আজ বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
১৫ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৮%

সুপার ইন্টেলিজেন্স নিয়ে হোয়াইট হাউসের নতুন সমঝোতা, ৪ স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:10:19 pm, Wednesday, 30 September 2026
  • 10

সুপার ইন্টেলিজেন্স নিয়ে হোয়াইট হাউসের নতুন সমঝোতা, ৪ স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির নিরাপদ উন্নয়ন ও ব্যবহারের জন্য নতুন একটি নিরাপত্তা কাঠামোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে অংশগ্রহণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। ‘হোয়াইট হাউস অ্যাকর্ড অন সুপার ইন্টেলিজেন্স: জয়েন্ট কমিটমেন্ট অন ফ্রন্টিয়ার রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক এই নথিতে উন্নত বা ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই মডেল তৈরি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

সমঝোতায় বলা হয়েছে, মার্কিন জনগণ ও বিশ্বের জন্য প্রযুক্তির ইতিবাচক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এআই প্রযুক্তি তৈরি করা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হলো নিরাপদভাবে প্রযুক্তির উন্নয়ন করা এবং গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি করা। এ জন্য উন্নত এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রক্রিয়া ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নথিতে কোম্পানিগুলোর জন্য চার স্তরের নিয়ন্ত্রণ ও অডিট ব্যবস্থা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রথম স্তরে থাকবে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এআই মডেলের সক্ষমতা ও অ্যালাইনমেন্ট পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, বায়োসিকিউরিটি ও রাসায়নিক হুমকির মতো ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং এআই মডেল যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রযুক্তিগত সিস্টেমে প্রবেশ বা হ্যাক করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকবে।

দ্বিতীয় স্তরে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একটি বিশেষায়িত অভ্যন্তরীণ টিম থাকবে। এই টিম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পর্যবেক্ষণ ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করবে। কোনো সমস্যা শনাক্ত হলে তা সমাধানের ব্যবস্থাও নেবে। তৃতীয় স্তরে থাকবে স্বাধীন বহিরাগত অডিটর বা মূল্যায়নকারী। তারা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ, পর্যবেক্ষণ ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা প্রত্যাশিতভাবে কাজ করছে কি না, তা স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করবে।

চতুর্থ স্তরে থাকবে পরিচালনা পর্ষদের একটি স্বাধীন কমিটি। এই কমিটি অভ্যন্তরীণ টিম এবং বহিরাগত অডিটরদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করবে, পুরো ব্যবস্থার ওপর নজরদারি করবে এবং শনাক্ত হওয়া সমস্যাগুলো যথাযথভাবে সমাধান করা হচ্ছে কি না তা তদারক করবে। নথিতে বলা হয়েছে, এই চার স্তরের ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কোম্পানি, তাদের গ্রাহক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে আস্থা তৈরি হবে যে উন্নত এআই প্রযুক্তি নির্ধারিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে এআই নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য মানদণ্ড ও সর্বোত্তম চর্চা নির্ধারণ করবে। নথিতে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এসব পদক্ষেপকে আইন বা বিধিমালার আওতায় আনা প্রয়োজন হতে পারে। তবে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা হোক বা না হোক, এআই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব নিয়ন্ত্রণ ও অডিট ব্যবস্থা বাস্তবায়নে কোম্পানিগুলোর প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

রাড্ডা ক্লিনিকে হামলায় এমপি মিষ্টির সংশ্লিষ্টতা তদন্তাধীন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সুপার ইন্টেলিজেন্স নিয়ে হোয়াইট হাউসের নতুন সমঝোতা, ৪ স্তরের নিরাপত্তা কাঠামো

Update Time : 11:10:19 pm, Wednesday, 30 September 2026

উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির নিরাপদ উন্নয়ন ও ব্যবহারের জন্য নতুন একটি নিরাপত্তা কাঠামোর বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে অংশগ্রহণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। ‘হোয়াইট হাউস অ্যাকর্ড অন সুপার ইন্টেলিজেন্স: জয়েন্ট কমিটমেন্ট অন ফ্রন্টিয়ার রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক এই নথিতে উন্নত বা ‘ফ্রন্টিয়ার’ এআই মডেল তৈরি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর দায়িত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

সমঝোতায় বলা হয়েছে, মার্কিন জনগণ ও বিশ্বের জন্য প্রযুক্তির ইতিবাচক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এআই প্রযুক্তি তৈরি করা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হলো নিরাপদভাবে প্রযুক্তির উন্নয়ন করা এবং গ্রাহক ও সাধারণ মানুষের আস্থা তৈরি করা। এ জন্য উন্নত এআই মডেল প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে শক্তিশালী প্রক্রিয়া ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

নথিতে কোম্পানিগুলোর জন্য চার স্তরের নিয়ন্ত্রণ ও অডিট ব্যবস্থা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। প্রথম স্তরে থাকবে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে এআই মডেলের সক্ষমতা ও অ্যালাইনমেন্ট পর্যবেক্ষণ করা হবে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, বায়োসিকিউরিটি ও রাসায়নিক হুমকির মতো ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং এআই মডেল যাতে অনিচ্ছাকৃতভাবে কোনো প্রযুক্তিগত সিস্টেমে প্রবেশ বা হ্যাক করতে না পারে, তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা থাকবে।

দ্বিতীয় স্তরে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে একটি বিশেষায়িত অভ্যন্তরীণ টিম থাকবে। এই টিম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, পর্যবেক্ষণ ও শনাক্তকরণ কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করবে। কোনো সমস্যা শনাক্ত হলে তা সমাধানের ব্যবস্থাও নেবে। তৃতীয় স্তরে থাকবে স্বাধীন বহিরাগত অডিটর বা মূল্যায়নকারী। তারা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ, পর্যবেক্ষণ ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা প্রত্যাশিতভাবে কাজ করছে কি না, তা স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করবে।

চতুর্থ স্তরে থাকবে পরিচালনা পর্ষদের একটি স্বাধীন কমিটি। এই কমিটি অভ্যন্তরীণ টিম এবং বহিরাগত অডিটরদের কাছ থেকে প্রতিবেদন গ্রহণ করবে, পুরো ব্যবস্থার ওপর নজরদারি করবে এবং শনাক্ত হওয়া সমস্যাগুলো যথাযথভাবে সমাধান করা হচ্ছে কি না তা তদারক করবে। নথিতে বলা হয়েছে, এই চার স্তরের ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কোম্পানি, তাদের গ্রাহক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে আস্থা তৈরি হবে যে উন্নত এআই প্রযুক্তি নির্ধারিত উদ্দেশ্য অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে।

এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে এআই নিরাপত্তা উন্নত করার জন্য মানদণ্ড ও সর্বোত্তম চর্চা নির্ধারণ করবে। নথিতে আরও বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এসব পদক্ষেপকে আইন বা বিধিমালার আওতায় আনা প্রয়োজন হতে পারে। তবে আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা হোক বা না হোক, এআই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব নিয়ন্ত্রণ ও অডিট ব্যবস্থা বাস্তবায়নে কোম্পানিগুলোর প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।