আজ রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

গোপালগঞ্জে দীপাবলি উৎসবে হাজার হাজার মোমবাতি প্রজ্বলন

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:55:01 pm, Sunday, 8 November 2026
  • 22

গোপালগঞ্জে দীপাবলি উৎসবে হাজার হাজার মোমবাতি প্রজ্বলন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পৃথিবীর সব মানুষের মনের অন্ধকার দূর হয়ে জীবন ভরে উঠুক আলোয়—এমন মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক প্রত্যয় নিয়ে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে উদযাপিত হয়েছে দীপাবলি উৎসব। হাজার হাজার মোমবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে একটি বিদ্যালয়ের মাঠ।

আলো হাতে শত শত তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর ও আবেগঘন পরিবেশ। রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলার বহুগ্রাম গ্রামের বহুগ্রাম প্রতাপচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মাঠের চারপাশে সারিবদ্ধভাবে মোমবাতি প্রজ্বালনের পাশাপাশি পুরো মাঠজুড়েই জ্বালানো হয় হাজার হাজার মোমবাতি। তরুণ-তরুণীদের হাতে হাতে জ্বলে ওঠা মোমবাতির আলোয় মুহূর্তেই আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।

উৎসবের আলোয় মিলনমেলায় পরিণত হয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। গত ১০ বছর ধরে স্থানীয় তরুণদের সংগঠন ‘বহুগ্রাম দীপশিখা’ এ আয়োজন করে আসছে। মূলত তরুণ সমাজের উদ্যোগে দীপাবলি উৎসব উদযাপন এবং মানুষের মধ্যে আলোর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই সংগঠনটির যাত্রা। প্রতিবছর দীপাবলির রাতে মোমবাতি প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে অন্ধকারের অবসান, মানবিকতা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির প্রত্যাশা জানানো হয়।

আয়োজকদের মতে, দীপাবলি কেবল প্রদীপ কিংবা মোমবাতি জ্বালানোর উৎসব নয়; এটি অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক। মানুষের মনের হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অমানবিকতা দূর করে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার বার্তাও বহন করে এ আয়োজন। সহকারী অধ্যাপক মিন্টু রায় বলেন, দীপাবলির মূল শিক্ষা হলো অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা।

আমরা চাই, শুধু চারপাশ নয়, প্রতিটি মানুষের হৃদয়ও আলোকিত হোক। মানুষের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর হয়ে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হোক। তরুণ সমাজের হাত ধরে এই আলোর বার্তা ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এ আয়োজন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এ ধারা অব্যাহত রাখতে পেরে আমরা আনন্দিত। দীর্ঘ এক দশকের এই আয়োজন এখন বহুগ্রামের তরুণ সমাজের একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

হাজার হাজার মোমবাতির সম্মিলিত আলোয় আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশা—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের জীবন আলোকিত হোক, দূর হোক মনের অন্ধকার, প্রতিষ্ঠিত হোক মানবিকতা ও সম্প্রীতির সমাজ এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ভিসার নথি যাচাইয়ে ডিজিটাল সিল ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে আরভিএল

গোপালগঞ্জে দীপাবলি উৎসবে হাজার হাজার মোমবাতি প্রজ্বলন

Update Time : 09:55:01 pm, Sunday, 8 November 2026

পৃথিবীর সব মানুষের মনের অন্ধকার দূর হয়ে জীবন ভরে উঠুক আলোয়—এমন মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক প্রত্যয় নিয়ে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে উদযাপিত হয়েছে দীপাবলি উৎসব। হাজার হাজার মোমবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে একটি বিদ্যালয়ের মাঠ।

আলো হাতে শত শত তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় এক মনোমুগ্ধকর ও আবেগঘন পরিবেশ। রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর উপজেলার বহুগ্রাম গ্রামের বহুগ্রাম প্রতাপচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মাঠের চারপাশে সারিবদ্ধভাবে মোমবাতি প্রজ্বালনের পাশাপাশি পুরো মাঠজুড়েই জ্বালানো হয় হাজার হাজার মোমবাতি। তরুণ-তরুণীদের হাতে হাতে জ্বলে ওঠা মোমবাতির আলোয় মুহূর্তেই আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ।

উৎসবের আলোয় মিলনমেলায় পরিণত হয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। গত ১০ বছর ধরে স্থানীয় তরুণদের সংগঠন ‘বহুগ্রাম দীপশিখা’ এ আয়োজন করে আসছে। মূলত তরুণ সমাজের উদ্যোগে দীপাবলি উৎসব উদযাপন এবং মানুষের মধ্যে আলোর বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই সংগঠনটির যাত্রা। প্রতিবছর দীপাবলির রাতে মোমবাতি প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে অন্ধকারের অবসান, মানবিকতা, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির প্রত্যাশা জানানো হয়।

আয়োজকদের মতে, দীপাবলি কেবল প্রদীপ কিংবা মোমবাতি জ্বালানোর উৎসব নয়; এটি অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক। মানুষের মনের হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অমানবিকতা দূর করে সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার বার্তাও বহন করে এ আয়োজন। সহকারী অধ্যাপক মিন্টু রায় বলেন, দীপাবলির মূল শিক্ষা হলো অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা।

আমরা চাই, শুধু চারপাশ নয়, প্রতিটি মানুষের হৃদয়ও আলোকিত হোক। মানুষের মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও বিভেদ দূর হয়ে ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হোক। তরুণ সমাজের হাত ধরে এই আলোর বার্তা ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এ আয়োজন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এ ধারা অব্যাহত রাখতে পেরে আমরা আনন্দিত। দীর্ঘ এক দশকের এই আয়োজন এখন বহুগ্রামের তরুণ সমাজের একটি ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

হাজার হাজার মোমবাতির সম্মিলিত আলোয় আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যাশা—ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের জীবন আলোকিত হোক, দূর হোক মনের অন্ধকার, প্রতিষ্ঠিত হোক মানবিকতা ও সম্প্রীতির সমাজ এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।