1:34 am, Thursday, 30 July 2026

নির্বাচন অফিসে অতিরিক্ত কাগজপত্রের চাপ, হয়রানির অভিযোগ

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:26:19 am, Thursday, 30 July 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)-সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সরকারি গেজেটে বাধ্যতামূলক নয়—এমন অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে। এসব কাগজপত্র জমা না দিলে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে সেবাপ্রার্থী, জনপ্রতিনিধি এবং নির্বাচন অফিস-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ২২ দফার একটি নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের অন্তত নয় ধরনের কাগজপত্র সংগ্রহ করে আনতে বলা হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই গেজেটের বাইরে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেবাপ্রার্থীদের ভাষ্য, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের মা-বাবার এনআইডি নেই, যারা দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন অথবা যাদের অভিভাবক মৃত—তাদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠছে। আশিক নামের এক আবেদনকারী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও বারবার নতুন কাগজপত্র আনতে বলা হচ্ছে। একটি সাধারণ কাজ সম্পন্ন করতে একাধিকবার অফিসে যেতে হচ্ছে। অপর এক ভুক্তভোগী নাহিদা আক্তার বলেন, আমার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র নেই। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের গেজেটে এটি বাধ্যতামূলক নয়। তারপরও আমাকে এই কাগজ জমা দিতে বলা হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাইফুল ইসলামের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী নাগরিক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সচেতন মহল নির্বাচন কমিশন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভোটার নিবন্ধনের মতো মৌলিক নাগরিক সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে নিশ্চিত করা জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

যশোর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ

নির্বাচন অফিসে অতিরিক্ত কাগজপত্রের চাপ, হয়রানির অভিযোগ

Update Time : 12:26:19 am, Thursday, 30 July 2026

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)-সংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সরকারি গেজেটে বাধ্যতামূলক নয়—এমন অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে। এসব কাগজপত্র জমা না দিলে আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। সরেজমিনে সেবাপ্রার্থী, জনপ্রতিনিধি এবং নির্বাচন অফিস-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলা নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটার নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ২২ দফার একটি নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের অন্তত নয় ধরনের কাগজপত্র সংগ্রহ করে আনতে বলা হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রেই গেজেটের বাইরে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেবাপ্রার্থীদের ভাষ্য, ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যাদের মা-বাবার এনআইডি নেই, যারা দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন অথবা যাদের অভিভাবক মৃত—তাদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠছে। আশিক নামের এক আবেদনকারী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও বারবার নতুন কাগজপত্র আনতে বলা হচ্ছে। একটি সাধারণ কাজ সম্পন্ন করতে একাধিকবার অফিসে যেতে হচ্ছে। অপর এক ভুক্তভোগী নাহিদা আক্তার বলেন, আমার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র নেই। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের গেজেটে এটি বাধ্যতামূলক নয়। তারপরও আমাকে এই কাগজ জমা দিতে বলা হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে, আনোয়ারা উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাইফুল ইসলামের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী নাগরিক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সচেতন মহল নির্বাচন কমিশন, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভোটার নিবন্ধনের মতো মৌলিক নাগরিক সেবা সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্তভাবে নিশ্চিত করা জরুরি।