চিকিৎসক তখন হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করার পরামর্শ দেন। রাজধানীর শান্তিনগরের যে হাসপাতালে ওই চিকিৎসক রোগী দেখেন, সেখানে একটিও সিট ফাঁকা নেই। এমনকি কেবিনও খালি না থাকায় বাধ্য হয়ে সন্তানকে নিয়ে যান মুগদা জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনোমতে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে একটি সিট খালি পেলেও হাসপাতালজুড়ে হাম-আর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভিড়ে অসহায় অবস্থায় দিন পার করছেন হারুন-উর রশিদ ও তার স্ত্রী।

শুধু মামুন সোহাগ বা রাইসার পরিবারই নয়, রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব এলাকায় ঘরে ঘরে জ্বর। কারও শরীরে তীব্র জ্বর, সঙ্গে মাথাব্যথা ও শরীর ব্যথা; কারও আবার জ্বরের সঙ্গে দেখা দিচ্ছে র‌্যাশ, শ্বাসকষ্ট কিংবা নানা জটিলতা। হাসপাতালে গেলেই দীর্ঘ অপেক্ষা। সরকারি হাসপাতালের ওয়ার্ডে তো জায়গা নেইই, তিল ধারণের জায়গা নেই মেঝে এবং করিডরেও।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বেসরকারি হাসপাতালেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সিট। এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন স্বজনেরা। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, একদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ, অন্যদিকে হাম ও হাম উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর চাপ। সঙ্গে আবার পাওয়া যাচ্ছে টাইফয়েডের রোগীও। একসঙ্গে তিন ধরনের সংক্রমণ স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

এর সঙ্গে মৌসুমি ভাইরাসজনিত জ্বর ও অন্যান্য সংক্রমণ যুক্ত হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ আরও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে মোট হাসপাতালের শয্যসংখ্যা ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৩। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যা ৭১ হাজার ৯৬২টি। আর লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি হাসপাতালের শয্যা ৯২ হাজার ৬০১টি।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বেসরকারি খাতের সব শয্যা সংক্রামক রোগীর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার না হওয়ার কারণে জ্বরের রোগীর চাপ নিতে পারছে বেসরকারি হাসপাতালগুলো উল্লেখ করে রাজধানীর মহাখালীর ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বেশির ভাগ বেসরকারি হাসপাতালই অসংক্রামক রোগের চিকিৎসায় গুরুত্ব দেয়।

কিন্তু সাম্প্রতিক ডেঙ্গু-হামের প্রকোপ বাড়ার কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমরা এসব রোগীরও চিকিৎসা দিচ্ছি। কিন্তু আমাদের যেহেতু অন্য অসংক্রামক রোগীই বেশি, তাই জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের জন্য শয্যাসংখ্যা পর্যাপ্ত নয় এটা সত্যি। আমাদের মতো সব বেসরকারি হাসপাতালের অবস্থাই এরকম। তাই বেসরকারি হাসপাতালেও শয্যাসংকটের কথা বলছেন রোগীরা।

ঘরে ঘরে জ্বর : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই জ্বরের রোগী বাড়ার খবর পাওয়া যায়। পরিবারের একজন আক্রান্ত হওয়ার পর অন্য সদস্যদের মধ্যেও জ্বর ছড়িয়ে পড়ছে এমন অভিজ্ঞতা জানাচ্ছেন অনেকেই। শিশুদের মধ্যে জ্বরের পাশাপাশি র‌্যাশ ও শ্বাসতন্ত্রের উপসর্গও দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, শুধু উপসর্গ দেখে ডেঙ্গু, হাম কিংবা অন্য কোনো ভাইরাসজনিত জ্বর নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগের কারণ শনাক্ত করা জরুরি। বিশেষ করে ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে রোগের বিভিন্ন পর্যায়ে জটিলতার ঝুঁকি থাকায় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন বিপজ্জনক হতে পারে। রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে জ্বর নিয়ে আসা রোগীদের একটি অংশকে ভর্তি করতে হচ্ছে। আবার অনেককে বহির্বিভাগ থেকে চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হলেও ফলোআপের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যার সংকট নতুন কোনো বিষয় নয়। কিন্তু চলতি সংক্রমণ পরিস্থিতিতে বেসরকারি হাসপাতালেও রোগীর চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সুযোগ না পেয়ে তারা বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছেন।

সেখানে কাঙ্ক্ষিত সিট না পেয়ে একাধিক হাসপাতাল ঘুরতে হচ্ছে। কোথাও সাধারণ ওয়ার্ডে জায়গা না থাকায় কেবিন বা উচ্চমূল্যের বেড নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ফলে জ্বর বা সংক্রমণের চিকিৎসা নিতে গিয়ে অনেক পরিবারকে বাড়তি আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য এই চাপ আরও বেশি। আমার অভিজ্ঞতা হচ্ছে, কোনো একটি রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলেই হাসপাতালের বেডের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়।

কিন্তু দেশে রোগীর চাপ মোকাবিলায় হাসপাতালভিত্তিক প্রস্তুতি থাকলেও নগর ও জনস্বাস্থ্যভিত্তিক আগাম প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। সরকারকে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে। ডেঙ্গুর সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে হাম : ডেঙ্গু বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের অন্যতম বড় মৌসুমি জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষ করে বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে এডিস মশার বিস্তার বাড়ায় রোগটির ঝুঁঁকি বাড়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ডেঙ্গুতে ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এক দিনে ১ হাজার ১৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের নিয়ে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮২ হাজার ৭৬১।

অন্যদিকে, একই সময়ে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ২৫০। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৪২ জন। এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ২১ হাজার ৬২৩ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া, ১ লাখ ৯৮ হাজার ৮৪ জন সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশজুড়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গে মোট ১ হাজার ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০২ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১২ জন মারা গেছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু ও হাম— দুটি রোগেরই চাপ একই সময়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর পড়ছে।

ফলে হাসপাতালের সাধারণ শয্যা, শিশু ওয়ার্ড, জরুরি বিভাগ এবং আইসিইউ— সব জায়গাতেই বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। দুটি রোগের প্রকৃতি ভিন্ন হলেও নগর ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা উভয়ের বিস্তারে ভূমিকা রাখতে পারে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং হাম প্রতিরোধে উচ্চ টিকাদান কাভারেজ— দুটিই জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

যদিও সরকার চেষ্টা করছে শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনার, কিন্তু ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশা নিধনে সমন্বিত পদক্ষে না নিলে মারাত্মক বিপদ আসতে পারে সামনে। মশা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপের সঙ্গে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন স্থানে নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা, ড্রেন, ছাদ, ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র কিংবা জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলেও সেসব ঠিকমতো নিধন করা যাচ্ছে না দাবি করে কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, শুধু ওষুধ ছিটিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত নজরদারি, উৎসস্থলভিত্তিক ব্যবস্থা এবং নাগরিকদের সম্পৃক্ততা জরুরি।

একটি এলাকায় মশার প্রজননস্থল রেখে অন্য এলাকায় ফগিং করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। তাই সিটি করপোরেশন, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পানি ও পয়োনিষ্কাশন-সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে কোথাও পানি জমে থাকছে, কোথাও বর্জ্য পড়ে থাকছে, কোথাও অতিরিক্ত জনঘনত্ব তৈরি হচ্ছে— এসব পরিবেশ রোগজীবাণু ও বাহক মশার বিস্তারের অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে।

এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু, হাম, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, নগর তাপ ও অনিরাপদ পানির মতো জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় নগর পরিকল্পনাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। সংস্থাটি বলেছে, জনস্বাস্থ্য শুধু চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার বিষয় নয়; একটি শহরের ভূমি ব্যবহার, ড্রেনেজ, জলাশয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আবাসনের ঘনত্ব ও খোলা জায়গার পরিকল্পনার সঙ্গেও এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

গতকাল শুক্রবার ‘হাম ও ডেঙ্গু : জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নগর পরিকল্পনার ভূমিকা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান বিআইপির সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মে মাসের প্রাকবর্ষা জরিপে ৬৩টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ড ছিল সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে।

২ হাজার ২৩৮টি বাড়ি পরিদর্শন করে ২৮১টিতে এডিস মশার লার্ভা বা পিউপা পাওয়া যায়। এসব পজিটিভ বাড়ির ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ ছিল বহুতল ভবন এবং ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ নির্মাণাধীন ভবন। নির্মাণাধীন ভবন, বেজমেন্ট, লিফটের গর্ত ও ছাদে পানি জমে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। তাই ভবন নির্মাণের অনুমোদনের শর্তে পানি জমা প্রতিরোধ ও বেজমেন্ট ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত করা এবং নির্মাণস্থলে নিয়মিত লার্ভা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘হাম নিয়ন্ত্রণে আবারও টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য একটি শিশুও যেন টিকার আওতার বাইরে না থাকে। আর ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা রোগী ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি। কিন্তু এর সঙ্গে যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সেটা হলো জনসচেতনতা।

নিজের বাড়িঘর পরিষ্কার রাখা, কোথাও জমানো পানি না রাখা, জ্বর হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। এতে কিছুটা হলেও পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে।