জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব শেষ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেছেন, মেলা থেকে সংগ্রহ করা প্রতিটি চারা সঠিকভাবে রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে।
পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, তরুণ ও যুব সংগঠনসহ সমাজের সব স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই অর্জন করা সম্ভব হবে। রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনের হৈমন্তী মিলনায়তনে জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলা শুধু চারা ক্রয়-বিক্রয়ের আয়োজন ছিল না; এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততার একটি জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত মেলা প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাফল্য অর্জন করেছে।
তিনি জানান, গত ৯ জুলাই জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়। পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে সরকারের কার্যক্রম ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পর্যায়ে প্রবেশ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ এবং নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এর মধ্যে প্রথম বছরেই পাঁচ কোটি চারা রোপণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বন অধিদপ্তর একাই ৩ দশমিক ৫ কোটি চারা রোপণ করবে। তিনি আরও জানান, যুবসমাজ, নারী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে এ কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, এবারের জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ৭৪টি নার্সারি অংশ নেয়। মাসব্যাপী মেলায় প্রায় ১৬ লাখ গাছের চারা বিক্রি হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা। এ বিপুল বিক্রি প্রমাণ করে দেশের মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং নার্সারি খাত ও বৃক্ষভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনাও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজী রওনাকুল ইসলাম।
সভাপতিত্ব করেন মো. আমীর হোসেন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৫-এর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখা ব্যক্তি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী এবং জাতীয় বৃক্ষমেলা ২০২৬-এর নির্বাচিত স্টলমালিকদের মধ্যে পুরস্কার ও সনদ বিতরণ করা হয়। এ সময় বন অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী, নার্সারি মালিক, পরিবেশ ও বন খাতের অংশীজন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




















