আজ সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
বজ্রসহ বৃষ্টি
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮৪%

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল শরিয়াহ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর দাবি

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:39:17 pm, Sunday, 6 September 2026
  • 19

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল শরিয়াহ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর দাবি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এ কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে দাবি করে আইনটি চলতি অধিবেশনে পাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত আইনটি শরিয়াহ আইনের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সুপারিশ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রোববার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের জন্য যে চিরস্থায়ী বিধান দিয়েছেন, তাতে বিশ্বাসীদের কাছে এ আইন কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর আয়াত প্রযোজ্য। এর প্রথম দুটি আয়াতে উত্তরাধিকার বণ্টনের মূলনীতি এবং পরের দুটি আয়াতে এর পরিণতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, উইল বা হেবার ক্ষেত্রে যার নামে সম্পত্তি দেওয়া হবে, তাকে মালিকানা ভোগের সুযোগ দিতে হবে। মৃত্যুর পর কার্যকর হওয়ার বিষয়টি হেবা নয়, বরং ওসিয়তের আওতাভুক্ত। ওসিয়তের ক্ষেত্রেও কাকে করা যাবে এবং সর্বোচ্চ কত অংশ করা যাবে, সে বিষয়ে কোরআন-হাদিসে নির্দেশনা রয়েছে। জামায়াত আমিরের দাবি, প্রস্তাবিত আইনে এসব বিষয় যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না থাকায় শরিয়াহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি কোনো ফকিহ নই, মুফতিও নই; আপনাদের মতোই কোরআনের একজন অতি সাধারণ ছাত্র। কোরআন ও হাদিস থেকে আমি যা বুঝেছি, সেটাই এখানে উপস্থাপন করেছি। ’ আইনটি মানুষের ঈমান-আকিদার সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি এভাবে উপস্থাপন করা হলে সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে হকদারের অধিকারও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে মানবিক দিক বিবেচনায় পিতা-মাতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান আইনটি চলতি অধিবেশনেই পাস না করে শরিয়াহ আইনের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানান। তারা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ দিলে তা জাতির জন্য কল্যাণকর হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ইসলামী ফাউন্ডেশনকেও যুক্ত করার প্রস্তাব দেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, ইসলামী ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট আলেম ও স্কলারদের নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সংসদের সামনে উপস্থাপন করতে পারে। স্থায়ী কমিটি এ সুযোগ গ্রহণ করলে সম্ভাব্য বিপর্যয় এবং ‘আল্লাহর আইনের খেলাফ’ থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

যশোরে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অচেতন ৪ জনকে উদ্ধার করল আনসার-ভিডিপি

সম্পত্তি হস্তান্তর বিল শরিয়াহ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর দাবি

Update Time : 09:39:17 pm, Sunday, 6 September 2026

সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এ কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে দাবি করে আইনটি চলতি অধিবেশনে পাস না করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত আইনটি শরিয়াহ আইনের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও সুপারিশ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

রোববার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষের জন্য যে চিরস্থায়ী বিধান দিয়েছেন, তাতে বিশ্বাসীদের কাছে এ আইন কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ ক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর আয়াত প্রযোজ্য। এর প্রথম দুটি আয়াতে উত্তরাধিকার বণ্টনের মূলনীতি এবং পরের দুটি আয়াতে এর পরিণতি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, উইল বা হেবার ক্ষেত্রে যার নামে সম্পত্তি দেওয়া হবে, তাকে মালিকানা ভোগের সুযোগ দিতে হবে। মৃত্যুর পর কার্যকর হওয়ার বিষয়টি হেবা নয়, বরং ওসিয়তের আওতাভুক্ত। ওসিয়তের ক্ষেত্রেও কাকে করা যাবে এবং সর্বোচ্চ কত অংশ করা যাবে, সে বিষয়ে কোরআন-হাদিসে নির্দেশনা রয়েছে। জামায়াত আমিরের দাবি, প্রস্তাবিত আইনে এসব বিষয় যথাযথভাবে সম্পৃক্ত না থাকায় শরিয়াহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি কোনো ফকিহ নই, মুফতিও নই; আপনাদের মতোই কোরআনের একজন অতি সাধারণ ছাত্র। কোরআন ও হাদিস থেকে আমি যা বুঝেছি, সেটাই এখানে উপস্থাপন করেছি। ’ আইনটি মানুষের ঈমান-আকিদার সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি এভাবে উপস্থাপন করা হলে সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে হকদারের অধিকারও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে মানবিক দিক বিবেচনায় পিতা-মাতার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান আইনটি চলতি অধিবেশনেই পাস না করে শরিয়াহ আইনের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানান। তারা বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সুপারিশ দিলে তা জাতির জন্য কল্যাণকর হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ইসলামী ফাউন্ডেশনকেও যুক্ত করার প্রস্তাব দেন জামায়াত আমির।

তিনি বলেন, ইসলামী ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট আলেম ও স্কলারদের নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করে সংসদের সামনে উপস্থাপন করতে পারে। স্থায়ী কমিটি এ সুযোগ গ্রহণ করলে সম্ভাব্য বিপর্যয় এবং ‘আল্লাহর আইনের খেলাফ’ থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।