আজ রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
২৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২%

ভিসার নথি যাচাইয়ে ডিজিটাল সিল ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে আরভিএল

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:12:56 pm, Sunday, 8 November 2026
  • 11

ভিসার নথি যাচাইয়ে ডিজিটাল সিল ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে আরভিএল

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদনে জমা দেওয়া নথির সত্যতা দ্রুত যাচাই করতে ভিজিবল ডিজিটাল সিল বা ভিডিএস ব্যবহারের প্রস্তাব পেশ করেছে রিলিফ ভ্যালিডেশন লিমিটেড বা আরভিএল। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রযুক্তির সহায়তায় ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং শিক্ষাগত সনদের মতো জরুরি নথিপত্র মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।

রোববার রাজধানীর গুলশানে আরভিএলের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রযুক্তিটি তুলে ধরা হয়। এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, অল্পসংখ্যক ভিসা আবেদনে জাল বা যাচাই-অযোগ্য নথি জমা পড়লেও কর্মকর্তাদের প্রতিটি আবেদন বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করতে হয়। এতে সময় ও শ্রম দুটিই বেশি লাগে। ভিডিএসের মতো প্রযুক্তি নথি যাচাই এবং ভিসার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সহায়তা করতে পারে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জমা দেওয়া নথির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রকৃত শিক্ষার্থী ও কর্মপ্রত্যাশীদেরও বাড়তি যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে।

আরভিএলের উপস্থাপনা অনুযায়ী, ভিডিএস হলো ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত একটি দ্বিমাত্রিক কোড, যা কাগজের নথি ও পিডিএফ ফাইলে যুক্ত করা যায়। এর মাধ্যমে নথিটি কোন প্রতিষ্ঠান ইস্যু করেছে, এর তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে কি না এবং এটি বৈধ কি না, তা যাচাই করা সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ই-মেইল বা ফোনে যোগাযোগের প্রয়োজন হয় না।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) ভিজিবল ডিজিটাল সিল পদ্ধতির ভিত্তিতে ভিডিএস তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এবং সাক্ষ্য (সংশোধন) আইন, ২০২২-এর আওতায় এ প্রযুক্তির আইনগত স্বীকৃতি রয়েছে বলেও দাবি করেছে আরভিএল।

আরভিএল আরও জানায়, দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে ভিডিএস ব্যবহৃত হচ্ছে। ভিসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় মেডিকেল সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, বিমান টিকিট ও বিবাহসনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরভিএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ বলেন, বিদেশে জমা দেওয়া বাংলাদেশি নথির বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার এবং যাচাই-সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে তারা কাজ করছেন।

আরভিএল দিপন গ্রুপ ও জার্মান প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ভেরিডোসের যৌথ উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকারের কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজের অধীনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সার্টিফাইং অথরিটি হিসেবে কাজ করছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ভিসার নথি যাচাইয়ে ডিজিটাল সিল ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে আরভিএল

ভিসার নথি যাচাইয়ে ডিজিটাল সিল ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে আরভিএল

Update Time : 10:12:56 pm, Sunday, 8 November 2026

বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা আবেদনে জমা দেওয়া নথির সত্যতা দ্রুত যাচাই করতে ভিজিবল ডিজিটাল সিল বা ভিডিএস ব্যবহারের প্রস্তাব পেশ করেছে রিলিফ ভ্যালিডেশন লিমিটেড বা আরভিএল। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই প্রযুক্তির সহায়তায় ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং শিক্ষাগত সনদের মতো জরুরি নথিপত্র মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে।

রোববার রাজধানীর গুলশানে আরভিএলের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রযুক্তিটি তুলে ধরা হয়। এতে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জার্মান রাষ্ট্রদূত বলেন, অল্পসংখ্যক ভিসা আবেদনে জাল বা যাচাই-অযোগ্য নথি জমা পড়লেও কর্মকর্তাদের প্রতিটি আবেদন বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করতে হয়। এতে সময় ও শ্রম দুটিই বেশি লাগে। ভিডিএসের মতো প্রযুক্তি নথি যাচাই এবং ভিসার সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সহায়তা করতে পারে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জমা দেওয়া নথির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় প্রকৃত শিক্ষার্থী ও কর্মপ্রত্যাশীদেরও বাড়তি যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে।

আরভিএলের উপস্থাপনা অনুযায়ী, ভিডিএস হলো ডিজিটাল স্বাক্ষরযুক্ত একটি দ্বিমাত্রিক কোড, যা কাগজের নথি ও পিডিএফ ফাইলে যুক্ত করা যায়। এর মাধ্যমে নথিটি কোন প্রতিষ্ঠান ইস্যু করেছে, এর তথ্য পরিবর্তন করা হয়েছে কি না এবং এটি বৈধ কি না, তা যাচাই করা সম্ভব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ই-মেইল বা ফোনে যোগাযোগের প্রয়োজন হয় না।

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) ভিজিবল ডিজিটাল সিল পদ্ধতির ভিত্তিতে ভিডিএস তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, ২০০৬ এবং সাক্ষ্য (সংশোধন) আইন, ২০২২-এর আওতায় এ প্রযুক্তির আইনগত স্বীকৃতি রয়েছে বলেও দাবি করেছে আরভিএল।

আরভিএল আরও জানায়, দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে ভিডিএস ব্যবহৃত হচ্ছে। ভিসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়ায় মেডিকেল সনদ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, বিমান টিকিট ও বিবাহসনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রযুক্তিটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরভিএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদ মাহমুদ বলেন, বিদেশে জমা দেওয়া বাংলাদেশি নথির বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার এবং যাচাই-সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে তারা কাজ করছেন।

আরভিএল দিপন গ্রুপ ও জার্মান প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ভেরিডোসের যৌথ উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ সরকারের কন্ট্রোলার অব সার্টিফাইং অথরিটিজের অধীনে লাইসেন্সপ্রাপ্ত সার্টিফাইং অথরিটি হিসেবে কাজ করছে।