5:10 am, Friday, 31 July 2026

একীভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনে বড় ছাড় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:16:29 am, Thursday, 30 July 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য অর্থ উত্তোলনের নিয়ম আরও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে। বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ সুবিধা পাবেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের গ্রাহকরা। এ পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আগে ঘোষিত অর্থ ফেরত দেওয়ার স্কিমে কেবল গ্রাহকের নিজের চিকিৎসার জন্য অর্থ উত্তোলনের সুযোগ ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মা-বাবা, সন্তান, ভাই-বোন ও স্বামী-স্ত্রীর চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও এ অর্থ তোলা যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, অনেক গ্রাহকের চিকিৎসার বাইরে বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে অর্থের প্রয়োজন হয়। কারও পরিবারের সদস্যের চিকিৎসা, কারও মেয়ের বিয়ে কিংবা অন্য জরুরি পারিবারিক প্রয়োজন থাকলেও আগের স্কিমে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ ছিল না। সংশোধিত স্কিমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এছাড়া আমানত বিমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার মাধ্যমে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত পরিশোধ করা হচ্ছে। এ তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার গ্রাহককে মোট ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক পেয়েছেন প্রায় এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বর শেষে পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি ছিল এক লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে জামানতের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বর্তমানে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি চারটি ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। ব্যাপক অনিয়ম ও জামানতবিহীন ঋণ বিতরণের কারণে ব্যাংকগুলো আর্থিক সংকটে পড়ে। পরে অন্তর্বর্তী সরকার পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

একীভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলনে বড় ছাড় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

Update Time : 02:16:29 am, Thursday, 30 July 2026

একীভূত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য অর্থ উত্তোলনের নিয়ম আরও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে নিজের চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা এবং অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করা যাবে। বুধবার (২৯ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ সুবিধা পাবেন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংকের গ্রাহকরা। এ পাঁচটি ব্যাংক একীভূত হয়ে বর্তমানে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আগে ঘোষিত অর্থ ফেরত দেওয়ার স্কিমে কেবল গ্রাহকের নিজের চিকিৎসার জন্য অর্থ উত্তোলনের সুযোগ ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মা-বাবা, সন্তান, ভাই-বোন ও স্বামী-স্ত্রীর চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনেও এ অর্থ তোলা যাবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, অনেক গ্রাহকের চিকিৎসার বাইরে বিভিন্ন জরুরি প্রয়োজনে অর্থের প্রয়োজন হয়। কারও পরিবারের সদস্যের চিকিৎসা, কারও মেয়ের বিয়ে কিংবা অন্য জরুরি পারিবারিক প্রয়োজন থাকলেও আগের স্কিমে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ ছিল না। সংশোধিত স্কিমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এছাড়া আমানত বিমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার মাধ্যমে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত পরিশোধ করা হচ্ছে। এ তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত ৮ লাখ ২২ হাজার গ্রাহককে মোট ৩ হাজার ৮৮৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ৩ লাখ ৫০ হাজার গ্রাহক পেয়েছেন প্রায় এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত ডিসেম্বর শেষে পাঁচ ব্যাংকের মোট ঋণের স্থিতি ছিল এক লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে জামানতের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪৭ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৪ দশমিক ৫৬ শতাংশ। বর্তমানে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৭০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৮৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি চারটি ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে। ব্যাপক অনিয়ম ও জামানতবিহীন ঋণ বিতরণের কারণে ব্যাংকগুলো আর্থিক সংকটে পড়ে। পরে অন্তর্বর্তী সরকার পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে।