টানা তিন দিন ধরে গ্যাস সংকটে ভুগছে কুমিল্লা নগরীর অধিকাংশ এলাকার মানুষ। কোথাও স্বল্পচাপ, আবার কোথাও একেবারেই গ্যাস নেই। এতে রান্নাবান্না নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়ছে খরচ ও ভোগান্তি।
একইসঙ্গে চাপ বেড়েছে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতে। তবে কবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তা জানাতে পারেনি বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)। নগরীর দক্ষিণ চর্থা এলাকার বাসিন্দা সুমন সরকার জানান, ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাদের বাসায় গ্যাস নেই। গ্যাস না থাকায় হোটেল থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তবে সংকটের কারণে অনেক হোটেলেও খাবার মিলছে না।
টমছমব্রিজ এলাকার ব্যাংকার রুপ মিয়া বলেন, গত দুইদিন হোটেল থেকে খাবার এনে খেয়েছেন। কিন্তু আজ সেটিও সম্ভব হয়নি। গ্যাস সংকটে নগরজীবন অনেকটাই অচল হয়ে পড়েছে। চকবাজার এলাকার গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার বলেন, গ্যাস না থাকায় গতকাল ইলেকট্রিক চুলায় কোনো রকম রান্না করে খেয়েছেন। আজ আবার বিদ্যুৎও নেই। বাধ্য হয়ে বাড়ির পাশে চুলা বানিয়ে রান্না করছেন।
তার প্রশ্ন, এভাবে কি চলা যায়? এদিকে গ্যাস সংকটের কারণে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতেও বেড়েছে ক্রেতার চাপ। একটি খাবার হোটেলের ম্যানেজার সোহেল রহমান জানান, এত কাস্টমার সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাত, রুটি থেকে শুরু করে বেকারির বিস্কুট পর্যন্ত বিক্রি করে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তারা।
গ্যাস সংকটের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকাতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
বিজিডিসিএলের আওতাধীন কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতেও এর প্রভাব পড়েছে। সাময়িক গ্যাস সংকটের জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সহযোগিতা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ। গ্যাস সরবরাহ ও অভিযোগের বিষয়ে ১৬৫১৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। তবে স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন রান্নার দায়িত্বে থাকা মানুষজন।
অনেকেই বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ ও বিড়ম্বনায় পড়ছেন। দ্রুত এ সংকটের সমাধান দাবি করেছেন তারা। ছুটি দিন শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীর কোথাও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেডের ডিজিএম (সেলস) জাহাঙ্গীর বাদশার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তার কাছে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
এ বিষয়ে মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সোলায়মান ভালো বলতে পারবেন। পরে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. সোলায়মান জানান, গ্যাস সরবরাহ কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, এ মুহূর্তে তিনি তা বলতে পারছেন না। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আপাতত গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কোনো সুখবর নেই। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, তাও বলা যাচ্ছে না।


















