আজ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

৩৫ বছর পর জমে উঠেছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:07:51 pm, Sunday, 9 August 2026
  • 58

৩৫ বছর পর জমে উঠেছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচন ঘিরে তিন দশকের বেশি সময় পর জমে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াই। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন দেখেছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটেছে ৩৫ বছর।

এবার ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই পুরোনো দৃশ্যপট ফিরেছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে। সরকারপক্ষের পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল জামায়াত জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এদিকে বিএনপি দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও সূত্র বলছে, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামই হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় সরকারি দলের হিসাব-নিকাশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তুঙ্গে।

১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর বাংলাদেশে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পর প্রথম ও একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তৎকালীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। সংবিধানে প্রকাশ্য ভোটদান ও দলীয় শৃঙ্খলার বিধান (যেমন অনুচ্ছেদ ৭০) থাকায় বিরোধী দলের প্রার্থীর জয়ী হওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না, যার ফলে পরবর্তীতে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিল এবং ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। ভোট গ্রহণের আগে ডাকা হবে বিশেষ অধিবেশনও। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে শূন্য হওয়া পদে কে বসছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। যদিও বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। তবে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়ায়, আলোচনায় রয়েছে বিএনপির প্রবীণ দুই নেতার নাম। এই দুই নেতা হলেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান।

বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নাম চূড়ান্ত করার বিষয়ে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এমন কোনো বিষয় আমি জানি না। ব্যাপারটি আমার নলেজে নেই। ’ এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। ইসি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

কারণ, একটি মনোনয়নপত্রে কোনো ভুল–ত্রুটি থাকলে যাতে অন্যটি বিবেচনায় নেওয়া যায়। সদ্যোবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচনের সময়ও এমনটা করা হয়েছিল। অন্যদিকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জোটের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।

জোটের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, আমি সমগ্র জাতির কাছে কৃতজ্ঞ। ১১-দলীয় ঐক্যজোটের সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের সব নেতাকর্মীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা বলতে চাই, এই জাতির সঙ্গে আমরা কখনো বেইমানি করব না। কর্নেল (অব.) অলি বলেন, ‘আমরা হারব না জিতব, এটা প্রশ্ন না।

প্রশ্নটা হচ্ছে, আমরা জনগণের পাশে সব সময় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দাঁড়াব। আজকেও সেই মন-মানসিকতা নিয়ে আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি। সর্বসম্মতিক্রমে ওনারা আমার নাম প্রস্তাব করেছেন। আমি সমগ্র জাতিকে ধন্যবাদ জানাই। ’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরীক্ষিত একজন লোক, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নেই।

সুন্দরভাবে জীবনযাপন করেছি, বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। ’ ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। এই নির্বাচনে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোট দেবেন। ইসির তপশিল অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের তারিখ ২০ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে সেদিন বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। আর ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরকারি দলের দেওয়া একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। এ ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে বলা আছে, তপশিলে নির্ধারিত দিনে নির্বাচনি কর্তা মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করবেন।

পরীক্ষার পর মাত্র একজনের মনোনয়নপত্র বৈধ থাকলে তাকে নির্বাচিত বলে ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। সে হিসেবে যদি একক প্রার্থী থাকে, তাহলে ১৬ আগস্টই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।

এদিকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে। জানা যায়, আগামী ২০ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনের ঠিক দু-এক দিন আগে অধিবেশন আহ্বান করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। ৩৫ বছর বয়সি বাংলাদেশি নাগরিক ও সংসদের দুই সদস্যের সমর্থন থাকলেই ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে কোনো মনোনয়ন ফি দিতে হয় না। সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

গাজীপুরে থাপ্পড়কাণ্ড: হুমকি ও মামলার মুখে পরিবারসহ ‘আত্মগোপনে’ বডি বিল্ডার রুমি

৩৫ বছর পর জমে উঠেছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

Update Time : 11:07:51 pm, Sunday, 9 August 2026

দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচন ঘিরে তিন দশকের বেশি সময় পর জমে উঠেছে রাজনৈতিক লড়াই। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন দেখেছিল বাংলাদেশ। এরপর কেটেছে ৩৫ বছর।

এবার ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সেই পুরোনো দৃশ্যপট ফিরেছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে। সরকারপক্ষের পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল জামায়াত জোট কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এদিকে বিএনপি দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও সূত্র বলছে, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলামই হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় সরকারি দলের হিসাব-নিকাশ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল তুঙ্গে।

১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর বাংলাদেশে সংসদীয় ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পর প্রথম ও একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তৎকালীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট। সংবিধানে প্রকাশ্য ভোটদান ও দলীয় শৃঙ্খলার বিধান (যেমন অনুচ্ছেদ ৭০) থাকায় বিরোধী দলের প্রার্থীর জয়ী হওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না, যার ফলে পরবর্তীতে আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিল এবং ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। ভোট গ্রহণের আগে ডাকা হবে বিশেষ অধিবেশনও। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগে শূন্য হওয়া পদে কে বসছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। যদিও বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানা যায়। তবে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়ায়, আলোচনায় রয়েছে বিএনপির প্রবীণ দুই নেতার নাম। এই দুই নেতা হলেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান।

বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নাম চূড়ান্ত করার বিষয়ে ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এমন কোনো বিষয় আমি জানি না। ব্যাপারটি আমার নলেজে নেই। ’ এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। ইসি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

কারণ, একটি মনোনয়নপত্রে কোনো ভুল–ত্রুটি থাকলে যাতে অন্যটি বিবেচনায় নেওয়া যায়। সদ্যোবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের নির্বাচনের সময়ও এমনটা করা হয়েছিল। অন্যদিকে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য জোটের প্রার্থী হিসেবে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম চূড়ান্ত করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য।

জোটের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, আমি সমগ্র জাতির কাছে কৃতজ্ঞ। ১১-দলীয় ঐক্যজোটের সবার কাছে কৃতজ্ঞ। আমাদের সব নেতাকর্মীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা বলতে চাই, এই জাতির সঙ্গে আমরা কখনো বেইমানি করব না। কর্নেল (অব.) অলি বলেন, ‘আমরা হারব না জিতব, এটা প্রশ্ন না।

প্রশ্নটা হচ্ছে, আমরা জনগণের পাশে সব সময় তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দাঁড়াব। আজকেও সেই মন-মানসিকতা নিয়ে আমরা সবাই একত্রিত হয়েছি। সর্বসম্মতিক্রমে ওনারা আমার নাম প্রস্তাব করেছেন। আমি সমগ্র জাতিকে ধন্যবাদ জানাই। ’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরীক্ষিত একজন লোক, যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ নেই, শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো অভিযোগ নেই।

সুন্দরভাবে জীবনযাপন করেছি, বিধায় সবাই সর্বসম্মতিক্রমে আমার নাম প্রস্তাব করেছে। ’ ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। এই নির্বাচনে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোট দেবেন। ইসির তপশিল অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের তারিখ ২০ আগস্ট। একাধিক প্রার্থী থাকলে সেদিন বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশনকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে নির্বাচনি কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ১৬ আগস্ট।

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৮ আগস্ট। আর ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরকারি দলের দেওয়া একক প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হন। এ ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে বলা আছে, তপশিলে নির্ধারিত দিনে নির্বাচনি কর্তা মনোনয়নপত্র পরীক্ষা করবেন।

পরীক্ষার পর মাত্র একজনের মনোনয়নপত্র বৈধ থাকলে তাকে নির্বাচিত বলে ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। সে হিসেবে যদি একক প্রার্থী থাকে, তাহলে ১৬ আগস্টই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে পারেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।

এদিকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করা হবে। জানা যায়, আগামী ২০ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনের ঠিক দু-এক দিন আগে অধিবেশন আহ্বান করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। ৩৫ বছর বয়সি বাংলাদেশি নাগরিক ও সংসদের দুই সদস্যের সমর্থন থাকলেই ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করা যাবে।

রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে কোনো মনোনয়ন ফি দিতে হয় না। সংবিধানের ৪৮(৪) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থিতার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।