মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ আগ্রাসন থেকে যুব সমাজকে রক্ষার দাবিতে অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলন। শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
শামীম রেজার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাছির। সভাপতির বক্তব্যে শেখ নাছির বলেন, বর্তমানে দেশে মাদকদ্রব্যের বিস্তার যুব সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিক্ষিত যুবকরা লেখাপড়া শেষ করেও কর্মসংস্থান না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়ছেন। পরিবারের সহযোগিতা করতে না পেরে অনেকেই নেশা ও বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়া ও সহযোগিতায় অনেক তরুণ নেশার জগতে জড়িয়ে পড়ছে। নেশাগ্রস্ত এই যুব সমাজকে সমাজের বড় বড় অপরাধী ও ক্ষমতালিপ্সু গডফাদাররা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করছে। শেখ নাছির বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের নেশাগ্রস্ত করে একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে এবং কালো টাকার পাহাড় গড়ে তুলছে। এতে আমাদের সন্তানরা তিলে তিলে শেষ হচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে পরিবার।
’ তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে রাষ্ট্র, যুব সমাজ ও অসংখ্য পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, কোনোভাবেই যেন শহর, গ্রাম, পাড়া-মহল্লায় মাদক বিক্রি হতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। মাদক কোথা থেকে আসে এবং কীভাবে বিক্রি হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা জানে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে।
পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ যেন মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত না থাকে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। শেখ নাছির সরকার ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংসদে কঠোর আইন প্রণয়ন করে মাদকসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশকে মায়ের মতো ভালোবেসে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুন, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সদস্য বাবর চৌধুরী, নর্থ বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিলের প্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিকাশ, নাগরিক যুব ঐক্যের সদস্য শামীম রেজা, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সদস্য রাশেদুর রহমান রতন, হানিফ বাংলাদেশি ও আব্দুর রহমান।



















