ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিটির সভাপতি মো. আশরাফ উদ্দিন, এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার কার্যক্রম, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রাথমিক পর্যালোচনা ও আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। পরে কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন ২৫টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে পরিচিতি ও তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে প্রাথমিক পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এমপি, হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এমপি, এস এম জিলানী এমপি, আব্দুস সালাম আজাদ এমপি, রেজা আহাম্মেদ এমপি, লুৎফুর রহমান এমপি এবং মো. আব্দুল বাতেন এমপি অংশ নেন।
সভাপতির স্বাগত বক্তব্যে মো. আশরাফ উদ্দিন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনসহ বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ উৎসর্গকারী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ছাত্র-জনতাকেও স্মরণ করেন এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা। তিনি স্বাধীনতার পর সশস্ত্র বাহিনীর পুনর্গঠন, শৃঙ্খলা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা নীতির উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।
পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও তুলে ধরেন্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, কলেবর সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। সশস্ত্র বাহিনীকে আধ। বৈঠকে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, কলেবর সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষণের মানোন্নয়নের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।
সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ ও সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্য নিয়েও মতবিনিময় করেন কমিটির সদস্যরা। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে সংক্ষেপে অবহিত করা হয়। কমিটি পুরোনো যন্ত্রপাতি ও মেশিনারিজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দিয়ে বাংলাদেশ সশস্ত্রসেভ এনার্জি, সেভ মানি’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
পাশাপাশি বাহিনীকে সজ্জিত করার সুপারিশ করে। বৈঠকে সেনাবাহিনী কর্তৃক নির্মাণাধীন অবকাঠামোয় ‘সেভ এনার্জি, সেভ মানি’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীতে মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে কমিটি। কমিটির সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী জনগণের কল্যাণে আরও কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখবে।
একই সঙ্গে একটি আধুনিক ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গঠনে সশস্ত্র বাহিনীর তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা প্রত্যাশা করেন তারা। বৈঠকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


















