ঢাকার সাভারের নবীনগর-বাইশমাইল এলাকায় ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আব্দুল কাইয়ূম (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী, সন্তান ও মা-সহ আরও চারজন আহত হয়েছেন। রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল তিনটার দিকে বাইশমাইল এলাকার গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালের সামনের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ইউ-টার্নে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল কাইয়ূমের গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার হবিগঞ্জ সদর থানা এলাকায়। তিনি পরিবার নিয়ে ধামরাইয়ের ইসলামপুর এলাকায় ভাড়ায় থেকে ব্যবসা করতেন। তার স্ত্রী রুমা আক্তার ধামরাই মেডিকেলের ‘আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’-এ আয়া হিসেবে কর্মরত। হাসপাতালে নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তার নিজেই জানান, আজ বিকেলে তারা সিলেট যাওয়ার উদ্দেশে নবীনগর যাচ্ছিলেন।
এজন্য তারা পরিবারের মোট ছয়জন সদস্য ইসলামপুর থেকে একটি বড় অটোরিকশায় ওঠেন। অটোযোগে মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় গণস্বাস্থ্য মেডিকেলের সামনের ইউ-টার্নে পৌঁছালে অপর পাশ থেকে একটি দ্রুতগতিতে আসা একটি ট্রাকের সাথে আমাদের অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এর ফলে অটোতে থাকা সবাই কমবেশি গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনা ঘটার পর আমি নিজেই ফোন করে আমার বাসার এক ভাড়াটিয়া ও আমার অফিসের সহকর্মীদের বিষয়টি জানাই।
তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসা সহকর্মী বিজয় ও মেহেদী জানান, বিকেলের দিকে ফোনের মাধ্যমে দুর্ঘটনার কথা জানতে পেরে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে তাঁদের গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের চারজন ও একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিসহ মোট পাঁচজনকে সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে এখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আব্দুল কাইয়ূমকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের তিন ছেলে-মেয়ের মধ্যে অপর দুই কন্যাসন্তান ঘটনার সময় অটোরিকশায় থাকলেও গুরুতর আঘাত পায়নি; প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের বাসায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে আহত চারজন- নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তার (৩০), ছেলে রেজাউল করিম (৮), মা চন্দ্রনা বেগম (৬৫) এবং পরিচয় না পাওয়া আনুমানিক ৫০ বছর বয়সী অপর এক ব্যক্তি সকলেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নবীনগর-বাইশমাইল এলাকা থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক পরিবারের চারজনসহ অজ্ঞাত ব্যক্তি ঢাকা মেডিকেলে আসেন। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং তার মরদেহ ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে। বাকি চারজনকে জরুরি বিভাগে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটিকে জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।






















