10:55 pm, Tuesday, 11 August 2026

শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে না পারলে শিক্ষাখাত নাজুক হবে: গবেষকেরা

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:59:05 pm, Tuesday, 11 August 2026
  • 1

শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে না পারলে শিক্ষাখাত নাজুক হবে: গবেষকেরা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

প্রায় দুই দশকের মধ্যে এসএসসিতে সবচেয়ে খারাপ ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অভ্যাস কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন শিক্ষা গবেষকেরা। একই সঙ্গে, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে দায়িত্বপ্রাপ্তদের আরও সজাগ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে না পারলে শিক্ষাখাত নাজুক হবে বলেও আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।

এবার এএসসিতে ১৮ লাখ ২৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছে প্রায় ৭ লাখ। গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। প্রতিবছরই পাবলিক পরীক্ষার পর ফলাফল নিয়ে নানামুখী মূল্যায়ন হয়। এবার এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন শিক্ষা গবেষকরা।

শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে কম সময় দেয়াই ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ, বলছেন শিক্ষা গবেষকরা। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের আরো সজাগ দৃষ্টির আহ্বান তাদের।

শিক্ষা গবেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘এর কারণ আসলে কী? শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বিমুখ হয়ে রাজ পথে চলে আসছে, নাকি আমাদের শিক্ষকদের ব্যর্থতা তাদের শেখাতে পারছে না, নাকি কোচিং নির্ভর মুখস্থ বিদ্যার বাইরের কিছু প্রশ্ন এসেছে, সে কারণে তারা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারছে না। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিকভাবে যদি পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে না পারি, তাহলে আমাদের শিক্ষা সেক্টরটা বড় নাজুক হয়ে পড়বে।’

এ বছর এসএসসিতে অংশ নেওয়া ১৮ লাখ ২৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছে প্রায় ৭ লাখ। গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা শেষ ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এসএসসি পরীক্ষায় ২০২৫ সালে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ০২০২৪ সালে পাসের হার ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ, ২০২৩ সালে পাসের হার ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও এবার শেষ ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। ২০২২ সালে যা ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন।

এ বছর এসএসসিতে ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে ৬৬৯টি স্কুলে। আর শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১২টি।

অবশ্য শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, ইচ্ছেমতো নম্বর বেশি দেওয়া নয়, প্রকৃত মূল্যায়নেই এবারের ফলাফল।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘যখন যে যা পড়ে এবং তার উত্তর ও সেই পরিমাণ নাম্বার পায় সেই জন্য সে সন্তুষ্ট। কেউ না পড়ে নাম্বার বাড়িয়ে দিলে শিক্ষামন্ত্রী সন্তুষ্ট হয় না।’

এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। ২০ জুলাই ফল দেওয়ার কথা থাকলেও ফল প্রকাশ হয় প্রায় ৩ সপ্তাহ পর।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

ভীতি বাড়াচ্ছে করোনাভাইরাস: তাইওয়ানে এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে না পারলে শিক্ষাখাত নাজুক হবে: গবেষকেরা

Update Time : 09:59:05 pm, Tuesday, 11 August 2026

প্রায় দুই দশকের মধ্যে এসএসসিতে সবচেয়ে খারাপ ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অভ্যাস কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন শিক্ষা গবেষকেরা। একই সঙ্গে, পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে দায়িত্বপ্রাপ্তদের আরও সজাগ দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফেরাতে না পারলে শিক্ষাখাত নাজুক হবে বলেও আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।

এবার এএসসিতে ১৮ লাখ ২৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছে প্রায় ৭ লাখ। গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। প্রতিবছরই পাবলিক পরীক্ষার পর ফলাফল নিয়ে নানামুখী মূল্যায়ন হয়। এবার এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফলের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছেন শিক্ষা গবেষকরা।

শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে কম সময় দেয়াই ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ, বলছেন শিক্ষা গবেষকরা। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের আরো সজাগ দৃষ্টির আহ্বান তাদের।

শিক্ষা গবেষক কর্নেল (অব.) কাজী শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘এর কারণ আসলে কী? শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বিমুখ হয়ে রাজ পথে চলে আসছে, নাকি আমাদের শিক্ষকদের ব্যর্থতা তাদের শেখাতে পারছে না, নাকি কোচিং নির্ভর মুখস্থ বিদ্যার বাইরের কিছু প্রশ্ন এসেছে, সে কারণে তারা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারছে না। আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিকভাবে যদি পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে না পারি, তাহলে আমাদের শিক্ষা সেক্টরটা বড় নাজুক হয়ে পড়বে।’

এ বছর এসএসসিতে অংশ নেওয়া ১৮ লাখ ২৯ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছে প্রায় ৭ লাখ। গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা শেষ ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এসএসসি পরীক্ষায় ২০২৫ সালে পাসের হার ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ০২০২৪ সালে পাসের হার ৮৩ দশমিক ০৪ শতাংশ, ২০২৩ সালে পাসের হার ৮০ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ২০২২ সালে পাসের হার ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও এবার শেষ ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। ২০২২ সালে যা ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬০২ জন।

এ বছর এসএসসিতে ৩০ হাজার ৪০২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে ৬৬৯টি স্কুলে। আর শতভাগ ফেল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৩১২টি।

অবশ্য শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, ইচ্ছেমতো নম্বর বেশি দেওয়া নয়, প্রকৃত মূল্যায়নেই এবারের ফলাফল।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, ‘যখন যে যা পড়ে এবং তার উত্তর ও সেই পরিমাণ নাম্বার পায় সেই জন্য সে সন্তুষ্ট। কেউ না পড়ে নাম্বার বাড়িয়ে দিলে শিক্ষামন্ত্রী সন্তুষ্ট হয় না।’

এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২১ এপ্রিল। ২০ জুলাই ফল দেওয়ার কথা থাকলেও ফল প্রকাশ হয় প্রায় ৩ সপ্তাহ পর।