দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা তুঙ্গে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম জোরালোভাবে আলোচনায় থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত নয়- দাবি বিএনপির। দলটি বলছে, বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন।
এর মধ্যেই নির্বাচন ঘিরে সংসদের বিশেষ অধিবেশন বাতিল এবং গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্তে নতুন মাত্রা পেয়েছে নির্বাচন। ৩৪৯ সংসদ সদস্যের ভোটে নির্ধারিত হবে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির অধিকারী। ভোটগ্রহণে থাকবে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স। এদিকে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর সাংবিধানিক বিধানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন চিফ হুইপ।
ফলে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক সমীকরণের পাশাপাশি দলীয় আনুগত্যের পরীক্ষাও সামনে এসেছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি জানান, ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে কে প্রার্থী হচ্ছেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়নি। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে দলের ভেতরে ও স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা চলছে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে আরও কয়েক দফা বৈঠক হবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আমরা যোগ্য প্রার্থীর নাম যথাসময়ে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরব। বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি সব সময় যোগ্য এবং সর্বজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মূল্যায়ন করে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করবেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ভোট আয়োজনে বিশেষ অধিবেশন নয়, বৈঠক ডাকবে নির্বাচন কমিশন বলেও জানান নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের নিজ দলের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার স্বাধীনতা থাকবে।
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে এমন একজনকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে, যিনি দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করতে পারবেন। এ বিষয়ে দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশনাই চূড়ান্ত। এদিকে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে জানিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের ভোটগ্রহণে থাকবে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স।
ব্যালট পেপারে দুটি অংশ- বাঁ পাশে মুড়ি ও ডান পাশে ভোট। মুড়ির অংশে সংসদ সদস্যকে চারটি তথ্য পূরণ করতে হবে। আর ভোটের অংশে প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে তার পাশে সই করে ভোট দিতে হবে। আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলবে। ইসি সচিব বলেন, সংসদ সদস্যরা স্ব-স্ব আসনে বসবেন।
তাদের কাছে ব্যালট বাক্স পৌঁছে দেওয়ার পর তারা মনোনীত প্রার্থীকে সই করে তিনটি ব্যালট বাক্সে ভোট দেবেন। ব্যালট বাক্সগুলো স্বচ্ছ হবে। কারা এই নির্বাচন প্রত্যক্ষ করবেন, জানতে চাইলে আখতার আহমেদ বলেন, ‘১৯৯১ সালের পর প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে। দীর্ঘবিরতির পর এই নির্বাচন সরাসরি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ নেবে ইসি। আমরা নাম পাঠাব।
’ তিনি আরও জানান, সংসদ থেকেই সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। সংবাদকর্মীদের বসার ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। ইসি সচিবালয় থেকে ২০ জনের নাম পাঠানো হবে। ইসি সচিবালয় থেকে ব্যালট ছাপানো হবে বলেও জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, ‘ব্যালট পেপারে দুটো অংশ- একটা মুড়ি ও আরেকটা হচ্ছে ভোট। মুড়িতে চারটা তথ্য থাকবে। ব্যালটের ক্রমিক নম্বর, ভোটদাতার নাম, বিভক্তি নম্বর, তারপর একটা স্পেস থাকে, যেখানে সই করে ব্যালটটা নিতে হবে।
’ ব্যালটের ডান পাশের অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম উল্লেখ থাকবে জানিয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নামের পাশে স্পেস দেওয়া থাকবে। সেই স্পেসে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন সংসদ সদস্যরা। ’ ভোটের দিন অধিবেশনকক্ষে সিইসি কোথায় বসবেন ও সংসদ সদস্যরা কোথায় বসবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা তাদের নির্দিষ্ট সিটে বসবেন।
আর সিইসির বসার জায়গা সংসদ সচিবালয় থেকে নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। রাষ্ট্রপতির নির্বাচনে কোনো সংসদ সদস্য বিপক্ষ দলের প্রার্থীকে ভোট দিলে তা ফ্লোর ক্রসিং হবে কি না ও সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, ‘এটা নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত না, এটা রাজনৈতিক প্রশ্ন। আপনি রাজনৈতিক নেতাদের কাছে এই প্রশ্ন করেন।
’ গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা ও ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করে ইসি। ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া হবে। ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হবে এবং তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে। প্রার্থীরা ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করতে পারবেন।
গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ১৯৯১ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হয়। আইন অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা।


















