ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন পটিয়ার সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এনামুল হক এনাম।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবেন। সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুর বিভেদ নয়, বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ঐক্যই হবে আমাদের শক্তি। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উনাইনপুরায় ‘মৈত্রী ও সম্প্রীতির আলোয় কেটে যাক সব অন্ধকার’ স্লোগানে আয়োজিত শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসব ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনও করেন তিনি। সভাপতিত্ব করেন ভদন্ত রতনানন্দ থের। বক্তব্যে এনামুল হক এনাম বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে বসবাস করাই বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও অন্যতম শক্তি। কোনো ধর্মের মানুষ যেন নিজেদের অবহেলিত কিংবা অসহায় মনে না করেন, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য, ভ্রাতৃত্ব ও পারস্পরিক বিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে।
তাই ধর্মীয় পরিচয়কে বিভেদের কারণ না বানিয়ে এসব উৎসবকে সম্প্রীতি ও ঐক্যের বন্ধন আরও দৃঢ় করার উপলক্ষ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। শান্তি বজায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব খোরশেদ আলম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শফিকুল ইসলাম শফিক, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ বখতিয়ার উদ্দিন বকুল, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, দক্ষিণ জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক নাজমুল হোসেন, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার যুগ্ম সম্পাদক তাপস কুমার দে এবং শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মাস্টার শ্যামল কান্তি দে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। প্রবারণা পূর্ণিমা ও ফানুস উৎসবকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধনের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।






















