আজ শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৪%

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:22:53 pm, Friday, 2 October 2026
  • 10

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্য। গত বুধবার প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকرهای প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ২০০ বছরের মধ্যে প্রথমবার কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। ওই নারীর নাম ক্রিস্টা পাইক। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দুবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে যান।

পাইকের আইনজীবী জানান, দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পর ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইককে এখন দেওয়া হচ্ছে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা। সাজা কার্যকরের বদলে হাতপালাতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।

আইনজীবীদের আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, প্রথমবারের চেষ্টা ব্যর্থ হলে নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী পাইককে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও জীবিত থাকা ক্রিস্টাকে কী পরিমাণ যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে তা উল্লেখ করে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া বন্ধে আদালতে আবেদন জানান তার আইনজীবীরা।

এদিকে, ক্রিস্টার ঘটনায় চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্য। তবে কেবল একটি রাজ্যে নয়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিতের আহ্বান জানিয়ছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সংস্থাটির উপ-পরিচালক জাস্টিন ম্যাজোলা বলেন, ‘ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চরম নিষ্ঠুরতার দৃষ্টান্ত। এটি প্রমাণ করেছে রাষ্ট্রের পক্ষে কাউকে হত্যা করার কোনো মানবিক উপায় নেই। মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থা এমনভাবে ভেঙে পড়েছে যা আর মেরামত করা সম্ভব নয়। এটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন, এবং কোনো সরকারেরই এটি কার্যকর করার ক্ষমতা থাকা উচিত নয়। এমনকি, ক্রিস্টার শৈশবের গুরুতর যৌন নির্যাতন ও মানসিক আঘাতের বিষয়টি তার বিচার চলাকালীন যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি, যা অগ্রহনযোগ্য।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ১৮ বছর বয়সে একটি খুনের দায়ে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আত্মপক্ষ সমর্থনে শৈশবে যৌন নির্যাতন ও মানসিক ট্রমার শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে আসামি হিসেবেই দেশে ফিরতে হবে: ডা. শাহাদাত

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত

Update Time : 11:22:53 pm, Friday, 2 October 2026

চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্য। গত বুধবার প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকرهای প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে ২০০ বছরের মধ্যে প্রথমবার কোনো নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। ওই নারীর নাম ক্রিস্টা পাইক। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় দুবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পরও তিনি বেঁচে যান।

পাইকের আইনজীবী জানান, দুই দফা প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পর ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইককে এখন দেওয়া হচ্ছে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা। সাজা কার্যকরের বদলে হাতপালাতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি।

আইনজীবীদের আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, প্রথমবারের চেষ্টা ব্যর্থ হলে নির্ধারিত প্রোটোকল অনুযায়ী পাইককে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। কিন্তু এরপরও জীবিত থাকা ক্রিস্টাকে কী পরিমাণ যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে তা উল্লেখ করে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া বন্ধে আদালতে আবেদন জানান তার আইনজীবীরা।

এদিকে, ক্রিস্টার ঘটনায় চলতি বছরের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্য। তবে কেবল একটি রাজ্যে নয়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়েই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিতের আহ্বান জানিয়ছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

সংস্থাটির উপ-পরিচালক জাস্টিন ম্যাজোলা বলেন, ‘ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টা চরম নিষ্ঠুরতার দৃষ্টান্ত। এটি প্রমাণ করেছে রাষ্ট্রের পক্ষে কাউকে হত্যা করার কোনো মানবিক উপায় নেই। মৃত্যুদণ্ড ব্যবস্থা এমনভাবে ভেঙে পড়েছে যা আর মেরামত করা সম্ভব নয়। এটি মানবাধিকারের লঙ্ঘন, এবং কোনো সরকারেরই এটি কার্যকর করার ক্ষমতা থাকা উচিত নয়। এমনকি, ক্রিস্টার শৈশবের গুরুতর যৌন নির্যাতন ও মানসিক আঘাতের বিষয়টি তার বিচার চলাকালীন যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি, যা অগ্রহনযোগ্য।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে ১৮ বছর বয়সে একটি খুনের দায়ে ক্রিস্টা পাইককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। আত্মপক্ষ সমর্থনে শৈশবে যৌন নির্যাতন ও মানসিক ট্রমার শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।