1:33 am, Thursday, 30 July 2026

তানোরে তিন বছরেও শেষ হয়নি চাপড়া সেতুর নির্মাণকাজ

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:08:57 am, Thursday, 30 July 2026
  • 2
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজশাহীর তানোরে এক বছরের মধ্যে সেতু নির্মাণের কথা থাকলেও নানা অজুহাতে তিন বছর অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। মূল সড়কের সেতু নির্মাণ না হওয়ায় পার্শ্ববর্তী চলাচলের আরেকটি সেতু ও রাস্তা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। উপজেলা গেট থেকে চৌবাড়িয়া সড়কের চাপড়া সেতুতে ঘটেছে এমন ঘটনা। দীর্ঘ তিন বছর ফেলে রাখার কারণে মূল সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের উদাসীনতায় কাজ হচ্ছে না। অথচ একই সঙ্গে টেন্ডার হওয়া লবিয়তলা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। উদ্বোধনের পর দেদারসে যানবাহন চলাচল করছে। শুধু যানবাহনই নয়, লবিয়তলা সেতু এখন বিনোদনেরও খোরাক জোগাচ্ছে। অথচ চাপড়া সেতুর কোনো দৃশ্যমান কাজ তো হয়নি, উল্টো আরও দেড় বছর সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেতু নির্মাণ না হওয়ায় সড়ক ও পুরোনো সেতুটি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে উপায় না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের ২৫ মে সেতুর কার্যাদেশ পায় জামালপুর জেলার চন্দ্রাহাট এলাকার এমসিই ও এমএই জেভি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২৭ দশমিক ৫৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি ৩৭১ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৩০ মে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু ঠিকাদার ও এলজিইডির অবহেলার কারণে তিন বছর অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ ৯২ হাজার ৫০৮ টাকা। সরেজমিনে দেখা যায়, তানোর উপজেলা পরিষদের গেট থেকে চৌবাড়িয়া সড়কের পৌর এলাকার চাপড়া বাজার পার হয়ে দুটি সেতু রয়েছে। পুরোনো সেতুর পূর্ব দিকে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ চলমান। পুরোনো সেতু ও সড়কের পূর্ব দিকের দুই পাশে ভয়ংকর গর্ত হয়ে আছে। নতুন সেতুর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে দুটি পিলার তোলা হয়েছে। মাঝখানে আরও দুটি পিলারে প্রায় এক বছর ধরে শাটারিং দেওয়া রয়েছে। শাটারিংগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে করা হয়েছে। অথচ এখানে জ্যাক পাইপ ও লোহার পাইপ ব্যবহারের নিয়ম। সম্প্রতি কয়েক দিন ধরে দুই-তিনজন মিস্ত্রি কাজ করছেন। বর্তমানে নির্মাণাধীন সেতুর নিচে পানি রয়েছে। বৃষ্টির পানি হলেই সেতুর নিচ দিয়ে স্রোত যায়। আবার বৃষ্টির পানির মধ্যেই পিলারে ছোট ঢালাইয়ের কাজ করতেও দেখা যায়। কাজ করা এক ব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া হয়, কাজ শেষ হবে কবে এবং এতদিন বন্ধ ছিল কেন। তিনি জানান, এসব বিষয়ে কিছুই বলতে পারবেন না। পাঁচজন কাজ করছিলেন। তিনজন চলে গেছেন। এখন দুজন কাজ করছেন। দেড় বছর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তাহলে বুঝেই নিন, তিন বছরে নির্মাণ হয়নি, আবার দেড় বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে সেতু নির্মাণ কবে শেষ হবে, তা বলতে পারবেন না। কিন্তু সেতু নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই রাস্তা শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গর্তে বালুর বস্তা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যে কোনো সময় চলন্ত গাড়ি গর্তে পড়ে যেতে পারে, নচেৎ রাস্তা বা সেতু ভেঙে যেতে পারে। ভেকু মেশিনের দরকার হলেও পাওয়া যাচ্ছে না। অফিসের লোকজন ও ঠিকাদারকে বলেও কোনো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয়রা জানান, লবিয়তলা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। উদ্বোধনও হয়েছে, দেদারসে যানবাহন চলাচল করছে। পুরোনো ও নতুন সেতু দেখতে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিনোদনপ্রেমীরা আসছেন। ওই সেতু বা জায়গার নাম দেওয়া হয়েছে ‘১৫০ ফিট’। অথচ চাপড়া সেতুর কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি। যানবাহনের চালকরা জানান, দিন দিন পুরোনো সেতুর পূর্ব দিকের দুই পাশের গর্ত বেড়েই চলেছে। গর্তের কারণে সেখানে গাড়ি থামিয়ে সাবধানে পার হতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ

তানোরে তিন বছরেও শেষ হয়নি চাপড়া সেতুর নির্মাণকাজ

Update Time : 12:08:57 am, Thursday, 30 July 2026

রাজশাহীর তানোরে এক বছরের মধ্যে সেতু নির্মাণের কথা থাকলেও নানা অজুহাতে তিন বছর অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। মূল সড়কের সেতু নির্মাণ না হওয়ায় পার্শ্ববর্তী চলাচলের আরেকটি সেতু ও রাস্তা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। উপজেলা গেট থেকে চৌবাড়িয়া সড়কের চাপড়া সেতুতে ঘটেছে এমন ঘটনা। দীর্ঘ তিন বছর ফেলে রাখার কারণে মূল সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের উদাসীনতায় কাজ হচ্ছে না। অথচ একই সঙ্গে টেন্ডার হওয়া লবিয়তলা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। উদ্বোধনের পর দেদারসে যানবাহন চলাচল করছে। শুধু যানবাহনই নয়, লবিয়তলা সেতু এখন বিনোদনেরও খোরাক জোগাচ্ছে। অথচ চাপড়া সেতুর কোনো দৃশ্যমান কাজ তো হয়নি, উল্টো আরও দেড় বছর সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। সেতু নির্মাণ না হওয়ায় সড়ক ও পুরোনো সেতুটি চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ফলে উপায় না পেয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের ২৫ মে সেতুর কার্যাদেশ পায় জামালপুর জেলার চন্দ্রাহাট এলাকার এমসিই ও এমএই জেভি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২৭ দশমিক ৫৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি ৩৭১ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৩০ মে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু ঠিকাদার ও এলজিইডির অবহেলার কারণে তিন বছর অতিবাহিত হলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩২ লাখ ৯২ হাজার ৫০৮ টাকা। সরেজমিনে দেখা যায়, তানোর উপজেলা পরিষদের গেট থেকে চৌবাড়িয়া সড়কের পৌর এলাকার চাপড়া বাজার পার হয়ে দুটি সেতু রয়েছে। পুরোনো সেতুর পূর্ব দিকে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ চলমান। পুরোনো সেতু ও সড়কের পূর্ব দিকের দুই পাশে ভয়ংকর গর্ত হয়ে আছে। নতুন সেতুর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে দুটি পিলার তোলা হয়েছে। মাঝখানে আরও দুটি পিলারে প্রায় এক বছর ধরে শাটারিং দেওয়া রয়েছে। শাটারিংগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে করা হয়েছে। অথচ এখানে জ্যাক পাইপ ও লোহার পাইপ ব্যবহারের নিয়ম। সম্প্রতি কয়েক দিন ধরে দুই-তিনজন মিস্ত্রি কাজ করছেন। বর্তমানে নির্মাণাধীন সেতুর নিচে পানি রয়েছে। বৃষ্টির পানি হলেই সেতুর নিচ দিয়ে স্রোত যায়। আবার বৃষ্টির পানির মধ্যেই পিলারে ছোট ঢালাইয়ের কাজ করতেও দেখা যায়। কাজ করা এক ব্যক্তির কাছে জানতে চাওয়া হয়, কাজ শেষ হবে কবে এবং এতদিন বন্ধ ছিল কেন। তিনি জানান, এসব বিষয়ে কিছুই বলতে পারবেন না। পাঁচজন কাজ করছিলেন। তিনজন চলে গেছেন। এখন দুজন কাজ করছেন। দেড় বছর প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তাহলে বুঝেই নিন, তিন বছরে নির্মাণ হয়নি, আবার দেড় বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে সেতু নির্মাণ কবে শেষ হবে, তা বলতে পারবেন না। কিন্তু সেতু নির্মাণ শেষ হওয়ার আগেই রাস্তা শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গর্তে বালুর বস্তা দিয়ে আটকানোর চেষ্টা করা হয়েছে। যে কোনো সময় চলন্ত গাড়ি গর্তে পড়ে যেতে পারে, নচেৎ রাস্তা বা সেতু ভেঙে যেতে পারে। ভেকু মেশিনের দরকার হলেও পাওয়া যাচ্ছে না। অফিসের লোকজন ও ঠিকাদারকে বলেও কোনো গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয়রা জানান, লবিয়তলা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। উদ্বোধনও হয়েছে, দেদারসে যানবাহন চলাচল করছে। পুরোনো ও নতুন সেতু দেখতে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন এলাকা থেকে বিনোদনপ্রেমীরা আসছেন। ওই সেতু বা জায়গার নাম দেওয়া হয়েছে ‘১৫০ ফিট’। অথচ চাপড়া সেতুর কোনো দৃশ্যমান কাজ হয়নি। যানবাহনের চালকরা জানান, দিন দিন পুরোনো সেতুর পূর্ব দিকের দুই পাশের গর্ত বেড়েই চলেছে। গর্তের কারণে সেখানে গাড়ি থামিয়ে সাবধানে পার হতে হবে।